ওয়েব সিরিজ ‘RAY’— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে নেটফ্লিক্সের তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য – ওয়েব সিরিজ “রে”, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রচুর কথাবার্তা, লেখাঝোঁকা , আলোচনা, প্রশংসা, নিন্দা হয়ে গেছে, কাগজপত্রে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বত্র লেখা হয়েছে “রিভিউ” , দর্শকদের একাংশ যেমন এই অ্যান্থোলজি সিরিজকে পছন্দ করেছেন, আরও একাংশ তেমনই বলেছেন মায়েস্ত্রো’র প্রতি এই ট্রিবিউট মোটেই উপযুক্ত হয়নি।

সত্যজিতের চারটি গল্প অবলম্বনে চারটি মধ্যম দৈর্ঘ্যের ছবি নিয়ে তৈরি এই সিরিজের মধ্যে যে চারটি ছবি রয়েছে, তার পরিচালক তিন জন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অভিষেক চৌবে এবং ভাসান বালা। এর মধ্যে সৃজিত পরিচালনা করেছেন দু’টি। সত্যজিতের যে গল্পগুলি এখানে চিত্রায়িত হয়েছে, সেগুলি যথাক্রমে ‘বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম’, ‘বহুরূপী’, ‘বারীন ভৌমিকের ব্যারাম’ আর ‘স্পটলাইট’। “রে”-তে তাদের নাম যথাক্রমে ‘ফরগেট মি নট’, ‘বহুরূপিয়া’, ‘হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’ এবং ‘স্পটলাইট’। সিনেমায় গল্পগুলোর নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে , স্বভাবতই, তাদের গতি-প্রকৃতি , ভোল বদলেছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই। সত্যজিৎ এই গল্পগুলো যখন লিখেছিলেন, দেশে বিশ্বায়নের ঢেউ এসে আছড়ে পড়েনি, খোলা বাজারের জ্যামিতি ছুঁয়ে যায়নি আমাদের জীবন। এবং গল্পগুলো তিনি লিখেছিলেন মূলত কিশোরদের জন্যে, তাই সেইসব কাহিনিতে নারী চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেনি , ‘অ্যাড্যাল্ট ‘ কন্টেন্ট-এর কোনও ছায়াও ছিল না। ২০২১-এর পৃথিবী ও ভারতে, “রে”-র গল্পগুলো পর্দায় পাল্টেছে অনেকটাই , একটা বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যহেতু , চারটি গল্প আর “কিশোরসাহিত্য”-এর গন্ডিতে আটকেও থাকেনি। মূল কাহিনির কাঠামো সত্যজিতের হলেও সে সব কাহিনিকে যুগোপযোগী করে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে – এই নিরীক্ষামূলক, সাহসী অ্যাডাপ্টেশনের জন্যে নেটফ্লিক্স ও সিরিজের তিন পরিচালককে অভিনন্দন।

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সিরিজের প্রথম ছবি ‘বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম’ অবলম্বনে নির্মিত ‘ফরগেট মি নট’- ছবিতে অসাধারণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন নায়ক ঈপ্সিত রমা আইয়ার এক অসামান্য সফল উদ্যোগপতি। সাফল্যের সিঁড়ি অতি দ্রুত টপকাতে টপকাতে ইপ্সিত জীবনের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো হারিয়ে ফেলে একদিন – আত্মপ্রেম ও স্বার্থপরতা তাকে করে তোলে পরিবার , বন্ধুবান্ধবদের প্রতি ভাবলেশহীন ও নিষ্ঠুর। হঠাৎই এক সন্ধ্যায় কোনও পানশালায় এক আগন্তুক মহিলা তাকে বলে বসে এমন এক ঘটনার কথা, যা ঈপ্সিত, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, আশ্চর্যজনকভাবে মনে করতেই পারে না। একে একে তার ঘনিষ্ঠজন প্রত্যেকেই সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে থাকলে সে বিপন্ন হতে শুরু করে এবং একটা সময় আসে যখন ঈপ্সিত মানসিক ভারসাম্য হারায়। ক্রমে উন্মোচিত হয় যৌন প্রতারণা, ক্রমাগত বিশ্বাসভঙ্গ এবং বন্ধুত্বের অবমাননার একের পর এক দৃষ্টান্ত।

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

“ফরগেট মি নট”-এ মুম্বইয়ের কাট-থ্রোট বিজনেস কম্পিটিশন ও ক্রমাগত ছুটতে থাকা জীবনের অন্ধকার দিক তুলে ধরা হয়েছে, এবং এই জীবনে তলিয়ে যেতে থাকা এক মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব , মনুষ্যত্বহীন , নির্লিপ্ত এক আপাত-চকচকে যাপনের অন্তর্লীন অসহায়তা ও হেরে যাওয়া ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। “ফরগেট মি নট” একটি “ডার্ক ফিল্ম” এবং সৃজিত এই “ডার্কনেস”-কে নিজস্ব ঢঙে হাজির করেছেন দর্শকদের সামনে। আমার মনে হয়েছে, সত্যজিতের মূল গল্পের ছায়া বজায় রেখেও , সিরিজের এই ছবিটি “অ্যাডাপ্টেশন” হিসেবে সবচেয়ে কঠিন ছিল নির্মাণ করা। অভিনয়ে আলি ফজল দুরন্ত – গ্ল্যামারাস বিজনেস টাইকুন থেকে পুরোপুরি ভেঙে পড়া এক মানুষের অন্ধকার জার্নি তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং অভিনয়গুণে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। শ্বেতা বসু প্রসাদ যথাযথ।

সিরিজের দ্বিতীয় ছবি সৃজিত পরিচালিত “বহুরূপিয়া”… নায়ক ইন্দ্রাশিস নেশায় থিয়েটারের মেক-আপ ম্যান, পেশায় একটি অফিসের ছোটোখাটো কর্মচারী । উত্তরাধিকার সূত্রে সে তার ঠাকুমার বিপুল সম্পত্তি এবং তাঁরই তৈরি করা মেক আপ সংক্রান্ত একটি বই ‘বহুরূপিয়া’পায়। সেখান থেকেই পাল্টে যায় তার জীবন। অফিসের বস যে তাকে উঠতে-বসতে অপমান করে, বাড়িওয়ালা যে তাকে ভাড়া ঠিক সময়ে না দিতে পাড়ার জন্যে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেবার হুমকি দেয় প্রতিনিয়ত , থিয়েটার-অভিনেত্রী দেবশ্রী যে তার প্রেমকে প্রত্যাখ্যান করে – প্রস্থেটিক মেক-আপের আশ্চর্য্য জগৎ সেইসব মানুষের প্রতি ইন্দ্রাশিসকে প্রতিশোধ নেবার একটা চোরা দরজা খুলে দেয় একদিন। মেক-আপের সাহায্যে সে প্রতিদিন অন্য মানুষ হয়ে কলকাতার পেটের ভেতর ঢুকে পড়ে , দিনের আলোয় মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে থাকে, নিজেকে ঈশ্বর ভাবতে থাকে , ভাবে সে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত পর্যন্ত ঘটাতে পারে। কিন্তু এক দৈবশক্তিসম্পন্ন পীরবাবার কাছে সে হেরে যায়, মুখের মেক-আপ একদিন চামড়ায় এঁটে বসে , ছদ্মবেশ হয়ে ওঠে তার স্বরূপ। অভিনয়ে কে.কে.মেনন, স্বভাবতই অসম্ভব ভালো , পর্দায় তাঁর ম্যানারিজমস , অভিনয় যেন রেস্ট্রেইনড বিস্ফোরণ। তবে, নিপীড়িত ইন্দ্রাশিসের মুখে ডায়লগগুলো আর একটু জোরদার হলে ভালো হতো , কে.কে. মেননের মাপের অভিনেতাকে একটু হলেও ‘সাবডিউড’ লেগেছে এই কারণে। অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন পিরবাবার ভূমিকায় দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য অসাধারণ।

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

সৃজিত পরিচালিত দুটি ছবিই অস্বস্তি এনে দেয় , দুটিই ‘ডার্ক’ ছবি , মূল গল্পের নির্মল রহস্যময়তা বা মনস্তাত্বিক অ্যাডভেঞ্চার থেকে বেরিয়ে এসে এই দুটি ছবি আরও অনেক বেশি কঠোর ও বাস্তবধর্মী , এবং এই কাটাছেঁড়া, এই বিনির্মাণ হয়ত অবশ্যম্ভাবী , কারণ সমাজ ও মানুষ বদলে গেছে , নীল গ্রহের ঘটে গেছে আমূল পরিবর্তন।

‘বারীন ভৌমিকের ব্যারাম’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিরিজের তৃতীয় ছবিটি – ” হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা”, নির্দেশনায় অভিষেক চৌবে। যাঁরা অভিষেকের কাজ ভালোবাসেন ও ফলো করেন, বলা যায় এই ছবি দেখে তাঁরা হতাশ হবেন না , এবং অনেকের মতে এটিই এই সিরিজের সেরা সিনেমা। এ কথা ঠিক যে প্রথম দুটি জটিল মনস্তাত্বিক ও ‘ডার্ক’ সিনেমার পরে ” হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা” একটা খোলা , হাল্কা হাওয়ার মতো এসে এক ভালোলাগার পরিসর তৈরি করে, এবং তার একটা প্রধান কারণ অবশ্যই মূল গল্পটির কৌতুক-রহস্যময় কাঠামো। বোধহয় এই ছবিটিই মূল গল্পের সবচেয়ে কাছাকাছি , মানে মূল গল্প ‘বারীন ভৌমিকের ব্যারাম’ থেকে ছবির এই গল্প অবশ্যই সরেছে, কিন্তু সেই সরে যাওয়ার দূরত্ব ততটা নয়।

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

গজল গায়ক মুসাফির আলি -র সঙ্গে ট্রেনের কামরায় দেখা হয় প্রাক্তন কুস্তিগির আসলাম বেগ ওরফে জঙ্গা-র । তরুণ মুসাফির তখনও তেমন খ্যাতি পাননি। আর কুস্তির রিংয়ে দারা সিংহের হাতে পরাজিত ও জখম হয়ে আসলাম তখন ক্রীড়া সাংবাদিক। সেই যাত্রাতেই আসলাম মুসাফিরকে একটি পকেটঘড়ি দেখান। সোনালি রঙের অপূর্ব দেখতে সেই ঘড়ির নাম ‘খুশওয়ক্ত’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সুসময়’। আসলামের বিশ্বাস, সেই ঘড়ি তাঁর ভাগ্য ফিরিয়ে দিয়েছে । ঘড়ির সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে মুসাফির ট্রেনের কামরাতেই সেটি চুরি করেন। ১০ বছর পর আবার রেলের কামরায় আসলামের সঙ্গে দেখা হয় মুসাফির আলির, তখন তিনি গজলের জগতে সুপ্রতিষ্ঠিত, কিন্তু আসলাম ভাগ্যের ফেরে অনেকটাই বিধ্বস্ত । মুসাফির আসলামকে চিনে ফেলেন। কিন্তু আসলাম তাঁকে কোথায় দেখেছেন ঠিক মনে করতে পারেন না। দশ বছর আগের চুরি করা ‘খুশওয়ক্ত’ ঘড়ি, মুসাফির ঘড়ি চুরি যাবার পর আসলামের ভাগ্যাকাশে ঘন, কালো মেঘ নেমে এসেছে শুনে, বিবেকের দংশনে , লুকিয়ে আসলামকে ফেরত দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যান , স্বীকার করেন তিনি ছোট থেকেই “ক্লেপটোম্যানিয়া”-র শিকার, কিন্তু এখন এই রোগ থেকে মুক্ত। গল্প এখান থেকে আশ্চর্য মোড় নেয় – কে যে আসল ‘ক্লেপটোম্যানিয়াক’ , কে চোর আর কে বাটপাড় , কে অনুতপ্ত , কে ভুল ভাবছে , সব পরিষ্কার হয়ে যায় পুরানা দিল্লির এক ঘিঞ্জি এলাকায় এক অ্যান্টিক জিনিসের দোকানে, যার নাম ‘রুহ সাফা’অর্থাৎ কিনা ‘আত্মার শুদ্ধিকরণ’। ” হাঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা” একটা কমিক রিলিফ এনে দেয় , এবং একই সঙ্গে দর্শককে ভাবায় , আত্মখননের পথে তাকে এনে দাঁড় করিয়ে দেয় , এবং ফলত একটি ব্যালান্সড , উপভোগ্য সিনেমা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। তবে এ ছবির মূল শক্তি অভিনয় – মনোজ বাজপেয়ী এবং গজরাজ রাও দুজনেই পাল্লা দিয়ে অসামান্য অভিনয় করে গেছেন , তাঁদের যুগলবন্দী বা স্ক্রিন-দখলের স্বাস্থ্যকর লড়াই যেন সেরা ফর্মের গাভাস্কার বনাম সেরা ফর্মের ম্যালকম মার্শাল , অথবা সেরা ফর্মের রজার ফেডেরার বনাম সেরা ফর্মের রাফায়েল নাদাল।

“রে”-র চতুর্থ এবং শেষ ছবি “স্পটলাইট” , পরিচালনায় ভাসান বালা। সত্যজিতের মূল গল্পের নামও “স্পটলাইট”, কিন্তু এই সিনেমা মূল গল্পের থেকে অনেক দূরে সরে এক ভিন্ন রাস্তায় হেঁটেছে বলা যায়। তাতে লাভ বিশেষ হয়নি বোধহয় , কারণ এই ট্রিবিউট-সিরিজের সব থেকে দুর্বল ছবি এটিকেই বলা যায় হয়ত। এক সফল চিত্রতারকার দিক থেকে মানুষের ফোকাস কী ভাবে এক অকিঞ্চন বৃদ্ধ তাঁর নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলেন, তারই এক অভিনব , সূক্ষ্ম হিউমার-সমৃদ্ধ আখ্যান ছিল মূল গল্পটি। সিনেমায় এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে এক সফল ফিল্মস্টার বনাম “দিদি” নামক এক ছদ্ম স্পিরিচুয়াল লিডারের গল্প , যে ধর্মীয় নেত্রী এই ফিল্ম-তারকার ওপর থেকে ‘স্পটলাইট’ কেড়ে নেন ; জনপ্রিয়তায় তাকে অনেক পেছনে ফেলে প্রমান করে দেন মানুষের কাছে ধর্ম ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি আকর্ষক, কিংবা বলা যায় এই দেশে ধর্মগুরু-সৃষ্ট এক অদৃশ্য ভয়-ভক্তির বাতাবরণের কাছে রুপোলি পর্দার নায়কের আকর্ষণ হ্যান্ডস ডাউন হেরে যায়।

ওয়েব সিরিজ 'RAY'— সাহসী নিরীক্ষা: সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনয়ে সুপারস্টার ফিল্ম অভিনেতার ভূমিকায় হর্ষবর্ধন কপূর ঠিক ততটা ছাপ ফেলতে পারেন নি , বরং সিনেমায় তাঁর ম্যানেজার-কাম-বন্ধুর রোলে চন্দন রায় সান্যাল নজর কেড়েছেন । ধর্মীয় নেত্রীর ভূমিকায় রাধিকা মদন চলনসই। তবে “স্পটলাইট” দেখে আর একটা জিনিস মনে হয়েছে আমার – এই অভিনেতা এবং ভণ্ড ধর্মীয় নেত্রী দুজনেই কমবয়সী , দুজনেই প্রবল উচ্চাকাঙ্খী , এবং দুজনেই সাফল্য পাবার জন্যে যে কোনো মূল্য দিতে রাজি। এটি সামগ্রিকভাবে একটা জেনারেশনের প্রবণতাকে আইডেন্টিফাই করে বোধহয় – ডিজিটাল বিস্ফোরণময় , স্বার্থপর এক বিশ্বায়িত দুনিয়া, যেখানে সম্পর্ক , মনুষ্যত্ব প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে “আরো চাই”-রঙের বিপণনগাড়ির চাকার তলায় , সেই দুনিয়ার এক রোবোটিক জেনারেশনকে হয়ত সামনে এনে হাজির করায় ‘স্পটলাইট’ …

সব মিলিয়ে, মনে হয় “রে” এক সাহসী নিরীক্ষা। নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সিরিজ তিনজন পরিচালকের এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডাপ্টেশন ; বইয়ের পাতার অক্ষর মিলিয়ে মিলিয়ে সেলুলয়েডে নামিয়ে আনার কথা ছিল কি ? আর সত্যজিৎ স্বয়ং “রে” দেখে কী মনে করতেন, সেই প্রশ্ন অবান্তর , যুগ ও সময় পাল্টে গেছে, তবু তাঁর ছায়া “রে”-র প্রতিটি ফিল্মেই কমবেশি চলাফেরা করে। সিনেমার প্রয়োজনে চিত্রনাট্য মূল কাহিনী থেকে দূরে সরবেই কারণ সাহিত্য এবং সিনেমা দুটি একদম আলাদা মাধ্যম, তাদের “ল্যাঙ্গুয়েজ”-ও আলাদা। “অরণ্যের দিনরাত্রি” ছায়াছবি দেখে স্বয়ং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খুব একটা খুশি হননি কারণ তাঁর মনে হয়েছিল ছবিটি তাঁর উপন্যাস থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে, সে কথা তিনি সত্যজিৎ রায়কে জানিয়েওছিলেন – এ সর্বজনবিদিত। “রে” দেখতে বসতে হবে ‘ওপেন মাইন্ড’ নিয়ে, বিশেষত সিরিজের প্রথমেই যখন বলে দেওয়া আছে সিনেমাগুলো সত্যজিতের গল্প দ্বারা ‘ অনুপ্রাণিত’ মাত্র। বরং, নেটফ্লিক্সের সত্যজিতের ছোট গল্প বঙ্গের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত। “রে ২” হোক – ‘খগম’, ‘নিতাইবাবুর ময়না’ , ‘নরিস সাহেবের বাংলো’, ‘অসমঞ্জবাবুর কুকুর’ – এই সব অসাধারণ গল্পগুলোকে নিয়ে ছবি হোক , এই কামনা করি।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: