সান্তা হতে চান? প্রশিক্ষণ দেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়

সান্তা হতে চান? প্রশিক্ষণ দেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিবিধ ডট ইন:  পৃথিবীতে অনেক ধরনের স্কুলই তো হয় যেমন নাচের স্কুল, গানের স্কুল, অভিনয় স্কুল, ভাষা শিক্ষার স্কুল— আরও কত রকমের স্কুলই তো হয়। কিন্তু ক্রিসমাসের সময় গায়ে লাল জামা পরা সাদা গোঁফ-দাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সান্তা ক্লজ ‘তৈরি’র স্কুলও আবার হয় নাকি? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আমেরিকার কলোরাডো প্রদেশে সান্তা হবার জন্য একটি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়, যারা ‘পেশাদার’ সান্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণ শেষে সেখানের পড়ুয়ারা ছড়িয়ে পড়েন মার্কিন মুলুকের ৩৮টি প্রদেশের প্রায় ২৫০—৩০০ শপিং মলে। আপনি কি সান্তা হতে চান?

সান্তা হতে চান? প্রশিক্ষণ দেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়

সান্তা ইউনিভার্সিটি আসলে কলোরাডোতে প্রতিবছর গরমকালে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি চারদিনের প্রশিক্ষণ শিবির। সেখানে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সান্তা হয়ে ওঠবার শিক্ষা দেওয়া হয়। কীভাবে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে হবে, কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, কীভাবে একজন শিশুর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে তাকে কোলে তুলতে হবে, এছাড়াও কোনও শিশু যদি অবাস্তব কিছু প্রশ্ন করে, তাহলে কীভাবে তার উত্তর দিতে হবে— সবকিছুই শেখানো হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকী, একসঙ্গে অনেক শিশু থাকাকালীন তাদের সঙ্গে ভাব জমানোর জন্য সান্তা শিক্ষার্থীদের বেসিক কিছু প্রতীকী ভাষা ও বেশ কিছু স্প্যানিশ শব্দ ও বাক্যও শিখতে হয়।

আরও পড়ুন: শরীরের মধ্যেই রয়েছে আস্ত এক স্বয়ংক্রিয় ঘড়ি!

সান্তা ইউনিভার্সিটির বর্তমান প্রধান বলেন, ‘মানসিক দিক থেকে কীভাবে সান্তা হয়ে ওঠা যায়, আমরা এখানে শিক্ষার্থীদের সেই শিক্ষা দিয়ে থাকি। একজন ব্যক্তির কাছে সান্তা হয়ে ওঠা মোটেই সহজসাধ্য কাজ নয়। কারণ সেই ব্যক্তিটি এমন একজনের সঙ্গে মিশে কাজ করবেন, যে স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করে, যার মন তখনও অবুঝ। সান্তা হতে চাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবেশ, মানসিকতা, ধৈর্য ও শিক্ষার পরীক্ষা নিই। এর জন্য বেশ কয়েক রাউন্ড ইন্টারভিউর ব্যবস্থাও রয়েছে।’

 

আরও পড়ুন: অনলাইন ক্লাস করতে পাহাড় চড়ছে স্কুলছাত্র, সাহায্যের আশ্বাস সেহবাগের

ড্যান রোগার একজন পেশাদার সান্তা। যিনি প্রায় পনেরো বছর আগে এই পেশা গ্রহণ করেছিলেন। তখন তাঁর মেয়ে ছোট ছিল। তিনি সান্তা সেজে মেয়েকে প্রতি গ্রীষ্মে ফোন করতেন। এইভাবেই তিনি এই পেশায় আসেন।’ তার কথায় পেশাগতভাবে সান্তা হওয়া একটা বেশ কঠিন কাজ। এটা কেবলমাত্র একটা লাল জামা, একটা টুপি বা একটা বড় সাদা নকল দাড়ি-গোঁফ লাগানোর ব্যাপার নয়। এটা শিশুদের মনের ভেতর জায়গা করে নেবার পেশা। তাদের মনের আশাআকাঙ্ক্ষা পূরণ করার পেশা। এই প্রসঙ্গে রোগারের মনে পড়ে একটি ঘটনার কথা। যেখানে ‘সান্তা’ সাজা রোগারকে একটি ছেলেটি বলেছিল– এই ক্রিসমাসে তার নিজের জন্য কিছু দরকার নেই। সে শুধু চায়, এই পৃথিবীতে কেউ যেন কখনও অভুক্ত না থাকে; সবাই যেন খাবার পায়।

আরও পড়ুন: পাখির সুরক্ষার কথা ভেবে বন্ধ রাস্তার আলো, বেনজির সিদ্ধান্ত এই গ্রামের

বিল গেটস দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই বাঙালির, অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা ও খান অ্যাকাডেমি

কন্ট্রিবিউটর: সনৎ মাইতি

যোগাযোগ: ফেসবুক প্রোফাইল   ফেসবুক পেজ

 

ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *