আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুধু জীবনে ফেরাই নয়, যাঁরা নজির গড়েছেন গোটা বিশ্বে: পর্ব ২

বিবিধ ডট ইন: বিশ্ববিখ্যাত এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা কেবল আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই আসেননি, পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। সেই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়েই আলোচনা করব আমরা। আগের পর্বে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং র‍্যাপার এমিনেমকে নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা। এবারের পর্বে রইল বিশ্ব ইতিহাসের আরও দুই মহান ব্যক্তিত্ব:

ওয়াল্ট ডিজনি

ওয়াল্ট ডিজনির নাম শোনেনি অথচ কার্টুন ভালোবাসেন, এমন মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। ডিজনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সারাটা জীবন কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন। সাফল্যের সুউচ্চ শিখরে অবস্থান করার পরও সৃষ্টিসাধনা থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। তাঁকে সবাই ‘মিকিমাউস’ কার্টুন চরিত্রটির সৃষ্টিকর্তা হিসেবে জানে। অথচ ৬৫ বছরের জীবনে ছোটদের আনন্দ দেওয়ার মতো বহু কিছু সৃষ্টি করেছেন তিনি। এর ভেতর ডিজনিল্যান্ডের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি একটি পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেছিলেন কার্টুনিস্ট হিসেবে। সেই পত্রিকার অফিস থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল কল্পনাশক্তি না থাকা আর মৌলিক আইডিয়া না থাকার অভিযোগে!। একত্রিশ বছর বয়সে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। অ্যালকোহলের সাথে ড্রাগ মিশিয়ে পান করতেন ডিজনি, যদিও আত্মহত্যার চেষ্টার কথা তিনি কোথাও স্বীকার করে যাননি। তাঁর চেষ্টা সফল হল মিকিমাউস-কে আমরা পেতাম না।

অপরাহ উইনফ্রে

বর্তমানের একজন অত্যন্ত সফল টিভি উপস্থাপক, অভিনেত্রী, প্রযোজক, সফল উদ্যোক্তা, জনহিতৈষী অপরাহ্‌ উইনফ্রের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিসিসিপির একটি ক্ষুদ্র ফার্মিং কমিউনিটিতে মারাত্মক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। অল্প বয়সেই তাঁর বাবা-মায়ের মাঝে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। প্রথম অবস্থায় যদিও তিনি তাঁর মায়ের সাথে বসবাস শুরু করেন, কিন্তু মায়ের সাথে থাকা অবস্থায় কিশোরী অপরাহ্ তাঁর মায়ের (ভার্নিটা) বিভিন্ন পরিচিত পুরুষ আত্মীয় এবং একাধিক বন্ধুদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন।  ৯ বছর থেকে ১৩ বছর বয়সে কয়েকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। চোদ্দ বছর বয়সে পুত্রসন্তান গর্ভে এসে পড়লে তিনি ডিটার্জেন্ট পাউডার খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন ১৯৮১ সালে, যখন তিনি জানতে পেরেছিলেন যে, তাঁর ভালোবাসার মানুষটি নিজের স্ত্রী এবং সন্তানকে গোপন রেখে তাঁর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁকে ঠকিয়েছে।

এক পর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে তিনি মায়ের আশ্রয় ছেড়ে বাবার সাথে বসবাস করার জন্য ন্যাশভিলে পাড়ি জমান। অপরাহ্‌-এর বাবা ছিলেন একজন নাপিত এবং ব্যবসায়ী। বাবার কাছে আসার পর তাঁর অবস্থা একটু একটু করে ভাল হতে শুরু করে। তাঁর আত্মহত্যার প্রচেষ্টা যদি সফল হত তাহলে আজকের দিনের এত শত নারীর বাস্তব প্রেরণা কে হতেন?

আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুধু জীবনে ফেরাই নয়, যাঁরা নজির গড়েছেন গোটা বিশ্বে। তাঁদের আমরা প্রায় সবাই চিনি। তবে এমন অনেক প্রসিদ্ধ ও অপ্রসিদ্ধ ব্যক্তি আছেন সমাজে, যাঁরা আত্মহত্যা করতে চেয়েও ফিরে এসেছেন। অন্ধকারের শেষে যেমন আলো লুকায়িত থাকে, একইভাবে আপনার খারাপ সময় গুলোর পেছনে নিশ্চয় সঠিক কিছু ঘটছে। এই যুদ্ধে টিকে থাকতে হলে এবং শেষমেশ শিখরে দাঁড়িয়ে বিজয়পতাকা ওড়াতে চাইলে আপনাকে শুধু সহ্যশক্তি বাড়াতে হবে। ব্যাস!

লিখেছেন সম্রাট বেরা

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: