পছন্দের মানুষকে বিয়ে করায় বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ

বিবিধ ডট ইন: উপেন্দ্রকিশোর, যোগীন্দ্রনাথ, সুখলতা প্রমুখ বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিকের সাথে সমান ভাবে যাঁর নাম উচ্চারিত হয় তিনি আর কেউ নন প্রখ্যাত কিংবদন্তি শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদার। নিজের লেখা দিয়ে বাঙালির শৈশবকে জড়িয়ে ফেলেছেন তিনি। তাঁর সমগ্র সাহিত্যজগত জুড়ে শিশুসুলভ আচরণ স্পষ্ট।

কলকাতার বিখ্যাত সাহিত্যিক পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা প্রমদারঞ্জন। কাকা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। খুড়তুতো দাদা সুকুমার রায়। শিলংয়ের পাহাড় ঘেরা পরিবেশে তাঁর কল্পনার বিকাশ ঘটেছিল ছোট থেকেই। ছাত্রজীবন শুরু হয় শিলংয়ের লরেটো স্কুলে। প্রমদারঞ্জনের বদলির চাকরি হওয়ার সূত্রে কলকাতায় গড়পার রোডে উপেন্দ্রকিশোরের বাড়িতে চলে আসতে হয়।

ইংরেজী সাহিত্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন ।

দার্জিলিংয়ে শিক্ষিকা হিসেবে তার কর্মজীবনের শুরু। তবে রবীন্দ্রনাথের ডাকে চলে যান শান্তিনিকেতনে। কিছুদিন কলকাতার আশুতোষ কলেজেও অধ্যাপনা করেছিলেন এবং সেইসঙ্গে বেতারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

হার্ভার্ড ফেরত দন্ত চিকিৎসক সুধীরকুমার মজুমদারকে নিজের পছন্দেই ১৯৩৩ সালে বিয়ে করেন লীলা।

গোঁড়া ব্রাহ্ম পিতা প্রমদারঞ্জন হিন্দু পাত্রের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। তাই চিরকালের জন্য লীলার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। বাবার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হলেও খোদ রবীন্দ্রনাথ বিয়েতে হাজির থেকে তাঁদের আশীর্বাদ করেছিলেন।

কাকা উপেন্দ্রকিশোরের হাত ধরেই তাঁর ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সূচনা হয়েছিল। শিশুসাহিত্যে যা আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। ‘লক্ষ্মীছাড়া’ তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প। পরবর্তীতে সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় সহ-সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।

লেখালেখি ছাড়াও রান্নার প্রতি তাঁর টান ছিল বরাবর। বিভিন্ন রেসিপি নিয়ে লিখে ফেলেন ‘রান্নার বই’। প্রায় ১০০-র বেশি বই লেখেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পদিপিসির বর্মিবাক্স’, ‘টংলিং’, ‘হলদে পাখির পালক’, ‘মাকু’ ইত্যাদি। তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, দেশিকোত্তমসহ নানা সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন।

ছোট গল্প, উপকথা, জীবনী সাহিত্য ও অনেক কিছু দিয়ে তিনি বাঙালির ছেলেবেলাকে ভরিয়ে দিয়েছেন।বাঙালির অন্তরে আজও ধ্বনিত হয়, ‘ও লীলাদি কথা রাখুন, আরও অনেক বছর থাকুন, সকল জনার সঙ্গে মিশে, নইলে আমরা বাঁচি কিসে?’

লিখেছেন শর্মিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায়

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: