ফিচার

‘অত বই লিখো না তুমি,’ মহাশ্বেতার কথা শুনে অবাক রবীন্দ্রনাথ

 

বিবিধ ডট ইন: সত্তরের দশকে যেন বাংলার বহু মেয়ের মুখপাত্র হয়ে উঠেছিল মহাশ্বেতা দেবীর রচিত ‘হাজার চুরাশির মা’। মহাশ্বেতা দেবীর কলমের প্রত্যাঘাতে তুলে এনেছিলেন সাহিত্য, মানুষ এবং তাদের সংগ্রামের কাহিনীকে। বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন কিছুর স্বপ্ন দেখায় ব্রতী ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মম রাষ্ট্রযন্ত্রের বলি হতে হয় তাঁকে। লাশকাটা ঘরের বাইরে মুখ ফিরিয়ে কঠোরভাবে দাড়িয়ে রয়েছেন সুজাতা, কঠোরতার এই মন্ত্রের মাধ্যমে তিনি দীক্ষিত করেছিলেন ব্রতীকেও।

শুধুমাত্র ‘হাজার চুরাশির মা’ এর মধ্যে মহাশ্বেতা দেবীর লেখিকা সত্ত্বাটির পরিচয় পাওয়া যায়ম না। মানুষ হিসেবে মহাশ্বেতা দেবীকে চিনতে গেলে নজর দিতে হবে তার ব্যক্তিজীবনের ওপর। সমাজের সব রকম শ্রেণীর মানুষকে ও তাদের অসুবিধাগুলো একেবারে সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। সেই মানুষগুলো কেই আবার দুটি ভাগে বিভক্ত করেছিলেন । তিনি বলেছিলেন,

‘ধনীদের তৈরি দুর্ভিক্ষ, নিচু বর্গের মানুষকে উচ্ছেদ এবং অবর্ণনীয় অত্যাচার— এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আমার কাছে ধর্মবিশ্বাসের মতো।’

তিনি কোনো জাতি, ধর্ম ও বর্ণে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বিশ্বাসী ছিলেন মনুষ্যত্বের।এক দিকে সমাজ কর্মী, এবং অপর দিকে লেখিকা, সদাও দুই সত্তা বয়ে নিয়ে বেড়াতেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই নিজ পরিবারের ছোঁওয়া পেয়েছিলেন । তার বাবা মণীশ ঘটক, তার কাকা বিখ্যাত চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। স্বামী বিজন ভট্টাচার্য, পরবর্তীকালে ছেলে নবারুণ ভট্টাচার্য। এককথায় বলতে গেলে তার পরিবার নবরত্ন এর থেকে কিছু কম ছিল না। সেই নবরত্ন গুলির মধ্যে একটি উজ্জ্বল রত্ন ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী।

তার লেখা সবসময়েই আঘাত করে এসেছে পাঠকদের চিরাচরিত ধ্যানধারণার ওপর, এবং তাদের নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে। ‘রাজা,তোর কাপড় কোথায়’ বলার অভ্যাসটি হয়ত তিনি রপ্ত করেই জন্মেছিলেন। একারণেই শৈশবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অকপটে বলে বসেছিলেন,

‘তুমি অত বই লিখো না।’

অবাক হয়ে কবিগুরু কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন,

‘আমার বাবা সব তোমার বই কেনেন আর কেনেন। অত অত বই আমি পড়তে পারি না।’

উত্তরটা শুনে অবাক হয়ে গেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ।
একবার এক ঝাড়ুদার মহাশ্বেতা দেবীর কাছে এসে জানিয়েছিলেন যে তাঁর লেখা পড়ে নাকি কোলকাতার মেয়র স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁর মেয়ের বিয়েতে। এরপর থেকে নাকি এধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছিল মেয়রকে। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই এই ঘটনাটি বলেছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। কত সালের ঘটনা, তখন কোলকাতার মেয়র কে ছিলেন, সেসব অবশ্য বলেননি তিনি।

বর্তমান সময়ে তিনি যদি জীবিত থাকতেন , তাহলে হয়তো অবশ্যই আবারও কলম তুলে নিতেন। কলমের মাধ্যমে প্রমাণ করতেন নীরব থাকার ফল। তাঁর পুত্র নবারুণ ভট্টাচার্য লিখেছিলেন, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’। এটাই হয়তো আপ্তবাক্য হয়ে উঠতো সমগ্র বাঙালীর।পরবর্তীকালে সমগ্র ভারতবাসীর।

লিখেছেন অর্ঘ্য মৈত্র

Leave a Comment
Share

Recent Posts

‘ব্যর্থতা বা দুঃখ ঢাকতে নয়, মদ্যপানকে ঘৃণা করতেন,’ তবুও মদের দিকেই কেন ঝুঁকলেন ঋত্বিক?

  বিবিধ ডট ইন: যিনি নিজেই নিজেকে 'ভাঙা বুদ্ধিজীবী' অর্থাৎ 'Broken intellectual' বলতেন, সেই ঋত্বিক…

November 4, 2021

অজানা রোগে একাধিক শুয়োরের মৃত্যু, সোয়াইনফ্লু আতঙ্ক উত্তরবঙ্গে

  বিবিধ ডট ইন: অজানা রোগে একের পর এক শুয়োররের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে।…

November 4, 2021

তৃণমূলের মিছিলে ‘না’, ১০০ দিনের কাজ থেকে বাদ পড়লেন ৪০ জন

  বিবিধ ডট ইন: শাসক দল তৃণমূলের ডাকা মিছিলে অংশগ্রহণ না করার অভিযোগে ১০০ দিনের…

November 4, 2021

কলকাতা থেকে জলপাইগুড়িতে ‘স্থানান্তরিত’ হল বুর্জ খালিফা!

  বিবিধ ডট ইন: গত দুর্গা পুজোয় শহর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিল শ্রীভূমি…

November 4, 2021

প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে পেট্রল-ডিজেলে আরও ৭ টাকা ছাড়বে বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্য

  বিবিধ ডট ইন: দীপাবলির আগেই দেশবাসীকে দীপাবলিএ 'উপহার' স্বরূপ পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্য কমানোর…

November 4, 2021

Viral Video: রান্নাঘরে ঢুকে কেএফসি চিকেন খাচ্ছে ভাল্লুক!

  বিবিধ ডট ইন: মাঝরাতে ঘরে চুরি করতে ঢুকে চোরে খাবার খাওয়ার একাধিক ভিডিও এর…

November 3, 2021

This website uses cookies.