প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কয়েদি-শূন্য আলিপুর জেল!

 

বিবিধ ডট ইন: গোপালনগর মোড় পেরিয়ে হাজরার দিকে খানিক এগোলেই সে স্থাপত্যের দিকে একবার হলেও আপনার চোখ আটকাবেই, তা হল আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার। একপ্রকার হানাবাড়ির মতন দাঁড়িয়ে থাকা এই জেলখানা একদা আখড়া ছিল কুখ্যাত সব অপরাধীদের। এমনকি এই জেলে একদা আটক ছিলেন নেতাজি সুভাষ স্বয়ং। তালিকায় ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস, কানাইলাল, বিধানচন্দ্র রায় থেকে শুরু করে জওহরলাল নেহেরু পর্যন্ত। অন্যদিকে এখানেই ছিলেন খাদিম কর্তা অপহরণের অন্যতম আসামী তথা জঙ্গি আফতাব আনসারি। এবার সেই স্মৃতিবিজড়িত জেলকেই সম্পূর্ণ বন্দি শূন্য করা হল মঙ্গলবার। জেলের আবাসিকদের স্থানান্তরিত করা হল বারুইপুর জেলে।

আদি গঙ্গার পাড়ে ১৯০৬ সালে তৈরি হয়েছিল আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারটি। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেলের ঠিক মাঝখানে বানানো হয়েছিল একটি ওয়াচ টাওয়ার। সেই ওয়াচ টাওয়ার থেকে বন্দীদের কুঠুরিগুলির উপর নজর রাখতেন পুলিস কর্মীরা।

১৯৩৪ সালে এই জেলে বন্দি হয়ে আসেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু। আদি গঙ্গার পাড়ে ১৯০৬ সালে তৈরি হয়েছিল আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারটি। এখানেই প্রায় ৯ মাস বন্দি ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র। সেই ঘটনাকেই সম্মান জানাতে সেখানেই আজ তৈরি হয়েছে ‘নেতাজি ভবন’। এছাড়াও নেতাজির রাজনৈতিক গুরু চিত্তরঞ্জন দাসও ১৯৩৪ সালে চার মাস বন্দি ছিলেন এই জেলে। ১৯৩২ সালের অক্টোবর মাস থেকে ১৯৩৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত এখানেই বন্দি ছিলেন যতীন্দ্রমোহন বাগচি। আলিপুরের এই সংশোধনাগারের এক তলার চার নম্বর ঘরে বহু বছর বন্দি ছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ও।অনন্তহরি মিত্র, প্রমোদরঞ্জন চৌধুরী, বিনয়-বাদল-দীনেশ-এর দীনেশ গুপ্ত, দীনেশ মজুমদার, রাধাচরণ পাল,অসিধারী ঘোষ, আম্বিকাচরণ বসু, ফণীন্দ্রলাল নন্দী প্রমুখ বিল্পবী ফাঁসির মঞ্চে জীবনও দিয়েছিলেন এই জেলেই।

এই জেলে এতদিন ১১৮ জন বন্দি ছিলেন যাদের মধ্যে মধ্যে ৭১জনই সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। মঙ্গলবার আলিপুর জেলে থাকা ১১৮ জন বন্দিকে ১০টি গাড়ির মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হল নতুন ঠিকানায়। সংশোধনাগারের ৩০জন বন্দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় জেলে এবং ৪৭ জন বন্দিকে পাঠানো হয়েছে বারুইপুরে।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: