বেসরকারি হাসপাতালে দাঁত-হার্নিয়া চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না স্বাস্থ্য সাথী কার্ড! নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

 

বিবিধ ডট ইন: দাঁত, হার্নিয়া, হাইড্রোসিল জাতীয় অসুখেরর চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে করালে মিলবে না স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের পরিষেবা। শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই মিলবে এই পরিষেবা।

ক্যানসার সার্জারি, পথ দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের প্রস্থেসিস ছাড়া দাঁতের যাবতীয় চিকিৎসার ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড একমাত্র সরকারি হাসপাতালেই করালে মিলবে পরিষেবা ৷ এ নিয়ে শুক্রবার নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন। এখানেই শেষ নয়, যদি কারোর পেটে অস্ত্রোপচার হয় তখন অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করা হলে সেটাও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় পড়বে না। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর যথোপযুক্ত ব্যবহারের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আরও একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পেটে যে কোনও অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে যদি চিকিত্‍সকরা অ্যাপেনডিক্স অস্ত্রোপচার করে দেন, তাহলে স্বাস্থ্যসাথী থেকে সেই টাকা পাওয়া যাবে না।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে ফের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলিকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করলে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করতেও দ্বিধা করবে না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও নার্সিংহোম এবং হাসপাতাল যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে না চায়, সঙ্গে সঙ্গে থানাকে জানাতে হবে। থানাকেও অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছুটে গিয়ে ক্রসচেক করতে হবে। বাকিটা সরকার বুঝে নেবে।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় প্রত্যেক বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধে পায় প্রত্যেক পরিবার। চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে রাজ্য সরকার। হাসপাতালে থাকাকালীন রোগীর সমস্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যায় জেলার নথিভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল।

অগাস্ট মাসেই স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে লিখিত নির্দেশ জারি করে রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, রাজ্যের সব বেসরকারি হাসপাতালগুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের পরিষেবা দিতে বাধ্য। আইনের কথা তুলে ধরে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যে কোনও প্রকল্পের সুবিধা দিতে বাধ্য বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলি। কড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সব বেসরকারি হাসপাতাল এই প্রকল্পে সুবিধা দিতে পারবে না রোগীদের, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে রাজ্য। রোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাতিল হতে পারে ওই হাসপাতালের লাইসেন্স।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: