মাস্টারদার শেষ ক’টা দিন

বিবিধ ডট ইন: ‘The outstanding event of the fortnight is the arrest on 17 February of Surjya Sen of Chittagong Armoury Raid notoriety, who, as the leader and brain of absconders, has been giving constant anxiety over the last three years. It was unfortunate that when Surjya Sen and his companion were arrested, 4 others made good their escape…But luck enters very largely into these night operations and it certainly was a great stroke of luck that Surjya Sen was secured.’ (উইকিপিডিয়া)

১৯৩০ সাল থেকে মাস্টারদা সূর্য সেন পলাতক ছিলেন এবং তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন সরকার দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেঙ্গল চিফ সেক্রেটারি কর্তৃক লন্ডনে ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয় এই রিপোর্টটি।

ভাবতে পারেন, ব্রিটিশ প্রশাসনের কতটা ঘুম কেড়ে নিলে, এই আয়োজন ও এহেন ঘোষণা করতে হয়!
নাগরখানা পাহাড় খণ্ডযুদ্ধ, বিপ্লবী সংগঠনে মেয়েদের অংশগ্রহণ, ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও জালালাবাদ যুদ্ধ— এতগুলো ঐতিহাসিক আলোড়ন, তবুও বারংবার অধরা। ইংরেজ রাজদের চোখে প্রত্যেকবার ধুলো দেওয়া, ওদের অহংকারী মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেওয়ায় এই একটা মানুষই ত্রাস হিসেবে যথেষ্ট ছিলেন সে যুগে। মাস্টারদার কথায়, ‘বাংলায় বীর যুবকের আজ অভাব নাই। বালেশ্বর থেকে জালালাবাদ, কালারপোল পর্যন্ত এদের দৃপ্ত অভিযানে দেশের মাটি বারে বারে বীর যুবকের রক্তে সিক্ত হয়েছে। কিন্তু বাংলার ঘরে ঘরে মায়ের জাতিও যে শক্তির খেলায় মেতেছে, ইতিহাসে সে অধ্যায় আজও অলিখিত রয়ে গেছে। মেয়েদের আত্মদানে সে অধ্যায় রচিত হোক এই-ই আমি চাই। ইংরেজ জানুক, বিশ্বজগৎ জানুক, এদেশের মেয়েরাও মুক্তিযুদ্ধে পেছনে নেই।’

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) শেষের দিকে অনুরূপ সেন, চারুবিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্রনাথ সেন প্রমুখকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে গোপন বিপ্লবী দল গঠন করা হয়।পরিকল্পনা অনুসারে কাজের জন্য কয়েকটা দল গঠন করা হয়। সূর্য সেনের দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৫। অম্বিকা চক্রবর্তীর ১৫ জন, অনন্ত সিং এবং গণেশ ঘোষের ২২ জন, নির্মল সেনের ৬ জন সদস্য। এই দলগুলোর মধ্যে আবার উপদল ছিল।

ইতিহাস বলছে, ১৯৩৪-এর ১২ জানুয়ারি ব্রিটিশের চোখে ‘ডাকাত’ মাস্টারদা সূর্য সেনের ‘ফাঁসি’ হয়। তবে সেই ঘটনায় কত নারকীয়, তা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। কারণ, ফাঁসির আগেই গায়ের জ্বালা মেটাতে বিপ্লবী সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদারের ওপর আসুরিক অত্যাচার চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। নৃশংসভাবে ভাঙা সূর্য সেনের দাঁতগুলি ভাঙে, নখগুলি থেঁতো করে উপড়ে ফেলে, গোটা শরীরের সমস্ত হাড়পাঁজর টুকরো টুকরো করে। অত্যাচারের চোটে চৈতন্য হারান সূর্য সেন। সেই অবস্থাতেই তাঁকে ফাঁসিতে চড়ানো হয়। এমনকী, পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া তো ছাড়, সৎকারের ব্যবস্থাটুকুও করা হয়নি। মাস্টারদার দেহ ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের স্টিমার ঘাটে। তারপর বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে লোহার টুকরো বেঁধে সূর্য সেন এবং তারকেশ্বর দত্তের দেহ ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

এই আত্মবলিদানের কাহিনি ধামাচাপা ফেললে চলবে কি করে! দেশজুড়ে বারোই জানুয়ারি ‘বিবেক’ জাগ্রত হোক। বাঙালি ইতিহাসের সবকটা পাতাই উল্টে দেখুন, উপেক্ষা না করে। কারণ আজ এদেশীয় স্বাধীনতা আনয়নের সূচিপত্রে সূর্য সেন বিপ্লবীর থেকে বেশি ‘মাস্টারদা’ ছিলেন; আছেন থাকবেন।

মাস্টারদার শেষ কটা দিন লিখলেন ঋষা নাগ

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: