শ্রমিকদের কথা ভেবেই ম্যাগি আবিষ্কার, নামেও লুকিয়ে রহস্য

এখনই শেয়ার করুন

উচ্চমাত্রায় লেড এবং মনোসোডিয়াম গ্লুটামেটের উপস্থিতির কারণে ২০১৫ সালে FSSAI দেশ জুড়ে ম্যাগিকে ব্যান করার নির্দেশ দেয়। ইনস্ট্যান্ট ফুডের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ দখলকারী ম্যাগি নেমে আসে শূন্যতে। নিউজ চ্যানেলগুলোতে ঘুরতে থাকে ম্যাগি খেয়ে অসুস্থ হবার কথা। আমাদের দেশে ম্যাগি এবং ইনস্ট্যান্ট নুডলস প্রায় সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই ম্যাগির পথ চলা কিন্তু নুডলস হিসেবে নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কাহিনি। (শ্রমিকদের কথা ভেবেই ম্যাগি আবিষ্কার, নামেও লুকিয়ে রহস্য )

১৮৮৪ সালে সুদূর সুইজারল্যান্ডে জুলিয়াস ম্যাগি তার বাবার মিলের তদারকির দায়িত্ব নেন। সুইস সরকার এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রোডাকশনের পথিকৃৎ জুলিয়াস চাইছিলেন শ্রমিকদের জন্য পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং চটজলদি রান্না করা যায় এমন খাবারের ব্যবস্থা করতে। প্রচুর ফ্লেভার নিয়ে পরীক্ষা করতে করতে ম্যাগি প্রথম প্রবর্তন করলেন প্রোটিন সমৃদ্ধ ইনস্ট্যান্ট মটর এবং বিনের স্যুপ। শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখেই এরপর ম্যাগি আরও কিছু প্রোডাক্ট তৈরি করলেন যেগুলো সহজলভ্য, সুলভ অথচ পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য যেমন বুইয়ন কিউব (সবজি, মাংস, নুন, মশলা প্রভৃতি দিয়ে তৈরি)। প্রোডাক্টগুলি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ১৮৮৮ সালের দিকে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালির মতো দেশগুলিতে ম্যাগি প্রোডাক্ট তথা ব্র্যান্ডের রমরমা বেড়ে যায়।
১৮৯৭ সালে জুলিয়াস জার্মানির সিনজেনে ‘Maggi GmbH’ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বেশ কিছু মালিকানা বদলের পর ১৯৪৭ সালে ম্যাগি নেসলের সাথে মার্জ করে যায়।

১৯৮২ সালে নেসলে ভারতে ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলস লঞ্চ করে। তাতে একটা স্লোগান ছিল ‘টু মিনিটস’। তবে সারা বিশ্বের মতো ভারতে ম্যাগির প্রসার এত সহজে ঘটেনি। রাতারাতি এই নুডলস ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়ে উঠতে পারেনি। অনেক ওঠা পড়া এবং প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে ২০০১ সালে নুডলস এর বাজারের একটা বিরাট অংশ ম্যাগি দখল করে ফেলে। এরপর আর ম্যাগি নুডলসকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কর্মব্যস্ত ভারতে ইয়ং জেনারেশনের কাছে কম সময়ে সহজে তৈরি করা যায়, সুস্বাদু খাবারের ক্ষেত্রে প্রথম চয়েস হয়ে ওঠে ম্যাগি। ম্যাগির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে দেখা যায় অমিতাভ বচ্চনকে।

টিভির পর্দায় দেখা ‘মাম্মি ভুখ লগি… বস দো মিনিট!’ এই লাইন প্রায় সকল ভারতবাসীর মনে গেঁথে গেছে। তাই চিংস, টপ র‍্যামেন, ইপ্পি প্রভৃতি ইনস্ট্যান্ট নুডলস বাজারে আসলেও ম্যাগি তার টেস্টমেকারের গুণেই হোক বা অন্য কোনও কারণে এখনও অনেকের ফার্স্ট চয়েস। দুর্গম ট্রেকে বা বাড়ি থেকে দূরে কোনও একাকী সন্ধ্যার স্ন্যাকসে অথবা হিমাচলের রাস্তায় আপনাকে নিরাশ করবে না এক বাটি গরম গরম ম্যাগি।

আর্কাইভ: প্রেরণা   ক্লিনিক   ব্লগ   বিজ্ঞান   লাইফস্টাইল   খেলা   ভ্রমণ   অ্যাঁ!   বিনোদন

আপডেট থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

শ্রমিকদের কথা ভেবেই ম্যাগি আবিষ্কার, নামেও লুকিয়ে রহস্য  কন্ট্রিবিউটর অনির্বাণ ঘোষ

ব্লগ: রামায়ণ থেকে গণতন্ত্র, কী ভাবতেন রবীন্দ্রনাথ— অনির্বাণ ঘোষ বিবিধ ডট ইন

কন্ট্রিবিউটর: অনির্বাণ ঘোষ

যোগাযোগ: ফেসবুক

ই-মেল: ghosh.anirban2010@gmail.com


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *