ভুলে যান ওজন মেশিন, ভালমন্দ খেয়েও ফিট থাকুন পুজোয়

এখনই শেয়ার করুন

‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’! কিন্তু এবার পরিস্থিতির চাপে সবটাই অন্যরকম। করোনার অতিমারীতে জর্জরিত গোটা বিশ্ব। তাই মায়ের কাছে সবার একটাই প্রার্থনা, ‘সবাইকে ভাল রেখো, পৃথিবী সুস্থ হোক’। ভুলে যান ওজন মেশিন, ভালমন্দ খেয়েও ফিট থাকুন পুজোয়

পুজোর কদিন সমস্ত নেগেটিভিটিকে ভুলে ভাল থাকার দিন। কিন্তু এবছর আনন্দ হোক বাড়িতে থেকেই; শুধু নিজের জন্যই নয়, গোটা পরিবারের জন্যও। প্রতিবছর তো প্যান্ডেল হপিংয়েই পুজো কাটে, এবার নাহয় বাড়িতে থেকে পরিবারের সাথে কাটুক ভাল খাওয়াদাওয়া করে।

যাঁরা সারাবছর ডায়েটিং করে নিজেদের মেনটেন করেন, খাওয়া দাওয়ার নাম শুনেই কি তাঁদের চোখের সামনে ওজন মেশিন বা গ্লুকোমিটার ভেসে উঠছে? তাহলে সরিয়ে ফেলুন তা। ডায়েটিং মানেই কিন্তু সব খাওয়া ছেড়ে দেওয়া নয়, সবকিছু খেয়ে নিজে সুস্থ ও ফিট রাখার পদ্ধতিই হল ডায়েটিং। তাই কী এমন উপায়, যা দিয়ে ওজন বাড়বে না, কিন্তু আপনি ভালমন্দ খেতেও পারবেন? একটু বুদ্ধি করে মেনে চলুন কয়েকটা বিষয়।

১. পুজোর চারদিন ভালমন্দ খাওয়ার সাথেই চলুক দৈনন্দিন শরীরচর্চাও। সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্তত আধঘণ্টা যোগাসন, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ, প্রাণায়াম ও মেডিটেশন। মনে রাখবেন, শরীরচর্চা কিন্তু আপনার ভাল থাকার অন্যতম মাধ্যম। চেষ্টা করুন নিজের পছন্দের মিউজিকের সাথে অভ্যাস করতে, তাতে ভাল থাকবে আপনার মনও।

২. পুজোর চারদিন হোক হরেক রকম রান্না, কিন্তু বাদ থাকুক কোনও ডিপ ফ্রায়েড খাবার। যেকোনও খাবারের সাথে থাকুক স্যালাড।

৩. দুপুরে খেতে পারেন চাল ও ডাল দিয়ে তৈরি খিচুড়ি ও পাঁচমিশালী তরকারি। এর সাথে যদি থাকে একদম অল্প তেলে ভাজা অমলেট বা ডিম ভুজিয়া… তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

৪. প্রতিদিন ডায়েটে থাকুক টক দই, তা খেতে পারেন লস্যি হিসাবে বা রায়তা হিসাবেও।

৫. প্রতিদিন খান কোনও একটা মরসুমি ফল। বাড়ির সবার জন্য বানিয়ে ফেলুন ‘টেস্টি ফ্রুট স্মুদি’ এবং তা পরিবেশন করুন সুন্দর গ্লাসে। ব্যাস! পেট ও মন দু’টোই খুশি।

৬. যারা চাইনিজ খেতে ভালবাসেন, ডিম বা সয়াবিনের সাথে সব সবজি দিয়ে বানিয়ে ফেলুন চাউমিন, তবে অবশ্যই আজিনামতো ছাড়া।

৭. অষ্টমীর দিন বেশিরভাগ বাড়িতেই লুচি হয়ে থাকে। কোনও অসুবিধা নেই তাতে। শুধু লুচি করুন রিফাইন্ড তেলে এবং আটা ও ময়দা ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে।

৮. নবমীর দিন সাধারণত মাংস খাওয়া হয় বাড়িতে। মনে রাখবেন মাটন কিন্তু কোনওভাবেই হৃদয়ের বন্ধু নয়, তাই চিকেন খাওয়াই ভাল। চেষ্টা করুন মাংস রান্নায় টক দই ব্যবহার করতে।

৯. একদিনের বেঁচে যাওয়া তেল কখনওই পরেরদিন খাবেন না। শুরুতেই তেলের ব্যবহার থাকুক সীমিত।

১০. অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন শুধুমাত্র স্যালাড ড্রেসিংয়ের ক্ষেত্রেই। খুব দরকার হলে কন্টিনেন্টাল ডিশ-এর ক্ষেত্রে, ইন্ডিয়ান খাবারের জন্য কখনওই নয়।

১১. পায়েসের ক্ষেত্রে চাল, সিমাইয়ের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন সয়াবিন (নিউট্রেলা পেস্ট). ফলে পায়েসের গ্লাইসেমিক লোড ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স দু’টোই কম হবে। ডায়াবেটিক পেশেন্টদের ক্ষেত্রে এই পায়েস পরম বন্ধু।

১২. ডায়াবেটিক পেশেন্টরা দশমীতে মিষ্টি হিসাবে খেতে পারেন রসগোল্লা, কিন্তু পরিমিতভাবে। এবং অন্যান্য কার্বহাইড্রেটও যেন সেদিন নিয়ন্ত্রণ থাকে।

১৩. যাঁরা বিভিন্ন কারণে উপবাস করেন, পুজোর এই ক’দিনে তাদের জন্য বলব, কোনওভাবেই পেট খালি রাখবেন না। দইয়ের ঘোল, ফলের রস বা গোটা ফল, ড্রাই ফ্রুট— এগুলো কিন্তু খাওয়াই যায়। বিশেষ করে যাঁরা ডায়াবেটিক, তাঁদের উপবাসের দিনে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার খুব সম্ভাবনা থাকে। আলসার রোগীদের ক্ষেত্রে ARS, পেটে ব্যথা, বমিভাব এগুলো হতেই থাকে।

১৪. পরিবারের সকলে মিলে আয়োজন করতে পারেন কোনও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে দিয়ে নিজেদের পুরোনো সৃজনশীল অভ্যাসগুলো ফিরে আসবে আবার।

১৫. সবশেষে আবারও বলি বাইরে বেরোবেন না। এতদিন ধরে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ—

সবার লড়াইকে বিফলে যেতে দেবেন না। পুজো প্রতি বছর আসবে, কিন্তু জীবন একটাই, তাকে ভালবাসুন।

ভাল থাকার রিমোট কিন্তু আপনার হাতেই তাই তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করুন। ভাল থাকুন, পজিটিভ থাকুন।

‘ভুলে যান ওজন মেশিন, ভালমন্দ খেয়েও ফিট থাকুন পুজোয়’ লিখলেন রাখি চট্টোপাধ্যায়

ক্লিনিক: ব্রেকফাস্টে কী খাবেন, কেন খাবেন?

রাখি চট্টোপাধ্যায়

ক্লিনিক্যাল ডায়েটিসিয়ান, ডায়াবেটিস এডুকেটর ও যোগ থেরাপিস্ট

Attached to Narayana Multi-speciality Hospital

Msc in Clinical Nutrition & Dietetics

Certified Diabetes Educator from National Diabetes Educator programme.

ফিচার ইমেজ: লিঙ্ক


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।