যমজ ভাইবোনেরা কি আদৌ একে অন্যের ব্যথা-বেদনা টের পায়? আসলে কোন সত্য লুকিয়ে, জানুন!

 

বড় পর্দায় যমজদের নিয়ে একাধিক ছবি তৈরি হয়েছে। একদিকে সলমান খান অভিনীত জুড়ুয়া সিনেমাটি একসময় বক্সঅফিসে বাজিমাত করেছিল। সেই ছবি রিমেক ভার্সনে জুড়ুয়া টু তে অভিনয় করতে দেখা যায় ডেভিড ধাওয়ানের ছোট ছেলে বরুণ ধাওয়ানকে। বক্স অফিসে সাফল্য পায় সেই ছবিটি ও। এই গল্পের চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে দুই যমজ ভাইকে নিয়ে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বড় পর্দায় যমজদের নিয়ে তৈরি নানান কাহিনী সিনেমা হিসেবে দেখেছেন দর্শকরা।

শোনা যায় যমজদের মধ্যে কোন একজনের বিপদ ঘনিয়ে আসলে অন্যজন নাকি তা উপলব্ধি করতে পারেন। যেমন ধরুন দুজনের মধ্যে কেউ একজন উপলব্ধি করলেন অপরজনের জন্য বিপদ অপেক্ষা করছে। ঠিক সে সময় জানা যায় অপরজন হয়তোবা কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। মনে করা হয় যমজরা একে অপরের অনুভূতি খুব সহজেই বুঝতে পারেন। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এর নাম ইএসপি বা এক্সট্রা সেনসরি পারসেপশন।

এই বিষয়ে বহু গবেষণা চললেও তাতে বিশেষ কোনো তথ্য উঠে আসে নি। কিছু ঘটনা কাকতালীয় বলে মনে করা হয়। দুজন যমজ বোনের একই সময়ে লটারি জেতার যেমন সম্ভাবনা থাকে তেমনি তাদের একই নামের একই পেশার ব্যক্তিকে বিয়ে করার সম্ভাবনা ততটাই প্রবল।

ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টুইন স্টাডিজ সেন্টারের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে পশ্চিমী দেশ গুলিতে জন্ম নেওয়া 80 জন নবজাতকের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে অন্তত একটি জমজ সন্তানের জন্ম হয়। বাকি ভাই বোনদের তুলনায় যমজরা অনেক ঘনিষ্ঠ ভাবে বড় হওয়ায় তাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি টান অনেক বেশি থাকে। তাই বহু ক্ষেত্রে একজনের মৃত্যু হলে অপর জন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে যমজদের মধ্যে একে অপরের ব্যথা বেদনা অনুভব করার ক্ষমতা যথেষ্ট বিরল। তবে এই গল্প শুনলে যাদের মধ্যে এই বিশেষ ক্ষমতা টি নেই এমন যমজেরা দুঃখ পান। তারা ভাবতে থাকেন হয়তো বা তাদের মধ্যে সেই ধরনের যমজ সুলভ ক্ষমতা নেই।

আইডেন্টিকাল এবং ফ্র‍্যাটার্নাল এই দুই ধরনের যমজ মূলত দেখা যায়। একই ভ্রূণ ভেঙে দুটি তৈরি হলে আইডেন্টিক্যাল যমজ সন্তানের জন্ম হয় সেখান থেকে। এদের শারীরিক গঠন ডিএনএ মানসিক গঠন সবই প্রায় একই থাকে। জন্মের পর দুজন বেড়ে ওঠে একইভাবে একই সাথে। এদের দুজনেরই একই ধরনের রোগব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। দুজনেরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে। এক্ষেত্রে খোঁজ নিলে হয়তোবা জানা যাবে দুজনের জীবনধারা একই রকম হওয়ার কারণে তাদের মৃত্যুর কারণও এক।

বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় যমজ ভাই বোনেরা একই রকম বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন, একই রকম খাবার খাওয়া পছন্দ করেন, একইসময় হয়ত তাদের একই ধরনের ইচ্ছা হচ্ছে। তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যারা কাছাকাছি বয়সের ভাই বোন অথবা যারা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন তাদেরও অনেক সময় চিন্তা ধারা একই রকম হয়। তাদের কথা বলার ধরন, কেনাকাটা সহ বিভিন্ন জিনিসের মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ শুধুমাত্র যমজ হলেই নয় এদের মধ্যেও ওই একই মিলের বিষয়গুলি খুঁজে পাওয়া যায়।

বিভিন্ন গবেষণার পর যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হল একে অপরের মনের কথা বা ব্যথা বেদনা অনুভব করার মতন কোনো ক্ষমতা যমজ ভাই বোনদের বিশেষ থাকে না। বাস্তবে যদি এই ধরনের বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী যমজ ভাইবোন পাওয়া যায় তবে তা নেহাতই কাকতালীয়ভাবে ঘটনা।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: