ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ‘অধিনায়ক’ ক্লাইভ লয়েড

এখনই শেয়ার করুন

বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়। সাহেবদের ‘জেন্টেলম্যানস গেম’-এ মর্যাদার আসন অধিকারের জন্য লড়ছে একটা দ্বীপপুঞ্জ। আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শক্তিশালী একটা দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা। তখনই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হচ্ছে একটা নাম, স্যার ক্লাইভ লয়েড। (ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ‘অধিনায়ক’ ক্লাইভ লয়েড)

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্তরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খানিকটা তাচ্ছিল্যের চোখেই দেখত অনেকে। কিন্তু ক্যারিবিয়ানরা জানত, এই তাচ্ছিল্যের নজর থেকে বিশ্ব দরবারে নিজেদের তুলে ধরতে গেলে সেরা হয়ে দেখাতেই হবে। ১৯৭৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। তৎকালীন প্রুডেনশিয়াল কাপে ক্লাইভের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলতে নামে। সেবার মোটামুটি সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু ক্লাইভের ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাখির চোখ ছিল ওই বিশ্বকাপ। ক্লাইভ তাঁর অসাধারণ অধিনায়কত্বে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেরও সতীর্থদের উদ্বুদ্ধ করতেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্লাইভ নিজে ছিলেন দুরন্ত ফর্মে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করেন ম্যাচউইনিং ৫৩ রান। একটার পর একটা ম্যাচ জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌঁছে যায় ফাইনালে। মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া। শোনা যায় বর্ণবৈষম্যের মাঝে দাঁড়িয়ে সাম্যের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এই ফাইনালকে দেখতে শুরু করেন ক্যারিবিয়ানরা। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখতে থাকেন তাঁরা। আর সেই স্বপ্নের ক্যাপ্টেন স্যার ক্লাইভ।

আরও পড়ুন: ৭-১ গোলে জয় মোহনবাগানের, আনন্দে নজরুল যা করেছিলেন

১৯৭৫, ২১ জুন প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। লর্ড ক্লাইভ অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। মাত্র ৮৫ বলে ১২টা চার এবং ২টো ছয়ের সাহায্যে ১০২ রান করেন। ২৯২ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে এক ওভার বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তখন একদিনের খেলায় ৬০ ওভার। ক্লাইভ ১২ ওভার বল করে ৩৮ রানে এক উইকেট নেন। ক্যাপ্টেন ক্লাইভ লয়েডের ব্যাটে আর বলে এবং অধিনায়কত্বে ভর করে প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালের সেরাও নির্বাচিত হন তিনি। ম্যাচ শেষে সতীর্থদের কাঁধে চড়ে ক্লাইভের মাঠ পরিক্রমার সেই দৃশ্য আজও ফিরে ফিরে আসে টিভির পর্দায়। এর ঠিক ৪ বছর পর ১৯৭৯ সালে আবার ক্লাইভের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকী এর ৪ বছর পর ১৯৮৩ এর বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠে অধিনায়ক হিসেবে পরপর তিনবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করেন ক্লাইভ। কিন্তু সেবার ভারতের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারতে হয়।

আরও পড়ুন: দৃষ্টিহীন বলেই কি বৈষম্যের শিকার? প্রশ্ন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই স্বর্ণযুগের অধিনায়ক ক্লাইভ। ১৯ বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেট জীবনের শুরু হয়। ১৯৬৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর ব্র্যাবোর্ন স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় মোটা রিমের চশমা পরা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চির বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্লাইভের। প্রথম টেস্টেই যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। অভিষেকেই ভারতের মাটিতে এসে এইরকম সাহসী টেস্ট জেতানো ইনিংস দেখে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বুঝে যান, তিনিই ভবিষ্যতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেবেন। ১৯৭৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় ক্লাইভের। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই করেন সেঞ্চুরি এবং শেষ টেস্টে তাঁর কেরিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর ২৪২ রান।

তাঁর অধিনায়কত্বে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজ করতে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত, একটানা ২৭টি টেস্টে অপরাজিত থাকার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে ক্লাইভের। ৭৪টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেন তিনি। এর মধ্যে টানা ১০টি ম্যাচ জেতার রেকর্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার অধিনায়কত্ব করার রেকর্ড, টেস্টে সাত হাজার রান, শতাধিক টেস্ট খেলার কৃতিত্ব এবং পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করেন ক্লাইভ লয়েড।

আরও পড়ুন: বিশ্ব ফুটবলে অদ্ভুত চুক্তি: জার্মান স্ট্রাইকারকে প্লাস্টিকের বাড়ি উপহার ক্লাবের

১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ক্লাইভ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন এবং ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষবারের মতো একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন ক্লাইভ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি দৃষ্টান্ত রেখে যান ক্লাইভ, শেষ হয় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

আপডেট থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

 

আর্কাইভ: প্রেরণা   ক্লিনিক   ব্লগ   বিজ্ঞান   লাইফস্টাইল   খেলা   ভ্রমণ   অ্যাঁ!   এন-কাউন্টার

ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ‘অধিনায়ক’ ক্লাইভ লয়েড লিখলেন অরিঘ্ন মিত্র

এ এক অন্য অভিযানের প্রস্তুতি, ‘ফেরে নাই সুভাষ’! বিবিধ ডট ইন কন্ট্রিবিউটর

অরিঘ্ন মিত্র

যোগাযোগ: ফেসবুক

 


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।