বড়দিদি: লিখলেন শরৎচন্দ্র, বিপাকে পড়লেন রবীন্দ্রনাথ

বিবিধ ডট ইন: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার দরুন তিনি ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ নামে খ্যাত যার নাম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৭৬ সালে পনেরোই সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছিল শরৎচন্দ্রের। তিনি ৩০ টাকা বেতনে চাকরি পেয়েছিলেন।

কাজের সূত্রে তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন রেঙ্গুনে। হাতে মাত্র ৪০ টাকা নিয়ে তিনি রেঙ্গুন যাবার জাহাজে উঠে ছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বর্মা রেলের এজেন্ট জনসন সাহেবের অফিসে ৭৫ টাকা মাইনেতে একটা চাকরি  পান।

ছোটবেলা থেকেই শরৎচন্দ্র গান গাইতেন, তার গানের গলাটি ও ছিল বেশ ভালো। রেঙ্গুনে গিয়েও উত্তর বর্মার কিছু অঞ্চলে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর বেশে ঘুরে ঘুরে গান গাইতে থাকেন। রেঙ্গুন এর এক অফিসে তিনি চাকরি ও পান।বন্ধুদের অনুরোধে বেঙ্গল সোশ্যাল ক্লাবের সদস্য হন।  অফিসে তার গলার কন্ঠে অনেকে মুগ্ধ হন।

১৯০৫ সালে কবি নবীনচন্দ্র সেন রেঙ্গুনে এসেছেন, তাঁর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে , ঠিক করা হয়েছে শরৎচন্দ্রকে গান গাইতে হবে। শরৎচন্দ্রকে গান গাওয়ার জন্য অফিসে হুল্লোড় পড়ে যায় অনেকে আবার আগেভাগেই অফিস ছুটি নেওয়ার কথাও ভেবে নেন।

অনুষ্ঠানে শরৎচন্দ্র উদ্বোধনী সংগীত গেয়ে সেখান থেকে চলে যান। কবি নবীনচন্দ্র সেন তাঁর এই কন্ঠ শুনে খুবই মুগ্ধ হন এবং শরৎচন্দ্রের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু শরৎচন্দ্র তাকে দেখা দেননি তার আগেই তিনি ওখান থেকে চলে এসেছিলেন।

শরৎচন্দ্রের কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের গানগুলি এতই সুন্দর সুমধুর শুনতে লাগতো যে তাতে রেঙ্গুনের বাঙালীরা আনন্দে মেতে উঠতেন। কিন্তু কখনোই শরৎচন্দ্রের খ্যাতির কোন লোভ ছিল না। তিনি বরাবরই নিজেকে আড়াল রাখতে ভালবাসতেন। ১৯০৭ সালে তাঁকে না জানিয়ে ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত করা হয় ‘বড়দিদি’। শরৎচন্দ্র তাঁর লেখা গুলি রেঙ্গুনে আসার পূর্বে কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে রেখে গিয়েছিলেন । তিনি তাঁর লেখা ছাপানোর জন্য মত দেবেন না জেনেই তাকে আড়াল করে লেখাটি ছাপানো হয়।

অনেকে মনে করেছিলেন এই ‘বড়দিদি’ লেখাটি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ছদ্মনাম ব্যবহার করে। রবীন্দ্রনাথ নিজেও ‘বড়দিদি’পড়ে খুবই আপ্লুত হয়ে ছিলেন। এতো কিছু হয়ে যাবার পরে শেষ পর্যন্ত ভারতী পত্রিকা শরৎচন্দ্রের নাম প্রকাশ করে।

এই মানুষটি যশ-খ্যাতি এসবের পিছনে কখনোই দৌড়াননি। নিজেকে বরাবরই এইসবের থেকে দূরে রাখতে ভালোবাসতেন শরৎচন্দ্র।

লিখেছেন আকাশ চৌধুরি

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: