অনলাইন ক্লাস করতে পাহাড় চড়ছে স্কুলছাত্র, সাহায্যের আশ্বাস সেহবাগের

অনলাইন ক্লাস করতে পাহাড় চড়ছে স্কুলছাত্র, সাহায্যের আশ্বাস সেহবাগের

বিবিধ ডট ইন: সব বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি। নেই ঠিকঠাক ইন্টারনেট পরিষেবাও। কিন্তু থেমে নেই রাজস্থানের পাচপদ্র গ্রামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হরিশের পড়াশোনা। স্কুলের অনলাইন ক্লাস করতে রোজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে আস্ত পাহাড়ের শিখরে পৌঁছে। এই স্কুলছাত্রকে সাহায্যের আশ্বাস সেহবাগের । কোভিড ১৯ ভাইরাসের জেরে লকডাউনের ফলে স্কুলের পঠনপাঠন যখন অনলাইন মাধ্যমকেই প্রধান অবলম্বন করেছে, তখন হরিশের এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে ভারতবর্ষে গ্রামীণ প্রযুক্তিগত কাঠামো কতটা দুর্বল।

করোনার জেরে গোটা দেশেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পঠনপাঠন বন্ধ থাকার ফলে ইন্টারনেটের সাহায্যে অনলাইন ক্লাসকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। জহর নভোদয়া বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে হরিশ। তার স্কুলেও এর অন্যথা হয়নি। কিন্তু তার গ্রামে মোবাইল নেটওয়ার্ক কিংবা ব্রডব্যান্ডের মতো ইন্টারনেট পরিষেবাই পৌঁছায়নি। উপায় না দেখে হরিশ তার দাদার সঙ্গে বইপত্র টেবিল চেয়ার হাতে করে সঙ্গে নিয়েই রোজ সকাল ৭টার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। একটা পাহাড়ের চূড়ায় পায়ে হেঁটে পৌঁছায়, যেখান থেকে নেটওয়ার্ক পরিষেবা পাওয়া যায়। ক্লাস শেষ করে আবার দুপুর দু’টো নাগাদ পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে। ঝড়, জল, বৃষ্টির মধ্যেও হরিশ এইভাবে পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে ক্লাস করে। এমনকী, পাহাড়ের চূড়ায় অতি তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও সে কোনওদিন অনলাইন ক্লাস করা থেকে বিরত থাকেনি। হরিশ বলে ‘এখন আমাদের পঠনপাঠন বন্ধ। তাই অনলাইন ক্লাস যদি না করি আমার পড়াশোনার ক্ষতি হবে। সেইজন্যেই একটা ক্লাসও মিস করতে আমি চাই না।’

আরও পড়ুন: পাখির সুরক্ষার কথা ভেবে বন্ধ রাস্তার আলো, বেনজির সিদ্ধান্ত এই গ্রামের

হরিশের এই ঘটনা প্রথম স্থানীয় এক সাংবাদিক সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান। নেটদুনিয়ায় নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হরিশের পড়াশোনার প্রতি এই নিষ্ঠা, ভালবাসা এবং কঠোর পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহবাগ মোহিত হয়েছেন হরিশের এই কীর্তিতে। তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘রাজস্থানের এই হরিশ নামের ছেলেটির পরিশ্রম অবাক করার মতো। রোজ পাহাড়ের শিখরে পৌঁছে অনলাইন ক্লাস করে, যাতে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া যায়। ওর এই নিষ্ঠা প্রশংসাযোগ্য। আমি ওকে সাহায্য করতে চাই।’

আরও পড়ুন: ‘লেটার ফ্রম এ স্ট্রেঞ্জার’, হাতে লেখা চিঠি পেতে পারেন আপনিও

বড় হয়ে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসার ইচ্ছে হরিশের। সে আরও বলে, ‘আমি জানি না প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কতটা কী করতে পারব। তবে আমি নিশ্চিত, ভারতবর্ষের প্রত্যেকটা প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে প্রযুক্তির সুযোগ সুবিধা নেই, সেখানে আমি প্রযুক্তির সমস্ত সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।’ (অনলাইন ক্লাস করতে পাহাড় চড়ছে স্কুলছাত্র, সাহায্যের আশ্বাস সেহবাগের)

আপডেট থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

 

আর্কাইভ: প্রেরণা   ক্লিনিক   ব্লগ   বিজ্ঞান   লাইফস্টাইল   খেলা   ভ্রমণ   অ্যাঁ!   এন-কাউন্টার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *