উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির টিকিটে সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখালেন কাফিল খান

 

বিবিধ ডট ইন: এবার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিলেন ড. কাফিল খান। আগস্ট মাস, ২০১৭। গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে তখন তীব্র অক্সিজেন-সংকটে মারা যায় ৬৩ টি শিশ। আর সেই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেই নিজের খরচায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে প্রায় ৩০ জন শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। যদিও উত্তরপ্রদেশ সরকারের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকেই।

গোরক্ষপুরের সরকারি হাসপাতালের নির্বাসিত শিশু চিকিৎসক ডা. কাফিল খান-সহ ১৮ জনকে উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধান পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করল সমাজবাদী পার্টি। দেওরিয়া-কুশীনগর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কাফিল। ৯ এপ্রিল হবে ভোট গ্রহণ। গণনা ১২ এপ্রিল।

২০১৭ সালের আগস্ট৷ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কেন্দ্র গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয় ৬৩ জন শিশুর। দীর্ঘদিন সরকারের তরফে অক্সিজেনের বিল না মেটানোর ফলে সরবরাহকারীরা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় পরিষেবা। বিপদের আগাম আশঙ্কা সত্ত্বেও সরকার কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই অবস্থায় ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও ছুটে আসেন ড. কাফিল খান। নিজের আমানত ও পরিচিতদের সাহায্যে কিছু অক্সিজেন জোগাড় করতে পারলেও বাঁচানো যায়নি কাউকে।

এর পর ২০২০ সালে সিএএ’র বিরুদ্ধে বক্তৃতা দেওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করে জাতীয় সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। যদিও আটমাস হাজতবাসের পর এলাহাবাদ হাইকোর্টে সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। গোরক্ষপুর শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নিযুক্ত তদন্ত কমিটি ২ বছর আগেই কাফিল খানের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দেয়। যদিও পরবর্তীতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

গত মঙ্গলবার লখনউয়ে সপা প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন কাফিল খান। তাঁর হাতে গোরক্ষপুর হাসপাতালে মর্মান্তিক শিশুমৃত্যু সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়ার কথা টুইট করে জানান ওই চিকিৎসক। তারপরই সপার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিধান পরিষদের জন্য কাফিল তাঁদের প্রার্থী হচ্ছেন।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: