স্টেপ আউটে একের পর এক ছক্কা, নেপথ্যে একাই একশো রূপসা

এখনই শেয়ার করুন

 

বিবিধ ডট ইন: এই কোভিড পরিস্থিতিতে ডিজিটাল অথবা অনলাইন কনসার্টের হাত ধরে একটি নতুন আঙ্গিক পেয়েছেন শিল্পীরা। লকডাউন মধ্যবর্তী সময় যখন সমস্ত অনুষ্ঠান বন্ধ ছিল তখন বহুশিল্পী অনলাইন কনসার্টের রাস্তায় হেঁটেছেন এবং সফল হয়েছেন। অনেকেই বলেন, রূপম ইসলাম এর একক অনুষ্ঠান অনলাইন কনসার্টে হওয়ার পর বহু শিল্পী এই মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বিশেষত রূপমের অনুষ্ঠানের প্রোডাকশন উল্লেখযোগ্যভাবে সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মধ্যে। মঞ্চসজ্জা, আলো থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড ভিজুয়াল প্রোজেকশন— সব মিলিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানটি। নেপথ্যে থেকে যিনি এই গুরুদায়িত্ব সামলান, যাঁকে নিয়ে হয়তো আলোচনাও হয় না সেভাবে, তিনি রূপসা দাশগুপ্ত। তিনি ফসিলসের ম্যানেজার তথা রূপম ইসলামের স্ত্রী।

নিজেদের বাড়ির একটি ছোট ঘরের মধ্যে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তিনি, নেপথ্য শিল্পী হয়ে। গান এবং গান আনুষঙ্গিক কথার বিভিন্ন সময় রূপমের পেছনে থাকা সাদা পর্দায় ফুটে ওঠে বিভিন্ন ছবি, গ্রাফিক্স, ভিডিও, আঁকা। রূপসা এই সমস্ত ছবি, গ্রাফিক্সের অধিকাংশই নিজে হাতে তৈরি করেন এবং অনুষ্ঠানের সময় প্রোজেক্টরের মাধ্যমে সেগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। রূপমের সবকটি শো-এর পরেই বিভিন্ন শিল্পীমহল এবং দর্শকদের মুখে রূপসার এই কর্মকাণ্ড প্রচুর প্রশংসিত হয়। এমনকী, রূপমের শো-এর রিভিউয়ের লেখাতেও দর্শকরা রূপমের পারফরম্যান্স-এর পাশাপাশি রূপসার এই কাজের প্রশংসা করেন।

১২ ফুট বাই ১২ ফুট একটা ঘরের মধ্যে থেকে উচ্চগুণমান সম্পন্ন সাউন্ড, ভিডিও কোয়ালিটি, অনলাইন স্ট্রিমিং— এসবকিছু সম্ভব করেন রূপম এবং রূপসা। রূপসা এই সমস্তটাই একা হাতে পরিচালনা করেন। এই কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিবিধ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রূপসা জানালেন,

আমার কাছে এই কাজটা খুব একটা নতুন নয়। হয়তো রূপমের শো-তে সেইভাবে করা হয়নি কারণ অনলাইন মাধ্যম সেভাবে ছিলনা। কিন্তু আমি অনেক কম বয়স থেকে টেলিভিশননের সঙ্গে যুক্ত এবং লাইভ প্রোডাকশনের বিভিন্ন কাজ করে এসেছি। তাই এই কাজটা করতে আমার খুবই ভালোলাগে।

 

রূপম যেমন প্রতিটা অনলাইন কনসার্ট সংস্করণেই নিরন্তর নিজেকে ছাপিয়ে চলেছেন, ঠিক তেমনই রূপসার কাজও একে অন্যের থেকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে এবং এর জন্য প্রস্তুতি কীভাবে নিয়ে থাকেন তা জানতে চাইলে রূপসা জানান,

যতদিন গেছে, আমরা প্রোডাকশনের জন্য আরও বেশি ইনভেস্ট করেছি। প্রথম অনুষ্ঠানে আমরা প্রোজেক্টারে প্রোজেকশন করতে পারতাম না, সেটা নয়। কিন্তু আমাদের সেই পরিকাঠামো ছিল না। প্রথমবার জানতাম না কেমন দর্শক হবে। কিন্তু দেখলাম অনেকেই দেখতে চাইছেন। সেই মতো পরবর্তী অনুষ্ঠানে আরও পরিকাঠামো নিয়ে আসা হয়। এছাড়া প্রথমদিকে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা হচ্ছিল, যার কারণ বোঝা যাচ্ছিল না। প্রথম অনুষ্ঠানে অনেক সময়ই আউট সিংক হয়েছিল আমাদের। এক-দুটো অনুষ্ঠান পরই সে সমস্যাগুলো বুঝে যাই। এইভাবে অভিজ্ঞতা কিছুটা হয় এবং প্রোডাকশনও আরও ভাল হতে থাকে।

শিল্পীর পারফরম্যান্স করা একটা আলাদা বিষয় কিন্তু নেপথ্য শিল্পী হিসেবে সঠিক সময় সঠিক চিত্র প্রদর্শিত করা আবার একই হাতে লাইট, সাউন্ড, ক্যামেরা পরিচালনা করা যথেষ্ট কঠিন সাপেক্ষ। আবার রূপম বলেন, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই রূপসা নেপথ্য চিত্র যেটা প্রোজেক্টরে দেখানো হয় সেটা নির্মাণ করেন। এর জন্য দর্শকাশনে বসে বহুমানুষ রূপসার এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

কতটা চ্যালেঞ্জিং রূপসার কাছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বললেন,

অনেকেই জানে না আমি এসেছিই টেলিভিশন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। মাধ্যম আলাদা হলেও এই কাজটা আমার কাছে নতুন এবং খুব শক্ত নয়। আগেও আমি করতাম এমন কাজ। সেটা জানলে হয়তো সবাই এতো অবাক হতো না। এটা ঠিক প্রথমে জানতাম না সবটা, একা হাতে সবটা করতে পারবো কিনা। কিন্তু অভিজ্ঞতা থাকায় খুব কঠিন মনে হয়নি। আমি যে টেলিভিশন চ্যানেলে যুক্ত ছিলাম সেটাতে কোনও বিরাট কর্পোরেটদের সাহায্য ছিল না। আমরা অনেক স্বল্প খরচে প্রোডাকশন করতাম এবং সফল হতাম। অন্যান্য অনেক চ্যানেলের থেকে টিআরপি-ও বেশি থাকত আমাদের। সেই অভিজ্ঞতাই এখানে কাজে লেগেছে। আর অল্প সময়ে করি কী করে, যদি জিজ্ঞেস করা হয়, তাহলে বলব, টেলিভিশনেও তো এমন কিছু বেশি সময় পেতাম না। খবরের খবরের ক্ষেত্রে তো সময়ই থাকে না। এখানেও সেভাবেই করে নিই আমি, খুব কঠিন লাগে না। আমরা অনুষ্ঠানের আগে একদিন রিহার্সাল করি সেটাতেই হয়ে যায়।

 

রূপসার কাজে উচ্ছ্বসিত হয়ে অনেকেই অনুষ্ঠান চলাকালীন কমেন্টবক্সে রূপসাকে ক্যামেরার সামনে আসতে অনুরোধ করেন। রূপসা কখনওই অনুষ্ঠানের মাঝে নেপথ্যশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে আসেন না। রূপসা বললেন,

সিনেমাটোগ্রাফার, ডিরেক্টরদের কখনও সেভাবে ক্যামেরার সামনে আসতে দেখা যায়? আমি ক্যামেরার পেছনের মানুষ আমি সেটাই থাকতে চাই। কেউ যদি আসতে বলেও তাহলে আমায় সামনে আসতেই হবে বলে আমার মনে হয় না।

 

অনলাইন কনসার্টে যেমন দর্শকদের ভিড় পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনভাবেই অডিটোরিয়ামের মঞ্চে এই ভিজ্যুয়াল দিকটা আগে কখনও পাওয়া যায়নি। রূপম ইসলাম একক অডিটোরিয়ামের মঞ্চে ফিরলে রূপসাকে কি নেপথ্য শিল্পী হিসেবে পাওয়া যাবে? সে প্রসঙ্গে রূপসা বলেন,

রূপম চায় যেন আমি লাইটটা করি। কিন্তু এখানে আমি যেভাবে করি সেটা সম্পূর্ণই একটা ছোট সেটআপ। এমনকী, রূপ-এর একটা পড়াশোনার বোর্ড নিয়ে আমরা ওপরে লাইট নিয়ন্ত্রণ করি। কিন্তু অডিটোরিয়ামে অন্যরকম ব্যবস্থা থাকে। সেখানে করতে পারব কিনা জানি না। আর বড় মঞ্চের জন্য প্রোজেক্টরও আলাদা থাকে। এই সেটআপ ওখানে চলবে না। কিন্তু যদি দর্শকদের চাহিদা থাকে ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্রিনে প্রোজেকশন এবং আমাদের মনে হয় সেটা দরকার তাহলে নিশ্চয়ই এই চিন্তাভাবনা আমরা করব। আমার করতে ককোনও অসুবিধা হবে না।

 

অনলাইন কনসার্টের সংস্করণে রূপসাকে অন্যরূপে পেয়েছেন দর্শকরা। রূপম ইসলাম একক অডিটোরিয়ামে ফিরলে রূপসাকে সেই এক ভূমিকায় পাওয়া যায় কিনা সেই অপেক্ষায় তাকিয়ে অনেকেই। আপাতত এটা বলাই যায়, রূপম ইসলাম একক নিয়ে রূপমের পাশাপাশি রূপসার ভূমিকা নিয়ে দর্শকদের অধিকাংশই মেতে উঠেছে। রূপসার কাজের প্রশংসা শিল্পীমহলে মুখেমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আউটস্টেপে একের পর এক ছক্কা, নেপথ্যে একাই একশো রূপসা লিখলেন অরিঘ্ন মিত্র।


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।