দূষণের দাওয়াই, প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হল রাস্তা!

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন:  প্লাস্টিকজাত পদার্থ থেকে বিশ্বব্যাপী দূষণ যখন মানবজাতির কাছে এক বিশেষ গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই সময় পূর্ব ভারতের রাজ্য ত্রিপুরা, সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করল। প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা তৈরি করা হল ত্রিপুরায় এবং তা উদ্বোধন করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। (দূষণের দাওয়াই, প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি হল রাস্তা!)

তিনি বলেন, “ত্রিপুরায় এই প্রথমবার পুনর্ব্যবহারের যোগ্য প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থেকে রাস্তা তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যার মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিক মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।

রাস্তাটির উদ্বোধনের সময় এএনআই(ANI) কে তিনি বলেন, “ত্রিপুরায় এই প্রথম প্লাস্টিকজাত বর্জ্য সংগ্রহ করা ও পুনর্ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হয় এবং ৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয় বি.কে রোডের নিকটবর্তী মহিলা কলেজের সামনে।ত্রিপুরায় এই ধরণের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হলো এবং এর মাধ্যমে কীভাবে প্লাস্টিক বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যায় এবং প্লাস্টিক মুক্ত পরিবেশ তৈরী করা যায় সেদিকে নজর রাখবো।”

ত্রিপুরার ‘স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট’ গুলির একটি হলো এই অভিনব প্রচেষ্টা। এই ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। এটি একটি প্রচেষ্টা মাত্র যার সাফল্যের পরে ভবিষ্যতে এই ধরণের প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থেকে রাস্তা তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েও ত্রিপুরা সরকার যথেষ্ট ইতিবাচক বলে জানা গেছে যার ফলে অনুমান করা যায় যে পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা কিছুটা হলেও কমানো যাবে।

বর্তমান জীবনযাত্রায় প্লাস্টিকজাত দ্রব্যের চাহিদা আকাশছোঁয়া এবং এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহার করা না গেলে তা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর ঘোরতর প্রভাব ফেলে তাই সমগ্র বিশ্বের বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা যথেষ্ট চিন্তিত। এই ধরণের উদ্যোগের ফলে কিছুটা হলেও দূষণ কমানো সম্ভব হবে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “প্লাস্টিকজাত দ্রব্যের সাথে বিটুমেন মিশ্রিত করে রাস্তা তৈরীর প্রভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে বিশেষত বর্ষাকালে যেসব স্থানে জল জমার মতো সমস্যা রয়েছে সেসব স্থানে, সে ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আগরতলা পৌর প্রতিষ্ঠানের তরফে দিনে প্রায় ১৯ টন প্লাস্টিকজাত দ্রব্য উৎপন্ন করা হয়। এই ধরণের উদ্যোগের ফলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে সুবিধা হবে প্লাস্টিক দূষণ কম করতে।

এই ধরণের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতেই হয় কারণ এই ধরণের সিদ্ধান্তের ফলে কিছুটা হলেও সত্যিই প্লাস্টিক বর্জ্যকে মানবকল্যাণের স্বার্থে কাজে লাগানো যাবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রসার ও পন্থা বৃদ্ধি পাবে আশা করা যায়।

 

লিখলেন সায়নী বন্দ্যোপাধ্যায়


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *