মেঘালয়ের জঙ্গলে বিরল প্রজাতির মাশরুমের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিবিধ ডট ইন: মেঘালয়ে বিশেষ প্রজাতির Bioluminescent মাশরুম আবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে মোট আবিষ্কৃত ১২০,০০০ প্রজাতির ছত্রাকের মধ্যে মাত্র ১০০ প্রজাতির মাশরুম Bioluminescent, যা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।

গতবছর আগস্ট মাসে আসামের বালিপাড়া ফাউন্ডেশন এবং চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সের যৌথ উদ্যোগে মেঘালয়ের বিভিন্ন জঙ্গলে এই বিরল প্রজাতির মাশরুমের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা।

সঙ্গে থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

গত বছর বর্ষাকালে আগস্ট মাস নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তীয়া জেলার উদ্দেশ্যে রওয়া দেন ভারত ও চীনের একদল মাইক্রোবায়োলজিস্ট। প্রায় দুই সপ্তাহ গভীর জঙ্গলে পর্যবেক্ষণের পর শুকিয়ে যাওয়া বাঁশের গায়ে এই বিশেষ প্রজাতির মাশরুম আবিস্কার করেন তাঁরা।

পরবর্তীতে গবেষণায় জানা যায় ভারতে এই প্রথম Bioluminescent প্রজাতির মাশরুম আবিস্কৃত হল মেঘালয়ে। পশ্চিম জয়ন্তীয়া জেলার ক্রাং শুঁড়ি অঞ্চল ছাড়াও মাওলান্নংয়ের একটি ঝর্নার ধারে এই মাশরুম খুঁজে পান বিজ্ঞানিরা যার বিজ্ঞানসম্মত নাম Roridomyces phyllostachydis। তাঁরা জানিয়েছেন স্থানীয়রা রাতে জঙ্গলে চলাফেরা করার জন্য প্রাকৃতিক টর্চ হিসেবে ব্যাবহার করে থাকেন এই মাশরুম। গবেষক দলের সাথে থাকা ফটোগ্রাকার স্টিভ অক্সফোর্ডের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই ছবি।

অসমের বালিপাড়া ফাউন্ডেশনের অন্যতম এবং এই অভিযানের সহযোগী মাইক্রোবায়োলজিষ্ট গৌতম বড়ুয়া জানান শুকনো বাঁশের উপর এই মাশরুম দেখে তাঁরা প্রথমে সন্দেহ করেছিলেন এটা এক প্রকার বিরল প্রজাতির মাশরুম হতে পারে যা আগে ভারতে খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ পরে আরও খুঁটিয়ে গবেষণার পর জানা যায় Roridomyces গোত্রীয় এই মাশরুম ভারতে প্রথম আবিস্কৃত হল তা নিয়ে নিশ্চিত হন তাঁরা।

চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সের সিনিয়র মাইক্রোবায়োলজিষ্ট সামান্থা কারুনাথানা বলেন ‘মরা বাঁশ গাছের উপরেই এই মাশরুম পাওয়া যায়। কেবল মাত্র মরা বাঁশের উপর কেন এই মাশরুম বৃদ্ধি পায়, তা নিয়ে আরও বিশদে গবেষণা প্রয়োজন।’

লিখেছেন সায়ন্তন মণ্ডল

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: