হেরিটেজ তকমা পাচ্ছে শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ ও রামানন্দের বসতবাড়ি

 

বিবিধ ডট ইন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শেষে এবার হেরিটেজ তকমা পেতে চলেছে শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজ এবং রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বসতবাড়ি। চলতি বছর জুলাই মাসেই বাঁকুড়া জেলার এই দুই বিশ্ববরেণ্য সন্তানের বাড়ি পরিদর্শন করেন রাজ্য হেরিটেজ কমিটির প্রতিনিধি দল৷

দীর্ঘদিন ধরেই রবীন্দ্রনাথ ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের বসতবাড়িকে হেরিটেজ তকমা দেওয়ার দাবি উঠেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবিতে আন্দোলনেও সামিল হয়েছিলেন বাঁকুড়াবাসী৷ বুধবার সন্ধেবেলায় বাঁকুড়া পুরসভা কর্তৃপক্ষকে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন চিঠি দিয়ে জানান, বাঁকুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী জেলার ওই দুই ঐতিহ্যপূর্ণ প্রাচীন বাড়ির ঐতিহ্যরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁরা উদ্যোগী হচ্ছেন। শীঘ্রই তাঁরা আইন মোতাবেক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়টি জানিয়ে দেবেন।

এ প্রসঙ্গে বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার বলেন, ‘বাঁকুড়া শহরের এই দুই ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি বহুদিনের। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কিছুদিন বাদেই বাঁকুড়া পাঠকপাড়ায় প্রবাদপ্রতিম সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং শহরের যুগিপাড়ার রামকিঙ্কর বেইজের বাড়ি হেরিটেজ ঘোষণা করা হবে।’

১৯০৬ সালের ২৫ মে বাঁকুড়া শহরের যুগীপাড়ায় এক নাপিত পরিবারে রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম। একেবারে ছোটো বেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল। কুমোর পাড়ায় মূর্তি তৈরী করা দেখে সেকাজেও হাত লাগান তিনি। জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে পোষ্টারও লিখতেন। রামকিঙ্কর যুগীপাড়ায় টালির ছাউনির ঘরে থাকতেন। সেই ঘর এখন আর নেই। তিনি ছিলেন অবিবাহিত। পরিবারে এখন রয়েছেন তাঁর ভাইয়ের বংশধরেরা। রামকিঙ্কর ও রামানন্দের জন্মভিটেকে এখনও অনেকেই দেখতে আসেন। তা সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের। তারসঙ্গে হেরিটেজ স্বীকৃতির দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদিকা তথা অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হেরিটেজ কমিশনের কাছে এব্যাপারে আবেদন জানান। তার জেরে এদিন হেরিটেজ কমিশনের দু’জন প্রতিনিধি বাঁকুড়ায় আসেন।

১৮৬৫ সালে সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। বাঁকুড়া শহরের পাঠকপাড়ায় তাঁর বাসভবন রয়েছে। তিনি প্রবাসী ও মডার্ন রিভিউ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। পাশে যুগীপাড়ায় ১৯০৬ সালে জন্মেছিলেন চিত্রশিল্পী তথা ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ। বর্তমানে তাঁর জন্মভিটেয় বসবাসের চিহ্ন সেভাবে কিছুই নেই। রামকিঙ্করের স্মৃতি ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুই মনীষীর সঙ্গেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠতা ছিল।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: