গুরুশিষ্য: রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন: তৎকালীন কলকাতা থেকে আড়াই ক্রোশ দূরে ১২৬২ বঙ্গাব্দে ১৮ জ্যৈষ্ঠ (ইংরাজি ৩১ মে, ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ) প্রতিষ্ঠিত হল দক্ষিণেশ্বর কালী বাড়ি। দিনাজপুর জমিদার সেই সময় মন্দির নির্মাণের জন্য ২,২৬,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করেন। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা পণ্ডিত রামকুমার কালীবাড়ির প্রথম পূজারী হিসেবে নিয়োগ হন। তখন তার বয়স ২১/২২ হবে। (গুরুশিষ্য: রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ)

আত্মীয়রা ঠাকুরের বিবাহ দিলেন ঠিক এমন সময়। ভাবলেন বিয়ের পর তাঁর চঞ্চলতা ও উন্মাদনার অবসান ঘটবে। কামারপুকুর থেকে দুই ক্রোশ দূরে জয়রামবাটিতে রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কন্যা শ্রী শ্রী সারদা রাণী দেবীর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হল। সালটা তখন ১৮৫৯। ঠাকুর তখন ২২/২৩ আর শ্রী মা মাত্র ৬। বিবাহের পর অবস্থার উন্নতি হল না বিন্দুমাত্ৰ। বর্তমান সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সারদা রাণীর মধ্যে খুঁজে পেলেন মা-কে। তাঁর ভক্তি পরিণত হলো সমাধিতে। ভাবসমাধি। কালী বিগ্রহর মধ্যে দর্শন করতেন ঈশ্বরের রূপ, মহিমা, মাহাত্ম্যকে।

মন্দিরের সেই ঘর। আশাকরি দেখেছেন সকলে। প্রত্যেক বিকেলে ঠাকুর তাঁর শিষ্যদের নিয়ে যেতেন এক অন্য জগতে। ঠাকুর উপবিষ্ট হতেন খাটে আর শিষ্যরা মাটিতে। সেই দৈবপুরুষের অমৃত পান করে তৃপ্ত হতেন সকল শিষ্য। আনন্দের সঞ্চার ঘটত সকলের অন্তরে। পূর্ণিমার চাঁদের নিয়ন আলো নদীর জলকে দিল আহোম, এ যেন ঠিক তাই।

এমনই এক বিকেলে ঘরে উপস্থিত রয়েছেন সকলে। এমন সময় ঠাকুরের ঘরে প্রবেশ করলেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত। যুবকে দেখা মাত্র ব্যাকুল হয়ে ওঠেন ঠাকুর। যেন এতদিন ধরে যুবকের জন্যই অপেক্ষারত সে। ‘আয়… আয়’ বলে আপন করে নিলেন ঠাকুর। যেন বহু দিন ধরে চেনেন। কিন্তু যুবকের তখনও মনে ধরেনি ঠাকুরকে। দু’জনের মধ্যে আলাপচারিতা, চলছে এমন সময় কে যেন পাশ থেকে বললেন, যুবকের গানের গলা খুব ভাল। সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুর যুবকের কাছে শিশুর মতো একটি গানের আবদার জুড়ে বসলেন। যুবক এক কথায় রাজি। শুরু হল সঙ্গীত।

যুবকের কণ্ঠস্বরে বশীভূত ঘরের সকলে। ঠাকুরের তখন দু’চোখ বেয়ে জল। গান চলছে তখনও। এমন সময় সমাধিস্থ হলেন। শরীরে কোনও স্পন্দন নেই। নেই কোনও অনুভূতি। সেই দিন দুই সাগরের মোহনায় স্নান করেছিলেন ঘরে উপস্থিত সকলে।

ঘরের বাইরের পুকুরে পারে নরেনের হাত ধুয়ে দিচ্ছেন ঠাকুর।
ঠাকুর বলেন, ‘এতদিন বাদে বাদে কেন আসিস। ওই দিকের কাজ গুলো কমা। এবার আসাটা একটু বাড়াতে হবে। মায়ের শরণাপন্ন হতে হবে। বুঝলি কী বললাম!’
নরেন নির্বাক !
ঠাকুর আবারও বলেন, ‘কী রে বুঝলি!’
এরপর নরেন দীপ্ত কণ্ঠে জবাব দেন, ‘ভেবে দেখব।’
ঠাকুর হেসে ওঠেন।

লিখলে অর্পিত চৌরাশিয়া


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *