সদ্যোজাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই! সামাজিক বয়কটের মুখে পরিবার

 

বিবিধ ডট ইন: ‘রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা, এমন কেন সত্যি হয়না আহা!’ তবে আজ ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে এমন নির্মম সত্য ঘটনাটা বোধহয় না ঘটলেও পারতো। সদ্যজাত শিশুকন্যাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ‘অভিযোগে’ ঊড়িষ্যায় সামাজিক বয়কটের মুখে সে রাজ্যের কেওনঝাড় জেলার এক আদিবাসী পরিবার! সদ্যোজাত সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নাকি তাদের ঐতিহ্য বিরুদ্ধ, যার জন্য নবজাতকের পিতা-মাতা আজ বঞ্চনার শিকার সমাজের কাছে!

কেওনঝার জেলার যুগলকিশোরপুর গ্রামের ২২ বছর বয়সী গুনারাম মুর্মু এবং তাঁর স্ত্রী সুগি মুর্মু অক্টোবর মাসের ২৯ তারিখ একটি শিশু কন্যার জন্ম দেন। প্রসব যন্ত্রনা ওঠার পর গুনারাম অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন স্ত্রীকে মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন বলে। যদিও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে বাড়িতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সুগি মুর্মু।

প্রসবের পর মা ও সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালে নিয়ে যাবার সময় আপত্তি জানান গ্রামবাসীরা। গুনারামের কথায়,

গ্রামের প্রধান ও অন্যান্যরা বলেন, প্রথা অনুযায়ী কোনো মহিলাকে সন্তান প্রসবের পর হাসপাতালে পাঠানোর অর্থ গ্রামকে অপবিত্র করা হয়। গ্রামের শুদ্ধিকরণের জন্য আমাকে তিনটি মোরগ, হান্ডিয়া (একটি স্থানীয় মদ) এবং কিছু পূজার উপকরণ দিতে বলা হয়েছিল। আমি এই ধরনের কুসংস্কার নিজে বিশ্বাস করি না। তাই আমি তাদের যাবতীয় প্রস্তাব গুলিকে প্রত্যাখ্যান করেছি।

গ্রামবাসীদের কথা না শোনায় সামাজিক বয়কটের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এরপরেই ১ নভেম্বর ঘাসিপুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গুনারাম। ঘাসিপুরা থানার সাব ইনস্পেকটর মানসরঞ্জন পন্ডা জানান, গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে প্রশাসন।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: