‘আমি আর বাঁচবুনি’— ইতি মইদুল: অর্পণ গুপ্ত

এখনই শেয়ার করুন

মইদুল ইসলাম মিদ্দা। অটো চালাতেন। বাঁকুড়ার বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের নেতা। দরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রত্যেকটা দিন কয়েকটা টাকার জন্য সংগ্রাম করতেন। নবান্ন অভিযানে গিয়েছিলেন। না, কোনো ধর্ম, জাতপাতের দাবীতে না। রামমন্দির বা কোনো মসজিদের দাবীতে না। শিক্ষা, চাকরির দাবীতে।
'আমি আর বাঁচবুনি...', লড়াইয়ের মাঠ থেকে শেষবার বলেছিলেন মইদুল


একজন অটোচালক, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ বুঝেছিলেন এই দেশে শিক্ষা, চাকরীর গুরুত্ব কতখানি। নিজের আখের গোছাতে না, বাকি হাজার হাজার বেকারের চাকরীর দাবীতে, শিক্ষার দাবীতে, খাদ্যের দাবীতে!
গতকালই সংবাদপত্রে আমার যে লেখাটা বহু মানুষ পড়ে প্রশংসা করেছিলেন সেখানে লিখেছিলাম যে দেশের কোটিকোটি দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতিনিধি রঙিন পৃথিবীর তারকারা নন। তাই তাঁদের দায় নেই সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার।
'আমি আর বাঁচবুনি...', লড়াইয়ের মাঠ থেকে শেষবার বলেছিলেন মইদুল
ভারতের একশো কোটি গরিব অসহায় মানুষের প্রতিনিধি এই মইদুলরা। পুলিশের লাঠির আঘাতে লুটিয়ে পড়া মইদুলের শেষ কথাটা ছিল—
আমি আর বাঁচবুনি…
মইদুল শুধু মরল না, মইদুল আমাদের মতো প্রতিদিন যারা নিজের স্বার্থের বাইরে কিচ্ছু ভাবতে জানিনা তাদের বিবেকগুলো নিয়ে মরে গেল, যারা এরপরেও ‘সবেতে রাজনীতি আনবেন না’ বলে অরাজনৈতিক থাকার, সুবিধাবাদী থাকার নাটক করবেন তাঁদের আত্মদংশনটা নিয়ে মরে গেল, এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে যারা সচিন কেন টুইট করল কি করল না, ‘কোন নেতার ছেলের বিয়েতে কী মেনু হল’ নিয়ে উৎফুল্ল হবেন তাঁদের চেতনাগুলো নিয়ে মরে গেল…
‘আমি আর বাঁচবুনি…’, শেষবার বলেছিলেন মইদুল লিখলেন অর্পন গুপ্ত
অর্পন গুপ্ত

এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।