Mirzapur নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ফিরবেন না কালিন ভাইয়া!

বিবিধ ডট ইন: অবশেষে দু’বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান… চলতি মাসেই আমাজন প্রাইম ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রত্যাবর্তন ঘটল ‘মির্জাপুর’-এর দ্বিতীয় কিস্তির। ভারতীয় ওয়েব সিরিজ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ‘স্যাক্রেড গেম্‌স’ যদি হয় সচিন তেন্ডুলকর, ‘মির্জাপুর’ নিঃসন্দেহে সেরা ফর্মের বিধ্বংসী সেহবাগ। এই দু’বছর সব থেকে চর্চায় থেকেছে এই দুই সিরিজ। প্রথম সিজনের সফল আগ্রাসী ইনিংস-এর পর  ক্রিটিকরা অবশ্য নাক কুঁচকেছিলেন বিস্তর, বড্ড মোটা দাগের অতিসরলীকৃত লিনিয়ার স্টোরিটেলিং দেখে। চরিত্ররা ছিল বড্ড একমাত্রিক, কাজেই প্রেডিক্টেবিলিটি ফ্যাক্টরটি দিনরাতের ক্রিকেট ম্যাচে ডিউ ফ্যাক্টরের মতোই কোথাও পিছিয়ে দিচ্ছিল মির্জাপুরকে। তাই জনপ্রিয়তা পেলেও কালিন ভাইয়া কুলীন হচ্ছিলেন না। এখানেই গল্প শেষ ভাবছেন? খোদ কালিন ভাইয়া বলছেন, ‘কুছ লোগ বাহুবলী প্যায়দা হোতে হ্যায়। অউর কুছ কো বানানা পড়তা হ্যায়, ইনকো বাহুবলী বানায়েঙ্গে..’ (Mirzapur নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ফিরবেন না কালিন ভাইয়া!)

bibidho.in

করণ অংশুমান আর গুরমিত সিং সিদ্ধান্ত নিলেন, মির্জাপুর-এর সেকেন্ড এডিশনকে ক্রিটিকদের মাস্ক পড়া নাক আর কুঁচকাতে দেবেন না। সেক্স, ভায়োলেন্স, আফিম, কাট্টার কক্‌টেলে যোগ করলেন বহুমাত্রিকতার বরফ। শুধুমাত্র ডায়লগের ফুলঝুরি আর দাপুটে অভিনয়ের উপর নির্ভর না করে দ্বিতীয় সিজনের মেরুদণ্ড দাঁড়াল একটা বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্যের ওপর ভর করে। যার জন্য কালিন ভাইয়া বা মুন্না ত্রিপাঠি গতেবাঁধা একমাত্রিক ‘কালো’ খলনায়ক থেকে হয়ে উঠলেন এক একটি মাল্টিলেয়ার্ড ধূসর চরিত্র, যাঁরা লার্জার দ্যান লাইফ হওয়া সত্ত্বেও অনেক বেশি জীবন্ত। অন্তত টিপিক্যাল নন।

চাইনিজ ইয়িং-ইয়্যাং এর সাদাকালো বলয়ের মতোই ভালর মধ্যে খারাপের অবস্থান, আবার খারাপের মধ্যে ভাল— এটাই মনুষ্য জীবনের ধ্রুবসত্য। আর সেই সত্যেরই প্রতিফলন ঘটেছে মির্জাপুর-এর প্রতিটি চরিত্রে। প্রথম সিজনে আপাতদৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্ররাও ক্রমে খোলস খুলেছে। হয়তো ভবিষ্যতেও খুলবে। ভবিষ্যতে কেন? ‘পিকচার অভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত’।

যাইহোক, অসাধারণ সিনেম্যাটোগ্রাফি আর অ্যাকশন সিকোয়েন্স-এর দুই চাকায় ভর করে তরতর করে এগিয়েছে একটা পরিণত স্ক্রিপ্ট-এর গাড়ি। মাঝে মাঝেই হিউমার-এর অভিঘাত তাই রাস্তার খানাখন্দ বলে মনে হয়নি। বরং হিউমার এসেছে যাত্রাপথের সাইট সিইংয়ের মতোই উৎফুল্লতায়। আর শুধু চারিত্রিক বহুমাত্রিকতাই নয়, বিস্তার ঘটেছে গল্পের প্লটেও। মির্জাপুর-এর ছোট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে গল্পের গাড়ি পাড়ি জমিয়েছে বালিয়া থেকে বিহার। বিস্তারের পিঠোপিঠি তাই জন্ম নিয়েছে বিস্তর নতুন চরিত্র। তাই মির্জাপুর ২ নিছক রিভেঞ্জ ড্রামা হয়ে থাকেনি। নতুন-পুরাতন দ্বন্দ্বের পাশাপাশি মশলা জুগিয়েছে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক চাল, স্ক্যান্ডাল, বিশ্বাস ও বিশ্বাসঘাতকতা। অভিনয়ে আবারও চরিত্রাভিনেতারা সিক্সার হাঁকিয়েছেন। কালিন ভাইয়ার চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী আগেরবারের মতোই ভাস্বর। আলাদা করে নজর কাড়লেন গোলু চরিত্রে শ্বেতা ত্রিপাঠী। তবে এই সিজনের ‘ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ’ যদি দিব্যেন্দু ওরফে ‘মুন্না ভাইয়া’কে বলা হয়, তাহলে হয়তো ভুল হবে না। তিনি জমিয়ে ব্যাটিং করেছেন আর গোটা সিজন দাপিয়েছেন। আলি ফয়জল-এর ‘গুড্ডু পণ্ডিত’ও যথাযথ। দুই সিজন ফিনালের ক্লাইম্যাক্সের বুদ্ধিদীপ্ত সমাপতন ও সিরিজটির এক অন্যতম আকর্ষণ। একটি সামাজিক অনুষ্ঠান, অন্যতম প্রধান চরিত্রের মৃত্যু, একই দলের আর একটি অন্যতম প্রধান চরিত্রের গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য এক ‘খলনায়কের’ সাহায্যে পলায়ন। পলায়ন? নাকি শুরুর ইঙ্গিত?

তবে সবই কি ভাল?  ফাঁকফোকড় কি একদমই নেই? কিছু দৃশ্যে গানের ব্যবহার, ক্লিশে গল্পের মোচড়, বেশ কিছু লুপহোলস এই সিজনেও রয়েছে। তবে এই সিজন, আগের সিজনের তুলনায় অনেক বেশি সিজনড। তাই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য নির্মাতাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। দেখা যাক, সিজন থ্রি…

সিজন ২ নিয়ে কম কানাঘুষো হয়নি। শেষপর্যন্ত দু’বছর পর দেখা মিলিছে দ্বিতীয় কিস্তির। এরপর তৃতীয়ও? দর্শকদের বৃহৎ অংশের তা বুঝতে বাকি নেই। বিশেষত তাঁরা আঁচ করছেন, শেষ দৃশ্যে আহত অবস্থায় কালিন ভাইয়ার প্রস্থান দেখেই। যদি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়, তাহলে কী অপেক্ষা করছে আগামীতে? একই ছকের পুনরাবৃত্তি, না পুনর্নবীকরণ? ‘মার্ভেল ঢঙে’ পোস্ট ক্রেডিট সিন, সেই অপেক্ষার খিদে বাড়িয়ে দিল বহুগুণ। তবে পরিণতি যাই হোক, প্রতিশোধস্পৃহাই যে এই সিরিজের নেমেসিস, তা বলাই বাহুল্য। লালা তো বলেই গেছেন, ‘তকলিফ উনকি নেহি হোতি, যো চলে যাতে হ্যায়, তকলিফ উনকি হোতি হ্যায়, যো পিছে র‍্যাহ যাতে হ্যায়’।

মির্জাপুর সিজন থ্রি— কাউন্টডাউন স্টার্ট।

Mirzapur নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ফিরবেন না কালিন ভাইয়া! লিখেছেন কন্ট্রিবিউটর দীপ্তময় ভট্টাচার্য

কন্ট্রিবিউটর: দীপ্তময় ভট্টাচার্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *