মির্জা গালিব ও কলকাতা: এক অনন্য প্রেমকাহিনি

বিবিধ ডট ইন: আমরা অনেকেই জানি না যে, ভারতবর্ষ তথা বিশ্ববন্দিত কবি মির্জা গালিব কলকাতায় অনেক কাল থেকেছেন। কলকাতা নিয়ে বহুবার লিখেছেন এবং আক্ষরিক অর্থে কলকাতার প্রেমেই পড়েছেন।

দিল্লী ও আগ্রার পর সবচেয়ে বেশি সময় তিনি কলকাতাতেই কাটিয়েছেন। কলকাতার বিডন স্ট্রিটের সিমলা পাড়ায় থাকতেন। ‘সফর-ই-কলকাত্তাহ’য় তিনি তাঁর হাভেলি ১৩৩ নিয়েও লিখেছেন। তিনি বারবার বিভিন্ন প্রসঙ্গে কলকাতার মদ, কলকাতার নারী এবং কলকাতার ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে নিজের উত্তেজনা ব্যক্ত করতেন।

ব্রিটিশ শাসনকালে মুঘল সাম্রাজ্যের দ্রুত পতনের ফলে মুঘল সম্রাট ব্রিটিশদের পেনশনভুক্ত হয়ে পড়েন। মুঘল সাম্রাজ্য দিল্লী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। একই সাথে গালিবেরও পেনশন রদ হয়।

১৪২৬ সালে সেই পেনশন পুনরায় চালু করার অনুরোধ নিয়েই কলকাতার গভর্নর জেনারেলের কাছে আসেন মির্জা গালিব। তারপর থাকতে শুরু করেন হাভেলি নং ১৩৩-এ। গালিব তাঁর বাড়ির সামনে একটি জলাশয়েরও উল্লেখ করেন, যা আজ হেদুয়ায়, আজাদ হিন্দ বাগ সুইমিং পুল নামে পরিচিত।

দুর্ভাগ্যবশত তাঁর পেনশন চালু করার আবেদন খারিজ করা হয়, গালিবের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। আজ যখন আমরা দেখি সারা বিশ্বেই গালিবের সৃষ্টি নিয়ে পড়াশোনা,গবেষণা চলছে। মানুষ নানাভাবে গালিব ও তাঁর শায়েরিকে আবিষ্কার করছে। কিন্তু তিনিও জীবনানন্দ দাশের মতোই নিজের জীবিতকালে ন্যূনতম স্বীকৃতিও পাননি।

গুলজার পরিচালিত এবং নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘মির্জা গালিব’ নামক সিরিয়ালে আমরা দেখি কীভাবে নাসিরুদ্দিন আবেগতাড়িত হয়ে কলকাতার প্রতি তাঁর প্রেম, তাঁর মুগ্ধতা নিয়ে বলছেন।

গালিবের ‘হাজারো খোয়াইশে’র মধ্যে এই শহরে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়ার আকুতিও ছিল।

নাসিরুদ্দিন শাহ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি ইংরেজি কবিতার দ্বারা বেশি প্রভাবিত ছিলেন মির্জা গালিব চরিত্রে অভিনয় করার আগে। কীভাবে তিনি উর্দু শায়েরি এবং উল্লেখযোগ্যভাবে মির্জা গালিব দ্বারা পরবর্তীতে প্রভাবিত হয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, গালিবের কবিতা কতখানি সময়ের থেকে এগিয়ে ছিল।

যতদিন মানুষ থাকবে, বা অন্যভাবে বললে, কবিতা থাকবে ততদিন মির্জা গালিব তাঁর কয়েক হাজার শায়েরি নিয়ে আমাদের চেতনে,অবচেতনে থাকবেন। আর ততদিনই অস্ফুটে উচ্চারিত হবে তিলোত্তমার নাম।

গালিব তাঁর প্রিয় শহর নিয়ে লিখেছিলেন,

কলকাত্তে কা জো জিকর্ কিয়া তুনে হামনশীন
ইক তির মেরে সিনে মে মারা কে হায়ে হায়ে।

 

মির্জা গালিব ও কলকাতা: এক অনন্য প্রেমকাহিনি লিখলেন সোহম হাটুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *