আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুধু জীবনে ফেরাই নয়, যাঁরা নজির গড়েছেন গোটা বিশ্বে: পর্ব ১

বিবিধ ডট ইন: সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন। জীবনে খারাপ সময় আসবেই সেইসব উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে আগামীর সূর্য দেখার জন্য। সামনে আছে আরও দুর্গম পথ। সেই পথের বাধা কাটিয়ে শুধুই এগিয়ে যেতে হবে। অনেকেই খারাপ সময়ে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ আবার নিয়ে বসেন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বর্তমানকে ছোট জানলার মধ্যে দিয়ে এভাবে দেখতে ও মাপতে চাওয়ার চেষ্টাটাই ভবিষ্যৎ যে কতটা সুন্দর হতে পারে সেই উপলব্ধির উপর আত্মহত্যা করার মতো জঘন্য প্রলেপ ছড়িয়ে দেয়।

স্টিভ জবসের কানেক্টিং ডট থিওরি আমাদের দেখিয়ে দেয়, অতীতে যা কিছু হয়, তা ভালর জন্যই হয়।

নিজের মধ্যে এই বিশ্বাস আমাদের আনা দরকার, যত খারাপ সময়ই আসুক না কেন আমরা পারব তা সামলে নিতে। বিশ্ববিখ্যাত এমন বেশ কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা কেবল আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই আসেননি, পাশাপাশি গোটা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে-তে সেই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়েই আলোচনা করব আমরা।

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র

যুক্তরাষ্ট্রে এক ঐতিহাসিক ভাষণে নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র যে অহিংস আন্দোলন শুরু করেন, সারা দেশে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জন্যে সমান অধিকারের দাবি পূরণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই দিনটি পালিত হচ্ছে। ১৯৬৩ সালের ২৮শে আগস্ট তার অসাধারণ ভাষণে ড. কিং কেবল আমেরিকা নয়, বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে তুলেছিলেন। ড. কিং-এর অহিংস আন্দোলন প্রসঙ্গে ভয়েস অফ আমেরিকার ক্রিস সিমকিন্সের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই পরিবেশনা।

মার্টিন লুথার কিং যখন ১২ বছর বয়সি ছিলেন, তখন একদিন বাইরে গিয়েছিলেন প্যারেড অনুষ্ঠান দেখতে। বাবা-মা কঠিনভাবে বারণ করেছিলেন প্যারেডে না যেতে, তবুও তিনি গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন তার ঠাকুমা মারা গেছেন। তার কিশোর মনে এতটাই অনুশোচনা হয়েছিল যে, তিনি তাদের বাড়ির দোতলার জানালা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যদি মার্টিন লুথার কিং ১২ বছর বয়সেই মারা যেতেন, তাহলে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে বারাক ওবামার মতো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট হওয়া তো দূরে থাক, কৃষ্ণাঙ্গদের মৌলিক অধিকার পেতে আরও অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হত।

এমিনেম

অস্কারজয়ী Rapper. সুপরিচিত আমেরিকান Rapper বিশ্বের দৃশ্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েন, সারা বিশ্বে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে উদ্দীপনার ঝড় তোলেন এবং বিরাট জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি এমিনেম।

অথচ তাঁর জীবন ছিল খুবই বেদনাময়। শিশু বয়সেই তার বাবা পরিবার ফেলে চলে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেননি। বড় হয়েছেন, পাশে কোনও বন্ধু পাননি। বিচ্ছিন্ন পরিবারের এক নির্মম পরিবেশে। এগারো বছর বয়সে তার কাকা ‘রুনি’ নেলসনের কাছ থেকে একটি মিউজিক অ্যালব্যাম উপহার পাবার পর তিনি সঙ্গীতে আগ্রহী হয়ে উঠেন।

তাঁর গার্লফ্রেন্ড কিম সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তাদের একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে চলে যান। স্ত্রীর চলে যাওয়া, সন্তানকে দেখতে না পাওয়া, গানের অ্যালবামের বাজারে কাটতি না হওয়া, একাকী জীবনযাপন ইত্যাদি বিষয় ভুলতে পেইনকিলার অতিরিক্ত গ্রহণ করতে করতে আত্মহত্যার দিকে পা বাড়ান এমিনেম। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, যদি এমিনেম আত্মহত্যার পথ বেছে নিতেন তাহলে কী হতো? বলা বাহুল্য, পৃথিবী একজন আমেরিকান ইংরেজি র‍্যাপার, রেকর্ড প্রযোজক এবং অভিনেতার থেকে বঞ্চিত হত।

লিখেছেন সম্রাট বেরা

One thought on “আত্মহত্যাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শুধু জীবনে ফেরাই নয়, যাঁরা নজির গড়েছেন গোটা বিশ্বে: পর্ব ১

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: