ভাষা আন্দোলন: ‘আমাদের তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে’

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন:  সেই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন লিয়াকত আলি। মহেন্দ্র দেবনাথ তখন নবম শ্রেণির ছাত্র। আশপাশ থেকে খবর পেলেন তাঁর মাতৃভাষা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মেনে নিতে পারেননি। তাই মহেন্দ্র এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে প্রতিবাদের জন্য নেমে পড়লেন রাস্তায়।

মহেন্দ্রবাবুর বন্ধু বলতে তখন হাসমত এবং আরও কয়েকজন। প্রাথমিকভাবে এই ছিল দলবল। সবাই মিলে ধীরে ধীরে ছোট সভা ও মিছিল হতে শুরু করলেন। কিন্তু তাতে কীই বা হত? তাই দলবলে ঠিক করেছিলেন, তাঁমাদের বড় কিছু একটা করতে হবে।

যেমন ভাবনা তেমন কাজ। মাতৃভাষাকে বাঁচাতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে রওনা দিলেন নন্দনপুরের উদ্দেশ্যে। একটাই শ্লোগান ছিল সেদিন–

আমার ভাষা বাংলা ভাষা।

সেই স্লোগান চারিদিকে যেন ছড়িয়ে গেল। কয়েক হাজার মানুষ সেই মিছিলে যোগদান করলেন। তবে এখানেই শেষ নয়। বলা যায় যাত্রাপথের শুরু এটাই। নন্দনপুরে পৌঁছানোর পর সেখানে উপস্থিত হয় শ’য়ে শ’য়ে পুলিশ। শুরু হয় ঝামেলা। অনেকে  পালিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু সেদিন পালাননি মহেন্দ্র দেবনাথ। ৯২(খ) ধারায় মহেন্দ্র এবং তাঁদের সঙ্গীদের গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ছ’মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছিলেন।

এরপর বহু দিন যায়। কিন্তু ভুলতে পারেননি ভাষা শহীদ বরকত, জব্বারদের।

একটি প্রথম শ্রেণির সংবাদমাধ্যমে মহেন্দ্রবাবু জানিয়েছেন,

আমাদের বাড়ি চন্দনবাড়ি গ্রামে। আমরা দুই ভাই এবং চার বোন। ছোট থেকেই ভাষার প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও সম্মান ছিল আমাদের। লেখালেখির প্রতিও অনেক আগ্রহ ছিল। তাছাড়া পড়াশোনার আগ্রহ থাকায় ভালোবাসতেন সকলে।

চন্দনবাড়ির গ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় অনেকটাই। তাই যেকোনও বিষয়েই খবর আসতে প্রায় দু’-তিন দিন লেগে যেত। বরকতদের গুলি পাওয়ার খবর পেয়েছিলেন প্রায় দু’দিন পর, এমনটাই জানিয়েছেন মহেন্দ্রবাবু। তাঁর কথায়,

গ্রামবাসীর সবাই হতবাক হয়ে যায়। সকলে ক্ষোভের আগুনে ফেটে পড়ে। কেউই স্থিরভাবে বসে থাকতে পারিনি আমরা। সবকিছু নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে যাই, লড়াই হয়, তবুও পিছিয়ে আসিনি।

অনেকটা সময় পেরিয়েছে। এখন মহেন্দ্র দেবনাথের বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। অনেক কিছুই ভুলে যান, অনেক ঘটনা স্মৃতিতে নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে বই লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এই ভাষা সংগ্রামী। স্মৃতি রোমন্থনে তাঁকে সাহায্য করেন তাঁর স্ত্রী। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে শেখে, সেই উদ্দেশ্যেই বই লেখার ইচ্ছেপ্রকাশ মহেন্দ্রবাবুর।

 

মাতৃভাষাকে বাঁচাতে পথে নেমেছেন, জেল খেটেছেন লিখলেন শ্রেয়া দাস


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।