ম্যাজিক নিয়ে আস্ত মেলা! এবার শীতে জাদুময় সন্ধ্যা উপহার পেতে চলেছে কলকাতা

 

বিবিধ ডট ইন: ধরুন মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় স্টল৷ সারাদিন মানুষের আনাগোনা লেগে রয়েছে সেখানে। দূর থেকে দেখেই বোঝা যাবে মেলা বসেছে সেখানে। অথচ সেখানে বিক্রি হচ্ছে না কোনো ব্যবহারিক সামগ্রী, বরং সেখানে দেখানো হচ্ছে ম্যাজিক! কোনো স্টলে দেখানো হচ্ছে হাতসাফাই, কোথাও প্রদর্শিত হচ্ছে কনজিওরিং, কোথাও বা ভেন্ট্রিলোক্যুইজম। সেই সঙ্গ্ব রয়েছে পাপেট-ফায়ার, স্যান্ডআর্ট, জাগলিং অথবা হ্যান্ড শ্যাডোগ্রাফি। লেখা পড়ে অনেকেরই হগওয়ার্টসের কথা মনে পড়লেও এটি আদতে তা নয়।

গল্পের শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালে, ভারতীয় ম্যাজিশিয়ান সংগঠন ফিমা(FIMA) প্রতি বছরেই কলকাতার বুকে এই ধরনের জাদু-কল্পবিদ্যার এক অবাক দুনিয়া উপহার দিয়ে থাকেন। মেলার জন্মলগ্নে অর্থাৎ ২০০৯ সালে এটিই ছিল ভারতের প্রথম ম্যাজিক মেলা। সেই ধারা অব্যাহত রেখে চলত বছর শীতেও কলকাতার বুকে বসতে চলেছে এমনই একটি ম্যাজিক মেলা। যার আয়োজনে ফিমা(FIMA)। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই এই মেলার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা।

আগামী ডিসেম্বরের ২২ তারিখেই মোহরকুঞ্জে উদ্বোধন হতে চলেছে এই ম্যাজিক-মেলার। চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ অপেক্ষা আর মাত্র তিন মাস।বিগত দু-বছর ধরে নানান অলাভজনক সংস্থার মতোই মহামারীর সঙ্গে দাঁতে দাঁতে চেপে লড়াই করেছেন ফিমার সদস্যরাও। পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু মানুষের। সেটাই এবার থিম হয়ে ফিরে আসছে মেলা-প্রাঙ্গণে। এমনটাই জানাচ্ছেন ফিমা-র কর্ণধার তথা এই ম্যাজিক মেলার অন্যতম আয়োজক সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘বিগত দু’বছরে মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এবারে আমাদের মেলার থিম ম্যাজিক ফর লাইফ’।

জানা গেছে এই চার দিনের মেলায় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন ১ হাজারেও বেশি ম্যাজিশিয়ান। প্রতিদিন সন্ধে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলবে স্টেজ শো। উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি-সম্পন্ন ভারতীয় ম্যাজিশিয়ানরা। তাছাড়া ছোটোদের জন্য ম্যাজিক ওয়ার্কশপও আয়োজিত হবে প্রতিদিন।কলকাতা সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গের ম্যাজিশিয়ান ছাড়াও খেলা দেখাতে আসছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ৬০০ ম্যাজিশিয়ান। শুধু ম্যাজিকের প্রদর্শনীই নয়, এই মেলার উদ্বোধনের রীতিটাও বেশ অদ্ভুত। কেমন সেই রীতি? সঞ্জয়বাবু জানাচ্ছেন, ‘চোখ বেঁধে গাড়ি ও বাইক চালিয়ে আমাদের মেলার উদ্বোধন করেন ম্যাজিশিয়ানরা। মেলার প্রথম বছর থেকে এটাই চলে আসছে।’

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: