কাটোয়ায় রাস্তা সারানোর দাবিতে পোস্টার হাতে অবরোধ স্কুল পড়ুয়াদের

 

বিবিধ ডট ইন: এ যেন বাংলাদেশের আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি। বছর দুই আগে সে দেশে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অভিনব পোস্টার নিয়ে অবরোধ করেছিল পড়ুয়ারা। কোনও পোস্টারে লেখা ছিল – ‘রাস্তা বন্ধ, রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চলছে।’ কোথাও আবার লেখা – দেশ সংস্কারের কাজ চলছে।’ বেহাল রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করতে নাজেহাল হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। পড়ুয়াদের সাইকেল চালিয়ে যাওয়া দূর অস্ত, কাদা পেরিয়ে হেঁটে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তার এই শোচনীয় অবস্থার জন্য এই বর্ষায় স্কুলে যেতে পারছে না ছাত্রছাত্রীরা। পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম ২ ব্লকের চরখি থেকে বিল্বেশ্বর যাওয়ার রাস্তার এমনই বেহাল অবস্থার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রছাত্রীরাই পথে নামল।

বৃহস্পতিবার কেতুগ্রামের বিল্বেশ্বর বাসস্ট্যান্ডে পোস্টার হাতে স্কুল পড়ুয়াদের অবরোধ সেই ছবিই মনে করাল। এদিন সকাল সাড়ে দশটা থেকে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চলে অবরোধ। যার জেরে কাটোয়া-বোলপুর রাজ্য সড়ক এবং কাটোয়া-বহরমপুর রাজ্য সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিডিও এসে অবরোধ তোলার চেষ্টা করলে তাঁকেও ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। শেষে বিডিও আশ্বাস দেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রাস্তার কাজ শুরু হবে। এই আশ্বাস পেয়ে পৌনে দুটো নাগাদ অবরোধ ওঠে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেতুগ্রাম ২ ব্লকের বিল্বেশ্বর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় চরখি থেকে বিল্বেশ্বর পর্যন্ত এই রাস্তাটি অজয় নদের পাশে বাঁধের উপর একটি রাস্তা। নদনদীর প্লাবন থেকে কাছাকাছি জনবসতিকে রক্ষা করতে এই ধরনের বাঁধকে ‘এক্স জমিদারি বাঁধ’ বলা হয়। এই ‘এক্স জমিদারি বাঁধে’র উপর মাটির রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন চরখি, বিল্বেশ্বর-সহ আশপাশের বেশ কিছু গ্রামের মানুষ।

এলাকায় রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয়, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি ডাকঘর অফিস রয়েছে। বিল্বেশ্বর গ্রামেই অন্তত চার হাজার মানুষের বসবাস। এছাড়া এই রাস্তার ওপর দিয়ে পাশাপাশি এলাকার মানুষ পালিটা পঞ্চায়েত, রসুই, খেয়াইবান্দা, তেওড়া প্রভৃতি এলাকায় যাতায়াত করে থাকেন। শর্টকাট রাস্তা হিসাবে এই নদীবাঁধের রাস্তা দিয়েই যাতায়াতে অভ্যস্ত বিল্বেশ্বরের পাশাপাশি গ্রামগুলির কয়েক হাজার গ্রামবাসী।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: