একাধিক জার্নাল থেকে প্রত্যাখ্যানের পরও নোবেল পেয়েছেন যে বিজ্ঞানীরা: পর্ব ১

বিবিধ ডট ইন: যখন কোন মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না, তখন সেই মানুষটিকেও হতাশা গ্রাস করে। একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন বিজ্ঞানীরাও। কোনও গবেষক যদি তাঁর গবেষণার কোনওরকম ফল না পান, তবে এর থেকে বড় আর কোনও আঘাত নেই বললেই চলে। তবে এমন কিছু বিজ্ঞানীও আছেন, যাঁরা জীবনযুদ্ধে ব্যর্থ হয়েও মুষড়ে পড়েননি। বরং এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন যে, পরবর্তীতে তাঁরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরষ্কারও অর্জন করেছেন। হ্যাঁ, এমনই কয়েকজন বিজ্ঞানীর কাহিনি জানব আমরা:

এনরিকো ফার্মি

এনরিকো ফার্মি হলেন এমন একজন বিজ্ঞানী, যিনি প্রথম দুর্বল নিউক্লিয়ার ক্রিয়ার উপস্থিতি সম্পর্কে বর্ণনা প্রদান করেন। দুর্বল নিউক্লিয়ার ক্রিয়া প্রকৃতিতে বিদ্যমান প্রধান ৪টি আকর্ষণ বলের ১টি (বাকি ৩টি হচ্ছে মহাকর্ষ বল, তড়িৎচৌম্বক বল এবং সবল নিউক্লীয় বল)। তাঁর এই গবেষণাপত্রটিই বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’  প্রথমে প্রকাশ করতে চায়নি। পরবর্তীকালে এনরিকো ফার্মি এই যুগান্তকারী সৃষ্টির জন্য নোবেল জয় করেন।

হান্স ক্রেবস

বিজ্ঞানী হান্স অ্যাডল্‌ফ ক্রেবস। যিনি ক্রেবস চক্র বা সাইট্রিক অ্যাসিড চক্র  আবিষ্কার করেছিলেন, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট অতি গুরুত্বপূর্ণ চক্র। তাঁর এই গবেষণাপত্রটি ১৯৩৭ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশের জন্য পাঠানো হলেও গবেষণাপত্রটি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ক্রেবস তাঁর এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশ না করার পরেও ভেঙে পড়েননি বরং তিনি মনকে আরও শক্ত করে আরও পঞ্চাশটিরও পর গবেষণাপত্র প্রবন্ধ প্রকাশ করে ফেলেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর এই ক্রেবস চক্র ১৯৫৩ সালে ওলন্দাজ (ডাচ) জার্নাল এনজাইমোলোজিয়ায় প্রকাশ হয় এবং তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

 

মারে গেলম্যান

মৌলিক কণার ওপর শ্রেণিবিন্যাস করে বিজ্ঞানী গেলম্যান ১৯৬৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁকেও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু তাঁর এই প্রত্যাখ্যান প্রবন্ধের বিষয়বস্তুকে নিয়ে নয়, এ প্রত্যাখ্যান শিরোনামের জন্য।  তাঁকে বারবার নিবন্ধের শিরোনামের নাম পরিবর্তন করতে বলা হয়। বিজ্ঞানী গেলম্যানের দেওয়া কোনও শিরোনামের নাম পছন্দ না হলে তারা নিজে থেকেই এর শিরোনাম দেয় ‘আইসোটোপিক স্পিন এবং কৌতূহলোদ্দীপক কণাসমূহ। বিষয়টা বিজ্ঞানী মারের পছন্দ না হলেও তাঁর কাছে এছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

রোজালিন ইয়েলো

রেডিও আইসোটোপের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে দেহে অ্যান্টিবডির মাত্রা শনাক্তকরণের  জন্য রোজালিন ইয়েলোকে ১৯৭৭ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। তবে ২২ বছর আগে হাজার ১৯৫৫ সালে দি জার্নাল অব ক্লিনিকাল ইনভেস্টিগেশন-এ তাঁর উদ্ভাবনটি প্রকাশের জন্য পাঠানো হলেও তাঁর গবেষণাপত্রটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। তখনকার পর্যালোচকরা এই প্রস্তাবিত পদ্ধতি এবং তাঁর ফলাফলটিকে ভুল বলে ব্যাখ্যা করেন। এতে রোজালিন হতাশাগ্রস্ত না হয়ে বরং নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন এবং যার ফলে স্বীকৃতিও অর্জন করেন।

লিখেছেন আকাশ চৌধুরি

One thought on “একাধিক জার্নাল থেকে প্রত্যাখ্যানের পরও নোবেল পেয়েছেন যে বিজ্ঞানীরা: পর্ব ১

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: