প্রকৃতির কণ্ঠরুদ্ধ! লড়ছে শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র

এখনই শেয়ার করুন

হঠাৎ করে ছবিটা দেখলে আপনার এটা একটা বড় আস্তাকুঁড়ে মনে হতে পারে। আসলে তা নয়। এটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার, রায়দিঘী বিধানসভার অন্তর্গত মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের অধীনে কাশীনগর ‘মাইবিবি হাটের’ মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ঐতিহ্যশালী সুপ্রাচীন খাল। (প্রকৃতির কণ্ঠরুদ্ধ! লড়ছে শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র)

আরও পড়ুন: সুন্দরবন দিবস: ভালবাসার আঁচলে মুখ লুকানো ১৪ ফেব্রুয়ারি!

এটা আগে নদী ছিল, এই নদীই কাশীনগরের জনবসতি সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে, লালন পালন করেছে। কাশীনগরের জনগণ সেই ধাত্রীমাতাকে হত্যা করার সব ব্যবস্থাই করে চলেছে! এ অঞ্চলের সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাদের মধ্যে একমাত্র ‘শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র’ কাশীনগরের ‘লাইফ লাইন’।

এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে বাঁচানোর দাবি বারবার পঞ্চায়েত, বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস), পুলিশ প্রশাসন, সেচ দফতর সব জায়গাতেই জানিয়েছে শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র। এই ইস্যুতে বাজারে প্রকাশ্যে মিছিল মিটিংও একাধিকবার করেছে। কিন্তু কার্যত সদুত্তর মেলেনি বললেই চলে। একমাত্র ভূতপূর্ব বিডিও (ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক) স্বাতী ম্যাডাম এই ইস্যুটা নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী হয়েছিলেন, পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে বাজারে অভিযান করার জন্য সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন।

কিন্তু যেকোনও কারণেই হোক, হঠাৎই তাঁর বদলি হয়। তারপর থেকে আবার সব চুপচাপ আছে। এই ধাত্রীমাতার একটা সময় নৌকা ও ভুটভুটি (যন্ত্রচালিত নৌকা) সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী সামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে যার মুখ্য ভূমিকা ছিল। সেই ঐতিহ্য এবং স্মৃতি আজ বড়ই মলিন।

আরও পড়ুন: অদম্য জেদ, নিজের খরচে শ’য়ে শ’য়ে তরুণীকে দিশা দেখাচ্ছেন এই স্কুলশিক্ষক

ছোট-বড় পানা, আগাছার জঙ্গলে আর কিছু অবিবেচক মানুষের বদান্যতায় খালের জলের স্বাভাবিক প্রবাহের গতি এখন কণ্ঠরোধ হয়েছে। ধীরে ধীরে তা ডোবা’র রূপ ধারণ করছে। এমন ভাবে চলতে থাকলে, হয়তো একদিন ইতিহাসে পরিণত হবে! ফিরিয়ে দাও, ছোটবেলায় দেখা স্মৃতি বিজড়িত সদা প্রাণচঞ্চল এই খালকে। আমাদের চোখ থাকতেও এখনও আমরা অন্ধ আর প্রশাসন নির্বিকার!

 

তথ্যসূত্র এবং লেখা: ️শুভ্রদীপ বৈদ্য


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।