অবসাদে বেশি ভোগেন ভারতীয়রাই!

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন:  বর্তমানে ভারতে বসবাসকারী প্রায় বেশিরভাগ মানুষই অবসাদগ্রস্ত, এমনটাই উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে। এমনকী, ক্রমে সেই হার বেড়ে চলেছে। কয়েক বছর আগে ভারতকে ‘সর্বাধিক অবসাদগ্রস্ত দেশ’ বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণ কী? (অবসাদে বেশি ভোগেন ভারতীয়রাই!)

‘অবসাদ’ এই শব্দটি এখন বরাবরই রোজকার জীবনে কমবেশি শুনতে পাই। এই সমস্যা, বছরের-পর-বছর আধুনিক ধারণা হিসেবে সীমাবদ্ধ। কাজের চাপ, জীবনের লড়াই, সম্পর্ক, আর্থিক বা মানসিক চাপের ফলে বেশিরভাগ ভারতীয়ই অবসাদ, হতাশা, উদ্বেগ সেই সম্পর্কিত অসুস্থতায় ভুগে থাকেন। আশ্চর্যজনকভাবে অল্প বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধি অবসাদের অন্য একটি কারণ।

অতিমারির সময় সকলের দুশ্চিন্তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা বিশেষজ্ঞদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের  কথায়, এর পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ।  লকডাউনে হতাশা, উদ্বেগ ও একাকিত্বের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

কোভিড আসার ফলে বহু মানুষের আবেগের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও হয়রানির শিকার হয়। এই সময় মানুষকে আরও উৎপাদনশীল হতে বাধ্য করেছিল, অবসাদ শব্দের সংজ্ঞাটিও এখন সংশোধিত হয়েছে। এখন উপযুক্ত অভিজ্ঞতার অভাবে ভারতীয়রা অবসাদে ভুগছে।

মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে মনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শদাতা ড. কেরসি চাভদার মতে,

ভারতীয়রা জন্মগতভাবে উচ্চচাপ এবং অবসাদের শিকার হতে পারে, এটি সাম্প্রতিক গবেষণার একটি ফলাফল।

মানসিক চাপ অনেকটা বয়স ও সেই ব্যক্তির পরিস্থিতির উপরও নির্ভর করে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেসের মাত্রা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে বিকাশজনিত ব্যাধি, উদ্বেগ, পরীক্ষার চাপ, সহপাঠীদের চাপ ইত্যাদি। কিশোর কিশোরীদের নিয়ে উদ্বেগ, হতাশার একটি উচ্চ ঝুঁকি থাকে।

গবেষণায় লক্ষ্য করা গেছে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। বয়সের সাথে সাথে মানসিক চাপের কারণ পরিবর্তিত হয়। অস্থায়ী সম্পর্ক, বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি মানসিক চাপ এর অন্যতম কারণ। তারপর ভারতের বৃদ্ধ জনসংখ্যার সমস্যা তো রয়েছেই। তাদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ, রোগব্যাধি, একাকীত্বতা ও অন্যান্য অনেক মানসিক অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায়। সচেতনতার অভাব এবং উপযুক্ত স্বাস্থ্য সংস্থার অভাবের কারণে সমস্যাগুলি বছরের পর বছর ধরে আরও অবনতির পথে যাচ্ছে।

অবসাদ আমাদের জীবনের একটি অঙ্গ, তা বলে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে হবে তা নয়। আমাদের আরও ভাল পদ্ধতি এবং মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

সঠিক সচেতনতা, শিক্ষা এবং সহজেই উপলব্ধির ক্ষমতা স্ট্রেসকে আরো ভালো পদ্ধতিতে, ইতিবাচকভাবে মোকাবেলা করা যেতে পারে। এর জন্য অনেক কিছু করা যেতে পারে যেমন নির্দিষ্ট সময়ের ঘুম, মোবাইল বা ল্যাপটপে কম সময় কাটানো, যোগব্যায়াম, শক্তিশালী-পুষ্টিকর ডায়েট এবং আরো মননশীল ব্যবস্থা আপনার জীবনকে আরও ভাল করে তুলতে পারে, এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

লিখলেন শ্রেয়া দাস

ফিচার ইমেজ


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *