অনিশ্চিত ‘ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর’, কতটা স্বস্তিতে টিম ইন্ডিয়া?

এখনই শেয়ার করুন

 

বিবিধ ডট ইন: প্রথম ম্যাচ হেরেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরু করল ব্লু-ব্রিগেড। পরাজয়ের ধাক্কা সামলেও চিন্তার কারণ; পরবর্তীতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর অর্থাৎ রোহিত, ইশান্ত এবং কোহলি ছাড়াই ময়দানে নামতে হতে পারে ভারতকে। টিমে তার প্রতিফলন কতটা পড়তে পারে?

আইপিএলের টানটান উত্তেজনার পর এবার শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়া ট্যুর অফ অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজে থাকছে তিনটি ওয়ান-ডে, তিনটি টি-টোয়েন্টি ও চারটি টেস্ট। গোটা ট্যুরে থাকবে সবুজ বোলিং পিচে ফাস্ট বোলারদের পেসের জাদু, থাকবে ডে-নাইট টেস্ট ও পিঙ্ক বল সুইংয়ের দাপট। তবে সিরিজের প্রথমদিকে হয়তো রোহিত শর্মার অনুপস্থিতি ভারতীয় টিমের যথেষ্ট চিন্তার কারণ। পরবর্তীতেও সম্পূর্ণ ফিট রোহিতকে ইন্ডিয়া টিম পাবে কি না, তা নিয়েও অনেক মতানৈক্য রয়েছে। ইন্ডিয়ান টিমের হেডকোচ রবি শাস্ত্রী এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, ২৬ নভেম্বর লাস্ট ‘কাট অফ’ এবং তিনি এও জানান, ‘experience will be missed.’ এই ঘটনা সাময়িক অনিশ্চয়তায় ফেললেও পরবর্তীকালে BCCI দূর করে সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব। BCCI সূত্রে জানা যায়, চোট ও ফিটনেসের অভাবে রোহিত শর্মাকে দল থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে যথেষ্টই গুরুত্ব দিচ্ছে। রোহিত শর্মার রুদ্ধশ্বাস ব্যাটিং ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কতক্ষণ ভারতের ব্যাটিং অর্ডার টিকে থাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত ক্রিকেটমহল।

এছাড়াও চোটের কারণে দলের বাইরে ইশান্ত শর্মা। বেঙ্গালুরুতে ফিটনেসে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। টেস্ট ম্যাচে আদৌ তিনি থাকবেন কি না, সেই বিষয়টিও এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে ভারতের টেস্ট বিভাগে সবচেয়ে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ বোলারের মধ্যে সর্বপ্রথম নাম তারই উঠে আসে। তার এই অনুপস্থিতি টেস্টে সঙ্কটে ফেলতে পারে ভারতকে।

 

এ তো গেল বিষ্ণু আর মহেশ্বরের কথা। এবার আসি ব্রহ্মা অর্থাৎ বিরাট কোহলির কথায়। যাঁকে কিনা বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান মুখও বলা চলে। তাছাড়া যেকোনও ফরম্যাটেই বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান তিনি। টেস্ট ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের যথেষ্টই ভাবাচ্ছে। তিনি BCCI-কে জানান, প্রথম টেস্টের পর তিনি পারিবারিক কারণে ভারতে ফিরবেন। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ঘটনাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অনেকে এও আশঙ্কা করছেন, অস্ট্রেলিয়ার সুইং অনুকূল সবুজ পিচে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারকে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হবে। এককথায় অস্ট্রেলিয়া সিরিজ অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ব্লু-ব্রিগেডের কাছে।

 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত IPL-এ বঙ্গ সন্তানদের অভাবনীয় দাপট দেখা গেছে। ঋদ্ধিমান সাহার দুর্ধর্ষ উইকেট কিপিং ও ৪৫ বলে ৮৭ রানের অভাবনীয় ইনিংস দেখে আপ্লুত হয়েছিলেন বাঙালিসহ সমস্ত ভারতবাসী। অপর দিকে কলকাতার প্রতিটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিয়ে প্রশংসা কুড়োনোর পাশাপাশি যথেষ্টই প্রত্যাশা জাগিয়েছে তরুণ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। এই দানবীয় বোলিং স্কিল দেখে বাকরুদ্ধ হন আকাশ চোপড়া, সুনীল গাভাস্কার, ইরফান পাঠানসহ অনেক তাবড়-তাবড় ক্রিকেট দিগ্বজরাই। স্বভাবতই পারফর্মেন্সের জোরে সিরিজের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেন তিনি। তবে তাঁর চোট কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখছে ইন্ডিয়া টিমকে। BCCI সূত্রে জানা যাচ্ছে, বরুণ চক্রবর্তীর পরিবর্ত হিসেবে টি নটরাজকেও দলে নেওয়া হয়েছে।

 

অনবরত ২-৩ বছর IPL-এ অবিস্মরণীয় পারফরর্মেন্সের পর এই প্রথম সুবর্ণময় সুযোগ পেতে চলেছে সঞ্জু স্যামসন। BCCI সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে বিকল্প উইকেট রক্ষক হিসেবে টি-টোয়েন্টি ও ওডিআই দলে নির্বাচন করা হয়েছে। IPL ও ডোমেস্টিক ক্রিকেটে দুর্দমনীয় রানের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কতটা মানিয়ে নিতে পারবে এই তরুণ? এর উত্তর দেবে কেবল সময়।

 

কিছুটা হলেও চোট আঘাতে বিধ্বস্ত ভারতীয় টিমের চরম অনিশ্চয়তার মাঝে আশার আলো জুগিয়েছেন ভারতীয় দলের দুই ধ্বংসাত্মক ওপেনার কেএল রাহুল এবং শিখর ধাওয়ান। আইপিএলের আক্রমণাত্মক ইনিংস ও অভাবনীয় সেঞ্চুরি দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন অনেকেই। এছাড়া প্রথম ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার ‘গব্বর’ ধাওয়ানের পারফরমেন্স যথেষ্টই আশাব্যঞ্জক। ম্যাচ হারলেও হার্দিক পান্ডিয়ার নজরকাড়া পারফরমেন্স টিমের মনোবল বাড়াতে সক্ষম।

 

ভারতে ক্রিকেট একটা আবেগে, মানুষের দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনে বেঁচে থাকার রসদ। অনেকে আবার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, ভারতীয় ক্রিকেট নিজেই ধর্মের আভিজাত্য বহন করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়—

১) এই সিরিজে বিভিন্ন সময়ে রোহিত ও বিরাটের অনুপস্থিতিতে ভারতীয় টিমকে নেতৃত্ব দেবেন কে?

২) যদি কেএল রাহুলকে এই ভার অর্পণ করা হয়, তাহলে তিনি এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কতটা সফল হবেন?

৩) রাজস্থানকে এতগুলো ম্যাচে সাফল্য পাওয়া সত্ত্বেও রাহুল তেপাঠিয়া দলে স্থান না পাওয়ার কারণ কি?

৪) এবারের আইপিএলের নতুন ব্যাটসম্যানের সন্ধান করলে অন্যতম নাম হিসেবে উল্লেখযোগ্য দেবদত্ত পাটিক্যাল। ধারাবাহিকতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ কেন?

৫) কোভিড পরিস্থিতির ফলে গড় পয়েন্ট প্রদানের জেরে টেস্টে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। ভারত আবার শীর্ষে ফিরতে সক্ষম হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের উপর।

এই প্রসঙ্গে টাউন ক্লাব ও শুটে ব্যানার্জী ক্লাবের বতর্মান কোচ এবং মোহনবাগান ক্লাবের অবসরপ্রাপ্ত কোচ শ্রী শশাঙ্ক গুপ্ত জানিয়েছেন, রবি শাস্ত্রীর প্রতি তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। ব্লু-ব্রিগেডের হেডমাস্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাস্ত্রী হলেন দলের সুপ্রিমো। তিনি হলেন দলের মাস্টার মাইন্ড। তিনি যথেষ্ট পরিকল্পনা করেই বিশ্বের দরবারে ভারতকে উপস্থাপন করেছেন। কাজেই তার সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন তোলা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক।‘

 

রোহিত শর্মা প্রসঙ্গে শশাঙ্কবাবু জানান, ভারতের অন্যতম নিখুঁত এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তিনি। চোট ও অসুস্থতা না থাকলে সবকিছুই তার অনুকূলে থাকত এবং এই ট্যুরে ভারত কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকত।‘

ইশান্ত শর্মার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি ইশান্ত শর্মা দলে থাকেন, তাহলে টেস্ট ম্যাচে তিনি খুব কার্যকরী হবেন।’ বুমরাহ ও শামিকে নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী তিনি। তাঁর কথায়, ‘ODI, T20 তো বটেই, এমনকী, পিঙ্ক বলেও আক্রমণাত্মক হতে এই দুই বোলার।‘

তিনি ভারতের বোলিং লাইনআপ-এর বর্ণনা দিতে গিয়ে এও বলেন, ‘ওই পিচে বল খুব ভাল বাউন্স ও সুইং করবে।’ রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং এর প্রতি তিনি খুব আশাবাদী।

তিনি জানান, ‘পৃথ্বী শ ভারতের হয়ে বিদেশের মাটিতে খুব একটা বেশি ম্যাচ খেলেননি। তাঁর এখনও অনেককিছু শেখার ও জানার বাকি। তবে তিনি যে নিঃসন্দেহে ভাল খেলোয়াড়, তা বলা বাহুল্য। কিন্তু আরও কিছুটা সময় লাগবে তাঁর।‘

শশাঙ্কবাবুর কথায়, ‘ঋষভ পন্থ অনেক বেশি সুযোগ পেয়েছে। ODI ও T20 দলে ঋষভ খুব একটা ফলপ্রসূ হবে না। তিনিও আইপিএলের পারফর্মেন্সের পরে বিকল্প হিসেবে সঞ্জুকেই এগিয়ে রাখছেন।

 

অনিশ্চিত ‘ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর’, কতটা স্বস্তিতে টিম ইন্ডিয়া? লিখলেন অর্পিত চৌরাশিয়া।


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।