বিজ্ঞান

একাধিক জার্নাল থেকে প্রত্যাখ্যানের পরও নোবেল পেয়েছেন যে বিজ্ঞানীরা: পর্ব ২

বিবিধ ডট ইন: যখন কোন মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না, তখন সেই মানুষটিকেও হতাশা গ্রাস করে। একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন বিজ্ঞানীরাও। কোনও গবেষক যদি তাঁর গবেষণার কোনওরকম ফল না পান, তবে এর থেকে বড় আর কোনও আঘাত নেই বললেই চলে। তবে এমন কিছু বিজ্ঞানীও আছেন, যাঁরা জীবনযুদ্ধে ব্যর্থ হয়েও মুষড়ে পড়েননি। বরং এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন যে, পরবর্তীতে তাঁরা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরষ্কারও অর্জন করেছেন। হ্যাঁ, এমনই কয়েকজন বিজ্ঞানীর কাহিনি জানব আমরা। আজ দ্বিতীয় পর্ব:

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

পিটার হিগস

হিগস বোসন বা ঈশ্বর কণার নাম আমরা প্রত্যেকেই অল্পবিস্তর শুনেছি। এর অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। এই গবেষণাপত্রটির রচনা করেছিলেন বিজ্ঞানী পিটার হিগস। তার এই গবেষণা পত্রটি ফিজিক্যাল লেটার্স কর্তৃপক্ষ  গ্রহণ করতে চাইনি তাদের বক্তব্য ছিল যে, “এটি খুব সহসা প্রকাশের সম্ভাবনা নেই”। তার গবেষণাপত্রটি প্রকাশ হওয়া থেকে বঞ্চিত হলেও তিনি দমে যাননি । ২০১২ সালে এই গবেষণা পত্রটি শনাক্ত করার পর ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। আবার সেই বছরেই তার মূল প্রবন্ধ ‘ভরহীন বোসন ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিসম বিভাজন’ যা ১৯৬৬ সালে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল তা অবশেষে ফিজিকাল রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

রিচার্ড আর্নস্ট

নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স বিষয়ে আমরা।রিচার্ড আর্নস্ট পদার্থের অভ্যন্তরে অণুর গঠনে রসায়নবিদদের কাছে খুবই কার্যকর এক পদ্ধতি। ১৯৯১ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান আর্নস্ট। তার পূর্বে আর্ন্সটের গবেষণাপত্রটি দুবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তার গবেষণা পত্রটি দু-দুবার প্রত্যাখ্যান পরও তিনি আশা ছাড়িনি তার ফলস্বরূপ তিনি পরবর্তীকালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ড্যান শেক্টম্যান

ক্রিস্টাল হল একই ধরনের গঠনের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে যে আকৃতি গড়ে উঠে।ড্যান শেক্টম্যান এই কোয়াজিক্রিস্টালের তত্ত্বটি আবিষ্কার করেন।তার আবিষ্কৃত এই গঠনগুলো ১৯৮৪ সালে দ্রুত কঠিনীত অ্যালুমিনিয়াম ম্যাঙ্গানাইডের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গঠন’ শিরোনামের গবেষণা পত্রটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। এবং তাতে বলা হয় যে-এই গবেষণাটি ধাতু গবেষণার সাথেই বেশি মানানসই। এক বছর পর স্প্রিঞ্জার এর মেটালার্জিক ট্রানজ্যাশন্স জার্নালে লেখাটি প্রকাশিত হয়। তার গবেষণাপত্রটি প্রথমে প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরও শেষমেশ ২০১১ সালে শেক্টম্যান নোবেল পুরস্কারে পুরস্কৃত হন।

ক্যারি মালিস

পলিমিরেজ চেইন রিয়্যাকশন হল ডিএনএ-র কোনো অংশকে পরীক্ষাগারে বিবর্ধনের কৌশল। এই পদ্ধতির উপর ক্যারি মালিস গবেষণা করেছিলেন । ১৯৯৩ সালে তার এই গবেষণা পত্রটি কে জার্নাল সাইন্সের কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিক সেই বছরই বিজ্ঞানী ক্যারি- মালিস তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান । প্রথমবার গবেষণাটি প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরে তিনি হার মানেননি তাঁর এই না হেরে যাওয়া মানসিকতা পরবর্তীকালে তাকে সাফল্য এনে দিয়েছিল।

জীবনে বারবার হেরে গিয়েও ফিরে আসা যায় তার অন্যতম নিদর্শন হলো এইসব বিজ্ঞানীরা। ঠিক বাংলা চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের ওই গানটার মতো: ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’।

লিখেছেন আকাশ চৌধুরি

Leave a Comment
Share

Recent Posts

কাঠমান্ডুর রাস্তায় ইংরেজিতে তুখোড় কথা বলা পথশিশুর দায়িত্ব নিলেন অনুপম খের

  বিবিধ ডট ইন: সম্প্রতি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ঘুরতে গিয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের। স্যোসাল…

November 3, 2021

আফগানিস্তানে বিদেশি মুদ্রা নিষিদ্ধ করল তালিবান!

    বিবিধ ডট ইন: ১৯৯৬ থেকে ২০০১ অবধি তালিবান ক্ষমতায় থাকার সময় একের পর…

November 3, 2021

সদ্যোজাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই! সামাজিক বয়কটের মুখে পরিবার

  বিবিধ ডট ইন: 'রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা, এমন কেন সত্যি হয়না আহা!'…

November 3, 2021

এবার ফতোয়া নয়, বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করছে তালিবান!

  বিবিধ ডট ইন: আফগানিস্তানের দখল তালিবানদের হাতে চলে যাবার পর থেকেই যে দেশের একাধিক…

November 3, 2021

অবসর ভেঙে আবারও ক্রিকেটে ফিরছেন যুবরাজ?

  বিবিধ ডট ইন: অবসর ভেঙে আবারও ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন যুবরাজ সিংহ? সম্প্রতি যুবরাজের…

November 2, 2021

NEET UG: রাজ্যে প্রথম, সর্বভারতীয় স্তরে ১৯ নম্বরে সোনামুখীর সৌম্যদীপ

  বিবিধ ডট ইন: সদ্য প্রকাশিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট নিট এর প্রকাশিত ফলাফলে…

November 2, 2021

This website uses cookies.