জিভে জল: হাতে সময় কম? চটজলদি বানান ‘ওরিও কেক’

এখনই শেয়ার করুন

বাঙালির বৈচিত্র্য সারা পৃথিবীতে বিরাজমান। সে করে কম্মেই হোক বা খাদ্যরসনা। ঠিক কোনো না কোনো অজুহাতে তাঁরা কার্যসিদ্ধি করেই ফেলে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের মধ্যে বড়দিনও নিজের মতো করে জায়গা করে নিয়েছে। এটা তো সবাই বুঝেই গেছে এতদিনে, তাহলে নতুন কী বলবো এখানে? খানিক খোলসা করি ব্যাপারটা! (জিভে জল: হাতে সময় কম? চটজলদি বানান ‘ওরিও কেক’)

 

ইতিকথা
খাদ্যরসনার কথা দিয়ে যদি আলোচনায় আসি তাহলে আপনারা লক্ষ্য করবেন বারো মাসে তেরো পার্বনের নিয়ম এক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেমন শীতকাল মানেই পিঠে-পুলি, পাটিসাপটা, নলেনগুড়ের রসগোল্লা, সন্দেশ, পায়েস, জয়নগরের মোয়া, সমস্তটাই পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে স্লাইডশোর মতো চোখ এবং জিভের পর্দায় ভেসে ওঠে। তেমনিই বাঙালির ‘দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে’ মনোভাবের প্রতিফলন ‘কেক কালচার’ এই সিজনে খাদ্যরসিকদের তালিকায় একটা অন্যমাত্রা যোগ করে। ‘কেক’ শব্দটির মধ্যেই আমার মতো পেটুকরা একটা মিষ্টি সুবাস টের পায়। কলকাতার ক্রিস্টমাস কেক একবার চেখে দেখলে তার স্বাদ ও মায়াকে অগ্রাহ্য করা খুবই মুশকিল হয়ে পড়ে। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন বা জানার চেষ্টা করেছেন এই ক্রিস্টমাস কেকের জন্ম কোথা থেকে হলো? আজ থেকে প্রায় ৪০০-৫০০ বছর আগে এই ক্রিস্টমাস কেকের জন্ম। তখন সেই ক্রিস্টমাস কেক ছিল আমিষ পদ। একপ্রকার মাংস দ্বারা প্রস্তুত করা হতো, যাকে পরিজ্(Poridge) বলা হয়। তাতে মাংস ছাড়াও নানান ড্রাইফ্রুটস, কিশমিশ, কাজু ইত্যাদি দেওয়া হতো। বিবর্তনের পথে কালক্রমে মাংসকে বাদ দেওয়া হলো এবং মাংসের পরিবর্তে ময়দা, ডিম, মাখন, মধু ইত্যাদি তার জায়গা দখল করলো। এতকিছু সহযোগে যে বস্তুটি তৈরি হলো তাকে বলা হতো ক্রিস্টমাস পুডিং। এই পুডিং থেকেই সমাজের কিছু সম্ভ্রান্ত পরিবার ওভেন কেক করতে শুরু করলেন। এইভাবেই উৎপত্তি হলো ক্রিস্টমাস কেকের। ঐতিহ্যপূর্ণ এই ক্রিস্টমাস কেক কিন্তু বেশ খটখটে হয় আর তাতে ঠাসা থাকে নানান ড্রাইফ্রুটস, রাম আর ব্র্যান্ডি। কাজেই পেস্ট্রি, ক্রিমকেক ইত্যাদির সঙ্গে বিষয়টিকে গোলানো নৈব নৈব চ।

 

‘আহা কী স্বাদ তার’
এই যে এতক্ষণ ধরে পুরো কেকের ইতিহাসটা আপনাদের জানালাম, জানেন কে প্রথম কেকের রেসিপি খাতায়-কলমে নথিভূক্ত করেছিলেন? আমি বলছি। তিনি ছিলেন মিসেস ব্রিটন। তার জন্যই আজ এই ২০২০ সালে এসেও ক্রিসমাস কেক এর স্বাদে মাতোয়ারা হতে পারছি।
এবার আসি বাঙালির ফেস্টিভ মুডে ঘোরাঘুরি ও খানাপিনার ব্যাপারে। কলকাতার বুকে আপনি অনেক দোকানই পেয়ে যাবেন যেখানে অসাধারণ সমস্ত ফ্রুটকেক, প্লামকেক ও ক্রিসমাস কেক তৈরি হয়। ঐতিহ্য-র খাতিরে দেখতে গেলে ১১৭ বছর ধরে চলমান জিউয়িশ বেকারি শপ অনবদ্য সব কেক আমাদের উপহার দিয়ে আসছেন। আপনি ঠিকই অনুমান করেছেন। আমি নাহুমস এর কথাই বলছি! নাহুমস এর কেক প্রত্যক্ষ করতে সাত-সমুদ্র তেরো নদী পার করে কত মানুষই না এসেছেন। আর এদিকে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও যদি আপনি নাহুমসের কেক জীবনে একবারও না টেস্ট করে থাকেন, তাহলে আমি ক্ষমা করলেও ঈশ্বর আপনাকে কোনোদিনও ক্ষমা করবেন না!
যাই হোক! মজা ও কৌতুকের মাঝেও সত্যিটা হলো গিয়ে, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে করোনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বড়দিনের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই সাহস করছেন না। তার উপর নতুন বছরের আগে করোনা মহাশয়ও আবার নবরূপ ধারণ করে সুসজ্জিত হয়েছেন। অগত্যা সান্তা দাদু যতদিন না কোভিডের ভ্যাকসিন নিয়ে আসছেন, ততদিন বরং বাড়ির বানানো কেকের উপরেই ভরসা রাখুন।
কথা দিচ্ছি চেখে দেখলে মন্দ লাগবে না!!!

 

উপকরণ
• ২ প্যাকেট চকোলেট/ভ্যানিলা ওরিও বিস্কুট (ছোটো)
• গুঁড়োচিনি স্বাদমতো
• দুধ ½ কাপ (চায়ের কাপ)
• বেকিং পাউডার ১চা চামচ
• মাখন/তেল গ্রীজ করার জন্য
• ময়দা অল্প (কোট করার জন্য)
• মোটা দানার নুন (প্রেসার কুকার প্রি-হিট করার জন্য)
• গার্নিশ করার জন্য চকলেট সিরাপ ব্যবহার করতে পারেন

 

 টুকিটাকি
কেক তাড়াতাড়ি হাতের সামনে পাওয়ার জন্য কিছু টুকিটাকি কাজ আগেভাগে সেরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
• যে পাত্রটিতে কেকের মিশ্রণটি ঢালবেন, সেটিকে মাখন/তেল দিয়ে গ্রীজ করে সামান্য ময়দা দিয়ে চারপাশ ভালোভাবে কোট করে নিতে হবে।
• অপরদিকে এমন একটা সাইজের প্রেসার কুকার নিতে হবে যাতে পাত্রটি এঁটে যায়, এবার ঢাকনার সিটি আর রাবার খুলে রেখে কুকারের ভিতরে মোটাদানার নুন ছড়িয়ে সামান্য উঁচু বাটি বসিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে ১০মিনিট হাইফ্লেমে প্রিহিট করতে হবে।

 

প্রণালী
ওরিও বিস্কুটগুলো নিয়ে একটি মিক্সারে ঢেলে মিহিগুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর মিক্সিংবৌলে বিস্কুটের গুঁড়ো ঢেলে তাতে মেশাতে হবে ১চা চামচ বেকিং পাউডার আর স্বাদ মতো গুঁড়োচিনি। ভালোভাবে শুকনো উপকরণগুলো হুইস্কার (মিক্স করার একধরণের যন্ত্র বিশেষ) বা সেটি না থাকলে কাঁটা-চামচ দিয়েও মেশাতে পারেন। এরপর অল্পঅল্প করে রুম-টেম্পারেচারে রাখা দুধ ঢেলে মন্ডটাকে মিক্স করতে হবে যাতে কোনো ডেলা না থাকে।
এবার কেকের মিশ্রণটি আগে থেকে সেট করা পাত্রে ট্রান্সফার করে টেবিলে বেশ কয়েকবার ট্যাপ করে বা ঠুকে নিতে হবে।
মুহূর্তের মধ্যেই ১০ মিনিট প্রিহিট করা প্রেসার কুকারে পাত্রটিকে সাবধানে বসিয়ে ঢাকনা ভালভাবে আটকে প্রথম ২৫ মিনিট লোফ্লেম এবং শেষের ৫মিনিট হাইফ্লেম, অর্থাৎ মোট ৩০মিনিট কেকটি বেক করতে হবে।

যার শেষ ভাল
কেক ঠান্ডা হলে চকলেট সিরাপ ও অন্যান্য টপিংস (জেমস, কিটক্যাট, বিভিন্ন ক্যান্ডি) উপরে ছড়িয়ে দিয়ে ইচ্ছামতো সাজিয়ে ফেলুন।
প্রত্যেক বছরই তো বাঙালি বাইরে থেকে আনা কেক খায়। এই বছর কোভিডকালের জন্য নিজের হাতকে একটু ঝালিয়ে নিতে, ঘরে মিষ্টি গন্ধে ভরিয়ে তুলতে এই বছর ট্রাই করে দেখতেই পারেন ওরিও কেক।
আর দেরি কীসের? এই বড়দিনে বানিয়ে ফেলুন, খান, খাওয়ান আর প্রশংসা কুড়োন।

জিভে জল: হাতে সময় কম? চটজলদি বানান ‘ওরিও কেক’

লিখলেন অনিন্দিতা সুর


এখনই শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।