কথায় কথায় রেগে যাচ্ছে শিশু? এই সাত টোটকায় মিলবে সুরাহা

 

সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় বাবা-মাকে। বিশেষত সন্তানের শৈশবে অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন মা-বাবার পক্ষে। অনেক সময় রাগ এবং জেদের বশে শৈশবে এমন অনেক কাজ করে ফেলে শিশুরা যা প্রকৃত অর্থেই সকলের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে । তাই শৈশব থেকেই সন্তানকে রাগ দুঃখ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি শেখানো অত্যন্ত জরুরী।

এক্ষেত্রে মা-বাবা কেউ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রথম বিষয়টি হলো সব সময় ধৈর্য ধরতে হবে। সন্তান কোন ভুল করার সাথে সাথেই তাকে শেখাতে গেলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। সন্তানের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নিজে রাগলে চলবে না। সন্তান রেগে গিয়ে কিছু করলে তাকে শাসন করা অত্যন্ত মুশকিল। তাই সমস্যা বৃদ্ধি না করে সন্তান শান্ত হলে তখন তার সাথে কথা বলা উচিত।

নিজেদের অভাব-অভিযোগ অনেক সময়ই সঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারেনা শিশুরা। তাই তাদেরকে বেশি কথা বলার সুযোগ দিতে হবে বাবা মাকে। সন্তান অল্প অল্প করে বললেও তার রাগ দুঃখ অভিমান এর সমস্ত কথা মন দিয়ে শুনে তাকে শান্ত মাথায় সহজভাবে সমস্ত কিছু বোঝাতে হবে মা-বাবাকে।

বিশেষজ্ঞদের কথা অনুসারে সন্তানের ট্রিগার পয়েন্ট কি সে বিষয়ে নজর দিন। ট্রিগার পয়েন্ট বলতে কী বোঝায় আসুন তা জেনে নেওয়া যাক। আপনার সন্তান কোন কোন কারণে হঠাৎ রেগে যাচ্ছে সেই বিষয়টি ভালো করে বুঝতে হবে বাবা মাকে। আর এই বিষয়টি কেই বলা হয় ট্রিগার পয়েন্ট।

সন্তানকে সহানুভূতির শিক্ষা দিন।সন্তান যদি অবুঝ হয় তা হলেও আপনাদের অস্থির হলে চলবে না। বকা না দিয়ে যতটা ভালো ভাবে সম্ভব বোঝান সন্তানদের।

তবে এতো কিছুর মাঝেও সন্তানকে কখনোই অযথা প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। অনেক বাবা মা সমস্যা এড়াতে সন্তানদের বায়না সহজেই মিটিয়ে দেন। তবে এতে কিন্তু হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থেকে যায়।

সন্তানের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাবা মায়ের দৈনন্দিন আচার-আচরণের। বাবা-মায়ের পারস্পরিক টানাপোড়েন সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সংযত আচরণ একান্ত আবশ্যক। সন্তানদের সামনে নিজেদের উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলুন।

রাগ নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন করা একান্ত আবশ্যক। এক্ষেত্রে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। সেই সাথে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো প্রাণায়াম করতে হবে। ছবি আঁকা গান বা নাচের মতন সৃষ্টিশীল কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও অনেক সময় নিয়ন্ত্রণে থাকে রাগ। এই অবশ্যই এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।

এই সমস্ত বিষয়গুলি সঠিকভাবে মেনে চললে নিয়ন্ত্রণে থাকবে মেজাজ ।সেই সাথে কথায় কথায় রেগে যাবে না আপনার সন্তান। শান্তি বজায় থাকবে আপনার সাজানো সংসারে।

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: