‘মাস্টার আজও হবুই আছে, দরজায় সরকার’, গানে গানে রাজনৈতিক বিদ্রুপ সৌমিকের (ভিডিও)

বিবিধ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গত কয়েকবছর ধরেই উঠছে। এমনকী, দুর্নীতিরও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আপার প্রাইমারি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় আরও জটিল করে তুলেছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে। আর সেই প্রসঙ্গেই ‘হবুমাস্টার‘দের যন্ত্রণার কাহিনি তুলে ধরে পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বাঁধলেন ড. সৌমিক দাস। ফেসবুকে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সেই গানের ভিডিওটি। (‘মাস্টার আজও হবুই আছে, দরজায় সরকার’, গানে গানে রাজনৈতিক বিদ্রুপ সৌমিকের)

আরও পড়ুন: মিলল হাইকোর্টের অনুমতি, অবস্থান বিক্ষোভে নামছেন লক্ষাধিক শিক্ষক

‘শিক্ষক নিয়োগ শেষ কবে হয়েছিল মনে পড়ে? পড়ছে না তো? না মনে পড়ারই কথা। কত ছেলেমেয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে…

Posted by বিবিধ ডট ইন bibidho.in on Thursday, 17 December 2020

 

‘শিক্ষক নিয়োগ শেষ কবে হয়েছিল মনে পড়ে? পড়ছে না তো? না মনে পড়ারই কথা। কত ছেলেমেয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে আজ অন্য পথ বেছে নিয়েছে কে জানে! ‘হবুমাস্টার’ এদের কথাই বলে। এটা নিছক গান নয়। ‘তোদের চাকরি কী দরকার, ওরে দরজায় সরকার…”, সৌমিক দাসের ইউটিউব চ্যানেলে ‘হবুমাস্টার’ গানটি সম্বন্ধে এমনটাই লেখা রয়েছে। মূলত  শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় অনিয়মকে কেন্দ্র করেই যে এই গান, সে কথা বলা বাহুল্য।

তবে শিক্ষক নিয়োগ বা এই প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে কেন হঠাৎ সৌমিক লিখলেন এই গান? তাঁর কথায়,

এই সমস্যাটা নতুন নয়। তবে এই সমস্যাটা আমার ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলল সম্প্রতি। যখন দেখলাম, নিয়োগ প্রক্রিয়া অনিয়মিত, অথচ ভোটের মুখে শুধুমাত্র একটা বিপক্ষ দলের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য ‘দুয়ারে সরকার‘ নামে একটি প্রোজেক্ট লঞ্চ করল সরকার। যার নিজের অন্দরের মধ্যেই এত অনিশ্চয়তা, যার নিজের ঘরই ঠিক নেই, সেখানে নতুন করে একটা প্রোজেক্ট…! এই যে এত প্রোজেক্ট… ভাল করে দেখলে বোঝা যাবে, বাম আমলে যা ঋণের পরিমাণ ছিল, তা আজ প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

আর এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে রাজ্যের চাকরি ও শিল্পের ঘাটতিকেই দায়ী করেছেন শিল্পী।

তবে শুধুমাত্র ‘হবুমাস্টার’ গানটিই নয়। গত বেশ কয়েকমাস ধরেই এরকম পলিটিক্যাল স্যাটায়ার বেঁধেছেন সৌমিক দাস। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

আমার মনে হল, গানবাজনা অনেক হল, পুরস্কারও পেলাম। সবকিছুই হল। কিন্তু চারদিকে এই যে… আমি তো শুধু শিল্পীদের সঙ্গে  মিশি না। আমার ভাইবোন, আমার কলেজের জুনিয়র বা অন্য কেউ, সবাই তো শিল্পী নন। দিনের শেষে আমরা সবাই সাধারণ মানুষ। তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত একটা বঞ্চনা চলছে। গত ১০ বছরে আমাদের রাজ্য ১০ গুণ পিছিয়ে গেছে। আমি বলছি না যে, বাম আমলে সব ভাল ছিল। যেহেতু আমি একজন অধ্যাপক, আমি দেখছি, এই রাজ্যে যেহেতু কর্মসংস্থানের সুযোগ যেহেতু কম, তাই এখানের ছেলেমেয়েরা কিন্তু পড়াশোনার জন্য ফের বাইরের কলেজে যাওয়া শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: রিভিউ: ভক্তের চোখে ‘মড়কের গান’: সম্ভাবনা-সংশয়ের সেতুবন্ধন

বারবার তার গানে সরকার বিরোধিতার কথা উঠে আসছে। তবে শুধু বিরোধিতা করার জন্য যে এই বিরোধিতা, তা নয়। তিনি বলেন,

আমি কিন্তু বিগত ১০ মাস ধরে এই ধরনের গান লিখছি। তার কারণ, শিল্পী শুধুমাত্র বিনোদনের আয়োজন করে না। শিল্পীর দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। পৃথিবীর ইতিহাস বলছে, যখনই কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে গণআন্দোলন বা বিদ্রোহ হয়েছে, তার অন্তত পাঁচবছর আগে সেই বিষয় নিয়ে শিল্পীরা বিদ্রোহ করেছে।

তাছাড়া পলিটিক্যাল স্যাটায়ার প্রসঙ্গে এর আগে বিবিধ ডট ইন-এ দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন,

এখন যে বয়সে আছি, সেখানে দাঁড়িয়ে কিন্তু আমরা দেশের খবরটাই আগে পড়ি। যা পড়ে আন্দাজ করতে পারি যে, দেশের কোথায়, কী চলছে? সেখানে কিন্তু বারবার একটা করে স্বপ্ন দেখছি এবং স্বপ্নভঙ্গ হচ্ছে। সেটা হচ্ছেও খুব সুচতুরভাবে। যাঁরা রাজনীতিকে বিশ্লেষণ করে বুঝতে চেষ্টা করেন, তখন কিন্তু এই পুরো বিষয়টার মধ্যে যে নোংরা রাজনীতিটা চলছে, তা তাঁরা বুঝতে পারেন। আমি যত এটা বুঝতে পারছি, আমি যেহেতু প্রতিবার ভোট দিই এবং সবকটা ভোট দিই, আমার প্রতিবার মনে হচ্ছে, আমি যেন ঠকেছি। এই ঠকে যাওয়া থেকেই আমার মনে রাগ তৈরি হচ্ছে। সেই রাগগুলো উগরে দিচ্ছি পলিটিক্যাল স্যাটায়ারের মাধ্যমে।

‘মাস্টার আজও হবুই আছে, দরজায় সরকার’, গানে গানে রাজনৈতিক বিদ্রুপ সৌমিকের লিখলেন শ্রী দে. দা. (দেবাশিস দাস)

আরও পড়ুন: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ট্রেন্ডিংয়ে বাংলা গানের কনসার্ট! ফের নেতৃত্বে রূপম

 

দেখুন ভিডিও:

সবরকম আপডেট পেতে লাইক করুন বিবিধ-র ফেসবুক পেজ

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: