গুপ্তধনে ঠাসা ‘রহস্যময়’ পদ্মনাভস্বামী মন্দির আজও পাহারা দেয় বিষধর সাপ?

 

বিবিধ ডট ইন: ভারতের অষ্টম শতাব্দীর ইতিহাসে অন্যতম রহস্যে ঘেরা মন্দির কেরলের তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত পদ্মনাভস্বামী মন্দির। ফনা তুলে থাকা সাপ ‘অনন্তনাগের’ উপরে আধশোয়া অবস্থায় ভগবান বিষ্ণু অবতার রূপে পূজিত হন এই মন্দিরে। ভারতের দুই প্রাচীন স্কন্দ ও পদ্ম পুরাণে উল্লিখিত আছে এই মন্দির।

এই মন্দিরের মূল পাথর এবং ব্রোঞ্জের কারুকার্যে নির্মিত। নেপালের গন্ডকী নদীর তীর থেকে আনা ১২০০৮ টি শালগ্রাম শিলা দিয়ে নির্মিত বিষ্ণু মূর্তি ১৮ ফুট দৈর্ঘ্যের। অদ্ভুত বিষয়, এই মন্দিরের গর্ভগৃহে অবস্থিত তিনটি দরজা দিয়ে তিনটি অংশে ভগবান দর্শনেরস সুযোগ পান পূণ্যার্থীরা। গর্ভগৃহের প্রথম দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে দেবতার মস্তক ও বক্ষ যুগল। হাত এবং পায়ের অংশটুকুর দেখা মেলে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দরজা দিয়ে প্রবেশ করার পর। মন্দিরের ৮০ ফুট উচ্চতার ধ্বজ স্তম্ভটি সোনার জলে রূপান্তরিত রূপোর পাত দিয়ে মোড়া।

রুবি সহ অন্যান্য মহামূল্যবান পাথরে সজ্জিত এই মূর্তিটি ১৮ ফুট লম্বা সোনার চেইন,রুবি, পান্না, ৩৬ কেজি ওজনের ঝালর, রত্নখচিত ১,২০০টি সোনার চেইন , ৫০০ কেজি ওজনের সোনার স্তূপ প্রভৃতি দ্বারা সুসজ্জিত। এ ছাড়াও রয়েছে ৮০০ কেজি ওজনের ১,৯৫,০০০টি স্বর্ণমুদ্রা।

এই সমস্ত স্বর্ণমুদ্রা মন্দিরের দু নম্বর ভল্টে গচ্ছিত রয়েছে। মন্দির প্রতিষ্ঠা রাজপরিবাবের বিশ্বাস এই ভল্ট খোলা হলেই ‘প্যান্ডোরার বাক্স’-এর মতন ঘনিয়ে আসবে বিপদ। শাস্ত্রজ্ঞানীদের মতে, একমাত্র গড়ুর মন্ত্র জপ করেই এই দরজা খোলা সম্ভব। রাজপরিবারের এক সদস্যেরর কথায়,

প্রচলিত ধারনা অনুযায়ী ঐ কক্ষে আছে বিশালকার একটি সাপ, যার অনেকগুলো মাথা ও জিভ। এই সাপটিই দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠের রক্ষক। তবে এর রহস্য ভেদে করা এখনও সম্ভব হয়নি,তাই যত দিন যাচ্ছে এই গুহাকক্ষ নিয়ে রহস্য ততোই ঘনীভূত হচ্ছে। অনেকে মনে করেন, এই প্রকোষ্ঠের মধ্যে এক সুড়ঙ্গ পথ আছে যার অন্য প্রান্তটি সোজা ওখানকার রাজার মহল হয়ে সমুদ্রের সাথে মিশেছে, তাই দরজা’টির কোথাও কোনও ছিদ্র নেই।

লিখেছেন সায়ন্তন মন্ডল

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: