বিশেষভাবে সক্ষম: বিয়েতে উৎসাহ দিতে পুরস্কার ঘোষণা এই রাজ্যের

বিবিধ ডট ইন: ভারতবর্ষে বেশিরভাগ বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবেই ধরেন অধিকাংশ, এমনটাই অভিযোগ। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, বিশেষভাবে সক্ষম কোনও মানুষকে বিবাহ করার ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যায় এই সীমাবদ্ধতা। প্রচলিত এই চিন্তাধারা রুখতে এবং  বিয়ের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের স্বার্থে কয়েক বছর ধরে বহু রাজ্যকেই এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। সক্ষম/ ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষদের সাথে বিবাহে উৎসাহ দেওয়ার জন্য আর্থিক পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্প্রতি উড়িষ্যা সরকার আর্থিক উপহার ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২.৫ লক্ষ করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন বিভাগের কমিশনার তথা সম্পাদক ভাস্কর শর্মা জেলা শাসকদের একটি নির্দেশিকা জারি করেছে।যেখানে ভিন্ন ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সঙ্গে বিবাহের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পঞ্চাশ হাজার থেকে বাড়িয়ে আড়াই লক্ষ করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবলমাত্র ভিন্ন ভাবে সক্ষম পাত্র/ পাত্রীদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। পাত্রের বয়স ২১, পাত্রীর বয়স ১৮ এবং পণমুক্ত বিবাহ হওয়া বাধ্যতামূলক।

মধ্যপ্রদেশ একইরকম উদ্যোগ নিয়েছে যেখানে ২ লক্ষ টাকা নগদ উপহার ব্যবস্থা করা হয়েছে।তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্র সরকার যথাক্রমে ১ লক্ষ এবং ৫০ হাজার আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করেছে।

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৫৯ শতাংশ মহিলা এবং ৪৮ শতাংশ পুরুষ ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষকে বিয়ে করতে অনিচ্ছুক। মাত্র ৭% মহিলা এবং ১৫% পুরুষ বলেছেন যে, তাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম মানুষকেও বিয়ে করতে পারবেন।

পরিসংখ্যানে এও দেখা গেছে যে, ভিন্নভাবে সক্ষম পাত্র বা পাত্রী ভিন্নভাবে সক্ষম সঙ্গীকেই বিয়ে করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তাঁদের মা-বাবা দেরও একই অভিমত।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মহিলাদেরই বিবাহের সময় তাঁদের মতামত গ্রাহ্য করা হয়না। বিশেষভাবে সক্ষম পাত্রীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের মা-বাবা বিশাল অঙ্কের পণ দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করেন বা তাঁদের সারাজীবন অবিবাহিত ও থাকতে হয় বেশ কিছু ক্ষেত্রে।

সারা দেশে বহু সম্মেলনের আয়োজন করা হয় যেখানে ভিন্নভাবে সক্ষম মানুষেরা তাঁদের সম-মানসিকতার মানুষদের খুঁজে পান। দেখা গেছে এরকম অনেক মানুষ যারা হয়তো অন্ধ, তারা অন্ধ মানুষদের সঙ্গেই বিবাহ করেছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, বহু মানুষ এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু চিন্তার কথা হলো যে, বহু লোক আবার টাকার লোভেই বিয়ে করছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এতে বিবাহিত জীবনে তাঁরা শারীরিক বা মানসিক সুখ থেকে বঞ্চিত এবং পীড়িত হচ্ছেন।

লিখলেন সোহম হাটুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *