একবোতল মদ আনিয়ে রেখো, বিদ্যাসাগরকে চিঠিতে লিখেছিলেন মধুসূদন

বিবিধ ডট ইন: মধুসূদন দত্তের ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন বিদ্যাসাগর। এমনকী, ‘ক্লাসিক কবি’র অমিত্রাক্ষর ছন্দও পছন্দ ছিল না বিদ্যাসাগরের। এই ঘটনা হয়তো অনেকেই জানেন। তবুও দু’-একটি ঘটনা বাদে দু’জনের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। সে কথা মধুসূদন একাধিক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও সাহিত্যপ্রেমীরা জানেন, মধুসূদনের বিখ্যাত পত্রকাব্য ‘বীরাঙ্গনা’ কবি উৎসর্গ করেছিলেন বিদ্যাসাগরকেই। এমনই ছিল দু’জনের সম্পর্ক।

‘বীরাঙ্গনা’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পর মধুসূদন বিলেত পাড়ি দেন পড়াশোনার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে অর্থকষ্টে পড়তে হয় কবিকে। তখন কবি শরণাপন্ন হয়েছিলেন বিদ্যাসাগরেরই। ১৮৬৪ সাল নাগাদ একটি চিঠিতে মধুসূদন লেখেন,

তুমিই একমাত্র, যে আমাকে আমার এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারো।

এখানেই থেমে থাকেননি। এর অব্যবহিত পর আরও একটি চিঠি লিখেন তিনি। সেখানে উঠে এসেছে তাঁর আর্থিক সমস্যার কথা। তিনি লেখেন,

আমি যখন কলকাতা ছেড়ে এখানে এসেছি, তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে এরকম  দুর্দশা এবং ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

এই সময় পরপর তিনটে চিঠি লিখেছিলেন মধুসূদন। জবাবে বিদ্যাসাগর নিঃস্বার্থে ভরসা দিয়েছিলেন মধুকবিকে। এই ঘটনার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেও দেখা গেছে কবিকে। তৃতীয় চিঠিতে তিনি বলেন,

দেশে ফিরে আমি বলতে পারব যে, তুমি কেবল বিদ্যাসাগর নও, করুণাসাগরও’।

এরপরও এদেশ থেকে বিদ্যাসাগর টাকাও পাঠান মধুসূদনকে। এমনকী, পরে নানাভাবে সাহায্য করেছেন বিদ্যাসাগর।

পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছিলেন বটে, কিন্তু অর্থকষ্ট পিছু ছাড়েনি মধুসূদনের। খোলামকুচি টাকা খরচ করতেন। শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও ঋণের বোঝা বেড়ে চলছিল তাঁর।

এতকিছুর পরও তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল অটুট। সুবলচন্দ্র মিত্র রচিত একটি বইয়ে মধুকবির একটি দুর্লভ চিঠি পাওয়া যায়। সেই চিঠিতে বিদ্যাসাগরের বাড়িতে এক সহকর্মীকে নিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বিদ্যাসাগরের উদ্দেশে কবি লিখেছিলেন,

আমার সহকর্মী মূর্তিলাল চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে তোমার ওখানে যাব। তুমি একবোতল শেরি আনিয়ে রেখো।

হ্যাঁ, বিদ্যাসাগরকে মদ আনিয়ে রাখতে বলেছিলেন মধুসূদন।

One thought on “একবোতল মদ আনিয়ে রেখো, বিদ্যাসাগরকে চিঠিতে লিখেছিলেন মধুসূদন

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: