৭-১ গোলে জয় মোহনবাগানের, আনন্দে নজরুল যা করেছিলেন

বিবিধ ডট ইন: লেখার ক্ষেত্রে স্বভাব কবি বলে পরিচিত তিনি। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অন্যরকম। নজরুল ইসলামের খেয়ালখুশির শেষ নেই। পছন্দের দল জিতেছে দেখে মাঠে নেমে নাচানাচি করা কিংবা আনন্দে বন্ধুদের খাওয়ানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। তা তো করলেনই। পাশাপাশি হঠাৎ করে তাঁর মাথায় যে ভাবনা এসেছিল এবং তা বাস্তবায়িত করতে নজরুল যা করেছিলেন, তা হয়তো অনেকেই জানি না আমরা। বিদেশি ফুটবল দলকে হারিয়েছিল মোহনবাগান। আর তারপরই আনন্দ উচ্ছ্বাসে ঢাকায় যেতে মন চাইল কাজীর। পকেটে টাকা ছিল না। তা সত্ত্বেও নজরুল এবং তাঁর বন্ধুরা কীভাবে পৌঁছেছিলেন ঢাকায়? (৭-১ গোলে জয় মোহনবাগানের, আনন্দে নজরুল কী করেছিল জানেন?)

আরও পড়ুন: হারমোনিয়াম থেকে কেশ তেলের বিজ্ঞাপন, অন্য ভূমিকায় নজরুল

সেদিন মোহনবাগানের খেলা ছিল বিদেশি দল আরডিসিএলআই-এর বিরুদ্ধে। ফুটবলের প্রতি নজরুলের বরাবরের আগ্রহ। সেই ম্যাচে মোহনবাগান ৭-১ গোলে গোহারান হারায় বিদেশি দলকে। সাল ১৯২৭। আর সেই জেতার আনন্দে কাজীসাহেব স্থানকালপাত্র ভুলে মাঠেই শুরু করলেন উল্লাস নৃত্য! সওগাত অফিস থেকে পাওয়া কিছু টাকা ছিল তাঁর পকেটে। খেলা শেষে বন্ধুদের নিয়ে চললেন খাবারের দোকানে। জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হল। তারপর? চন্দননগর যেতে মন চাইল কবির। সদলবলে গেলেনও সেখানে। কিন্তু সেখানে গিয়েও তিনি ভাবনায় পড়লেন। এই আনন্দ তো বেশিক্ষণ থাকবে না! তাহলে কী করা যায়? এরপর তিনি যে প্রস্তাব দিলেন, তাতে তাঁর বন্ধুরা তো থ! সেখান থেকে এবার গন্তব্য ঢাকায়। পকেটের টাকাও ফুরোতে বসেছে। কিন্তু কাজীসাহেবের প্রস্তাব বলে কথা। অগ্রাহ্য করে কার সাহস! তাছাড়া সবাই যখন চিন্তায় পড়লেন, তখন নজরুলের আশ্বাস— ‘ঘাবড়াও মত্‌’। ফন্দি আঁটলেন কবি। চন্দননগর থেকে সটান শিয়ালদহ স্টেশন। স্টেশনে নজরুলকে দেখে উল্টে নমস্কার করলেন টিকিট-পরীক্ষক। কাজীসাহেব তাঁদের সাধ্য এবং সাধের কথা জানালেন তাঁকে। এমনকী, এও বললেন, ‘প্রয়োজনে ভেন্ডর গাড়িতেই যেতে রাজি আছি।’ শেষপর্যন্ত টিকিট পরীক্ষকের সহযোগিতায় নজরুল ও তাঁর বন্ধুর চেপেছিলেন ইস্টবেঙ্গল মেলে। পৌঁছলেন গোয়ালন্দ স্টেশনে।

আরও পড়ুন: চুরি করতে ঢুকে ঘরের অবস্থা দেখে শিবরামকে চিঠি লিখেছিল এক চোর

এবার জলপথ। টিকিট পরীক্ষক পরিচিত ছিলেন বলে ট্রেনে আসার ব্যবস্থা নয় হয়েছিল, কিন্তু এবার? এখানে কেই বা চিনবেন কাজী সাহেবকে! কিন্তু সেই ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। জাহাজের ডেকে মাদুর পেতে বসে ধরলেন গজল। অমনি জাহাজের যাত্রীরা গোল করে বসলেন নজরুলে চারপাশে। আকৃষ্ট হয়েছিলেন জাহাজের ক্যাপটেন থেকে কর্মচারীরাও। এভাবে একসময় সদলবলে ঢাকায় পৌঁছলেন কাজী সাহেব।

 

আপডেট থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

 

আর্কাইভ: প্রেরণা   ক্লিনিক   ব্লগ   বিজ্ঞান   লাইফস্টাইল   খেলা   ভ্রমণ   অ্যাঁ!   বিনোদন

৭-১ গোলে জয় মোহনবাগানের, আনন্দে নজরুল কী করেছিল জানেন? কন্ট্রিবিউটর সৈকত বালা।

অন্যান্য লেখা: সরল দিনের গদ্য: সৈকত বালা

বিবিধ ডট ইন ব্লগ পোস্ট সৈকত বালা

সৈকত বালা

যোগাযোগ: ফেসবুক প্রোফাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *