সৃজিতের চোখে ‘ফেলুদা ফেরত’: ডাঁহা ফেল পরিচালক?

বিবিধ ডট ইন: থ্রি মাস্কেটিয়ার্স, চারমিনার ও টানটান রহস্য! সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের দৌলতে বাঙালির প্রিয় এই জমজমাট কম্বিনেশন বড়দিনে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আড্ডাটাইমসে। সৌমিত্রবাবু (চট্টোপাধ্যায়) এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীকে ফেলুদা চরিত্রে দেখে এসেছে আপামর বাঙালি। সেক্ষেত্রে টোটা রায়চৌধুরীকে এই চরিত্রে কাস্ট করে অনেকটাই চমক দিয়েছিলেন পরিচালক। আপনি কী মনে করেন, সৃজিত ডাঁহা ফেল? ‘ধুর মশাই’! (সৃজিতের চোখে ‘ফেলুদা ফেরত’: ডাঁহা ফেল পরিচালক?)

আরও পড়ুন: রক্ মিউজিক করি বলেই উচ্ছৃঙ্খল হব— এটা অর্থহীন: দীর্ঘ আলাপচারিতায় চন্দ্রাণী

 

সবরকম আপডেট পেতে লাইক করুন বিবিধ-র ফেসবুক পেজ

বাঙালি পুরনো স্মৃতি ও নস্টালজিয়া আঁকড়ে বেঁচে থাকতে পছন্দ করে। তাই কাস্টিং কনফার্মড হওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলেছিল বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। তা যে সবটাই নেতিবাচক, তেমনটা নয়। অনেকেই ইতিবাচক ভঙ্গিতে সাদরে গ্রহণ করেছিলেন এই নতুন কাস্টিং। আর ঠিক এইখানেই পরিচালক আসল খেলাটা পুরো হাতের মুঠোয় এনে ফেলেছেন… কোনও বিতর্কে কান না দিয়ে পুরোটাই সৃজিতোচিত কায়দায় ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

প্রথমেই আসি পরিচালনা প্রসঙ্গে। সন্দীপ রায় ঘরানার বাইরে এসে, পুরো কাস্টিং নিজের মতো করে ঢেলে সাজিয়েছেন পরিচালক। সময়কাল পরিবর্তন না করে হুবহু সেই সময়ে দাঁড়িয়ে চিত্রনাট্যকে বর্ণনা করেছেন সাবলীল ভঙ্গিমায়। কাকাবাবু চরিত্রকে নিজস্বতা দিতে গিয়ে কিছুটা সমালোচিত হয়েছেন বলেই হয়তো এক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানী পরিচালক। স্ক্রিপ্টে বিশেষ কিছু পরিবর্তন করেননি সৃজিত। কিছুকিছু দৃশ্যপট তো এমনভাবে সাজিয়েছেন যে হুবহু বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা সত্যজিৎ রায়ের ছবির কথা মনে করায়। তবে গল্পের মাঝে রাজনৈতিক পাঁচফোড়নগুলি বেশ মশলাদার!

দেখুন: ভাল নেই কফিহাউস!

ফেলুদার মতো হেভিওয়েট চরিত্রের কাস্টিং, বাংলার প্রথমসারির স্টার অভিনেতাদের (আবির-অনির্বাণ-যীশু-পরম) বাইরে গিয়ে করার কথা ভেবেছেন যে পরিচালক, তার জন্য অনেকাংশে সাধুবাদ প্রাপ্য তাঁর। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ক্যামেরা, ফ্রেমিং, লাইটিং, সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে আলাদা কিছু বলার নেই। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘বাজেটের সীমাবদ্ধতা’ সত্ত্বেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন পরিচালক। তবে অ্যানিমেশন-ভিএফএক্স-এর কাজও খারাপ নয়। আউটডোর শুটিংয়েও বহু মনকাড়া দৃশ্যপটের মনোরম চিত্রায়ন চোখে পড়েছে দর্শকের।  (সৃজিতের চোখে ‘ফেলুদা ফেরত’: ডাঁহা ফেল পরিচালক?)

আরও পড়ুন: এআর রহমানের সুরে নতুন বছর শুরু, আশীর্বাদ চাইলেন ইমন



এবার সরাসরি আসি গল্পের ফেলুদায়। স্রষ্টা মানিকবাবুর আঁকা ফেলুদার সঙ্গে সৌমিত্রবাবুর পরে সবচেয়ে বেশি যদি কারুর মিল থেকে থাকে, তো তিনি টোটা রায়চৌধুরী। মেক আপ সম্পূর্ণ যথাযথ। প্রথমদিকে কিছুটা আড়ষ্টতা দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয় অনবদ্য। দর্শকদের একাংশ তো বলছেন, আগামী একদশকের জন্য অন্তত ফেলুদার নতুন মুখের সন্ধান করতে হবে না। তবে তোপসের চরিত্রে অনেক ক্ষেত্রে এক্সপ্রেশনের অভাব লক্ষ্যনীয়।

নতুন এক অভিনেতাকে পেলাম জটায়ু চরিত্রে। এর আগে একেনবাবু চরিত্রে অনির্বাণ চক্রবর্তী নজর কেড়েছেন। কিন্তু একেনবাবু ঘরানার বাইরে এসে সাবলীল অভিনয় দক্ষতায় জটায়ু চরিত্রটিকে অনায়াসে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর সরল মন, ধাঁধা না বোঝা, বাংলা-হিন্দি-ইংরেজি মিশিয়ে খিচুড়ি করে ফেলা, ফেলুদার কাছে বকা খাওয়া প্রভৃতি মুহূর্তগুলি দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন শুধুমাত্র সাবলীল অভিনয় ও এক্সপ্রেশন দিয়েও দর্শকদের মধ্যে হাস্যরস সৃষ্টি সম্ভব। শঙ্করলাল চরিত্রে কৃষ্ণেন্দু দেওয়ানজি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে অনবদ্য।

বিভিন্ন পার্শ্বচরিত্রে কাস্টিং যথাযথ। বর্ষীয়ান অভিনেতা ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় অসামান্য। সমদর্শী, অরিন্দম ও অন্যান্যরা নিজেদের চরিত্রে পারফেক্ট।
ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে ফেলুদার থিম-সং হয়তো অনেকেই মিস করেছেন। কিন্তু জয় সরকারের স্বতন্ত্র মিউজিক কম্পোজিশন প্রশংসনীয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী আবহসঙ্গীত মনে ধরার মতোই।

আরও পড়ুন: সাক্ষাৎকার: এক্সক্লুসিভ আড্ডায় অঞ্জন দত্ত





অনেকেই এই প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায় এবং সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের তুলনা টানেন। কিন্তু এই তুলনাটা নেহাতই বোকামি। এছাড়া ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু চরিত্রে ইতিপূর্বে স্বনামধন্য অভিনেতারা অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফেলুদা বলতেই বাঙালির চোখে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই চরিত্রকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট, নতুন কাস্টিং, পাহাড়প্রমান প্রত্যাশার খাড়া মাথায় নিয়ে কাজ করার মধ্যে যে সাহসিকতা রয়েছে, তা বোধহয় জেনেবুঝেই সৃজিত দেখিয়েছেন। পুরো টিম নতুনভাবে তুলে ধরেছেন ফেলুদাকে। প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে যে উত্তীর্ণ পরিচালক ও তাঁর গোটা টিম, এমনটাই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। এমনকী, পরবর্তী সিরিজ ও প্রতিবছর ‘ফেলুদা’ ফেরত আসার দাবি জানিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব। কেউ কেউ তো বলছেন, মানিকবাবু থাকলে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পিঠ চাপড়ে হয়তো বলেই বসতেন, ‘সাবাস তোপসে!’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

সৃজিতের চোখে ‘ফেলুদা ফেরত’: ডাঁহা ফেল পরিচালক? লিখলেন অনিন্দিতা সুর

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: