আপনিও কি এই মাস্ক ব্যবহার করেন? সাবধান!

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন: প্রায় একবছর গোটা বিশ্ব তথা ভারতবর্ষে লকডাউনের পরেও আবার দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছে। রোজ কোভিডে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে মাস্ক আমাদের জীবনে একটি দৈনন্দিন উপাদানে পরিণত হয়েছে।

রাস্তা ঘাটে ফেস-মাস্ক যেমন কেনা, তেমনই বিক্রির হিড়িক পড়েছে। আশঙ্কার কথা এই হলো যে সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মাস্ক তৈরিতে কিছু রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে যা শরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে।

ইকোটেক্সটাইলের রিপোর্টে দুজন বিজ্ঞানীর গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মাস্ক তৈরিতে কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যা স্বল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য মানুষের ক্ষতি করতে পারে।

হ্যামবার্গ এনভারমেন্টাল ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মাইকেল ব্রোনগার্ট পরীক্ষায় পেয়েছেন যে মাস্ক তৈরিতে ফরমালডিহাইড ব্যবহার করা হয়। এই ফরমালডিহাইড নতুন মাস্কে সুগন্ধি রূপে কাজ করে। কিন্তু তা  আমরা সরাসরি বাতাসের সঙ্গে সেবন করছি যা মনুষ্য শরীরের জন্য অনুরূপ নয়।

নীল রঙের সার্জিক্যাল মাস্কের ক্ষেত্রে আবার পরীক্ষায় কোবাল্ট পাওয়া গেছে। কোবাল্ট নীল ডাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আমরা মাস্কের মাধ্যমে একপ্রকার  রাসায়নিক ককটেলই সেবন করছি যা আমাদের শরীরে দীর্ঘকালীন প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে আমাদের নাক জ্বালা,গলা জ্বালা, হাঁচি,কাশি এবং মুখে র‍্যাশও হতে পারে।

অগসবার্গের মডার্ন টেস্টিং সার্ভিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডিটার সেডল্যাক এই গবেষণায় ওপর একজন গবেষক রূপে কাজ করেছেন। তিনি মাস্ক পরীক্ষা করে ফরমালডিহাইডের পাশাপাশি ফ্লুরোকার্বন ও পেয়েছেন, যা অত্যন্ত ক্ষতিকারক।


পারফ্লুরোকার্বন(পিএফসি) সাধারণত টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহার করা হয়।জ্যাকেট এবং ব্যাগ তৈরিতে কোটিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেডল্যাক বর্ণনা করেছেন যে পিএফসি এর সেফ লিমিট হলো ১৬ মিলিগ্রাম পার কিলোগ্রাম।কিন্তু তিনি এ আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে দীর্ঘসময়ের জন্য পারফ্লুরোকার্বন নাকে বা মুখে গেলে তা শরীরের উপর প্রভাব ফেলবেই।

 

তাহলে কী মাস্ক ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত?

দুজন গবেষকই স্বীকার করেছেন যে এরকম সিদ্ধান্তে আসার জন্য আরও যথেচ্ছ পরিমাণে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে মাস্ক তৈরির ক্ষেত্রে অন্তত কিছু নিয়ম কানুন জারি করা উচিত।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) ফেব্রিক মাস্কের ক্ষেত্রে রেগুলেশন জারি করেছে। ফেব্রিক মাস্ক তিনটি লেয়ার যুক্ত হতে হবে। ভিতরের লেয়ারে অ্যাবসরবেন্ট পদার্থ যেমন তুলো, মাঝের লেয়ারে নন-অ্যাবসরবেন্ট পদার্থ যেমন পলিপ্রোপাইলিন
এবং বাইরের লেয়ারে নন-অ্যাবসরবেন্ট পদার্থ পলিএস্টার জাতীয় পদার্থ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

 

লিখেছেন সোহম হাটুয়া


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *