এরিক ভন দানিকেন

বিবিধ ডট ইন:হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, এই সব নদীর মোহনা বলতে পারেন, ভারতবর্ষ। এই কথা তো বহুবার, বহু রকম ভাবে, বহু জায়গায় পড়েছেন। আমি তো আর নতুন কোনো তথ্য দিলাম না। কিন্তু একবার গভীর ভাবে চিন্তা করুন তো ! সত্যি কি মেলবন্ধন ঘটেছে?! নাকি কেবলই দায়বদ্ধতা। সত্যি কি একই বৃন্তে দুটো কুসুম ফোটাতে সক্ষম হয়েছি?! নাকি সেই কুসুমিত ফুলকে গাছ থেকে উপড়ে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা। সত্যি কি মানব সৃষ্ট ধর্মগ্রন্থ গুলোয় মেলবন্ধন আছে নাকি অন্য কিছু। না, নাস্তিক আমি নই। তার অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা মানে যে নিজেকে অবিশ্বাস করা। মানার আগে যাচাই করাও তো প্রয়োজন। নইলে তো ঈশ্বর বিশ্বাস আর অন্ধ বিশ্বাসে কোনো মিল থাকে না।

এই কয়েক বছর আগে কিছু প্রশ্ন করে সারা বিশ্বে আলোরণ সৃষ্টি করেন এরিক ভন ড্যানিকেন/দানিকেন। কি নামটা চেনা চেনা লাগছে নাকি?! ঠিকই ধরেছেন এই ভদ্রলোকেকে নিয়েই বাংলার রকবাজ রূপম ইসলাম গান বেঁধেছিলেন ~
‘মহা পুরুষেরা তাদের যুগে
চলে আসা রেওয়াজের হুজুগে
ভন্ড আখ্যা পেয়েই থাকেন
জেসাস খ্রিইস্ট ও ক্রুশে ঝুলেছেন।’
দানিকেনের করা সেই প্রশ্ন গুলোর উত্তর যুক্তিসঙ্গত ভাবে পৃথিবীর কোনো ধর্মগুরু দিতে পারেননি বা চাননি। ৮৫ বছরের সুইজারল্যান্ডবাসী এই লেখক কতটা সত্যি তা নির্ণয় করবে কেবল সময়… ঠিক যেমন করে গ্যালিলিও, ভিঞ্চি বা আর্কিমিডিসের মূল্যায়ন হয়েছিল।

তিনি তাঁর লেখা বইতে বলেছেন, ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে এবং তারা হয়তো ভীনগ্রহের প্রাণী। তারা মানুষের থেকে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত জীব। বিজ্ঞান থেকে শিল্প এই সব কিছুতেই তারা মানুষের থেকে কয়েক হাজার গুণ এগিয়ে। বাইবেলের বেশ কিছু পঙতি ও স্তবক তুলে, তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। বাইবেলে উল্লিখিত ঈশ্বরের যা বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, দানিকেনের মতনুসারে তা সম্পূর্ণরূপে ভিনগ্রহবাসীদের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি তাঁর বইতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন পিরামিডের। উল্লেখ করেছেন পীড়ি রেইস এর মানচিত্র, ইনকার ওই রহস্যাবৃত রোডের কথা। এমন কি কুতুবমিনারের ঠিক পাশে দন্ডায়মান লৌহ স্তম্ভটিরও উল্লেখ পাবেন তাঁর বইতে। কোহিস্তান, ফ্রান্স, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ রোডেশিয়া, সাহারা, পেরু, চিলির গুহা চিত্র সম্পর্কে তাঁর ধারণা অন্যান্য ব্যাক্তিদের তুলনায় সম্পূর্ণ পৃথক। তিনি অঙ্ক কষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এই সীমান্তহীন অসীম সৌরজগতে এমন কিছু গ্রহ আছে যেখানে প্রাণের অস্তিত্ব অস্বাভাবিক নয়। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে তাঁর লেখা বইয়ের কিছু অংশ তুলে ধরলাম। —
‘ বিমানের গতি যদি আলোর গতির শতকরা ৯৯ ভাগ গতিসম্পন্ন হয়, তাহলে নভশ্চর দের নভ চারণ কালে যখন মত ১৪.১ বছর অতিবাহিত হবে, পৃথিবীর মানুষের তখন ১০০ বছর কেটে গেছে ! নভশ্চর আর পৃথিবীর মানুষের সময়ের ফারাক বের করা যায় এই সূত্রে- t/T=√1-(v/c)2
{t= নভশ্চরের সময়, T= পৃথিবীর সময়, v= ওড়ার গতি, c= আলোর গতি} ‘

লেখক ধর্ম ও ধর্মযাজকদের সম্পর্কে ক্রোধান্বিত মনোভাবের সহিত যা বলেছেন ‘প্রাচীন প্রাচী সম্পর্কে অনেক গবেষণা অনেক বাধা পেয়েছে, কারণ বাইবেল যে ধর্মগ্রন্থ। আর ধর্ম মানেই তা চারধারে দুর্ভেদ্য অচলায়তন। সে অচলায়তনে আঘাত হানা দুরস্থান, সাহস করে কেউ তাতে একটি আঁচড় কাটতে এগোয়নি। ধর্মীয় বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সন্দেহের বাণী উচ্চারণ করবে, এত বড় বুকের পাটা কার আছে ??? এমনকি, ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর পন্ডিতেরা সকলে বাঁধা। পুরান কাল সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেই তো সেই বাইবেলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
যদি এই ধরণের প্রশ্ন তুলতে থাকি তাহলে কি সত্যি ধর্মাচরণ করা হবে ? যে সত্তাকে আর কোনো উপযুক্ত নাম না দিতে পেরে ঈশ্বর বলে ডাকি, যে দিন আমার শেষ প্রশ্নের চরম জবাব পাবো, সে দিন এ সত্তা থাকবে শাশ্বত, চিরায়ত, এ কথা আমি সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করি।’
এই ধরণের বাক্য বানে তো বিদ্ধ হবেই যে কোনো ধর্মগুরু। এই ধরণের চিন্তাধারা তাঁকে ঠেলে ফেলেছে এক নির্জন দীপে। যেখানে নেই মানুষের কলরব, রয়েছে কেবল অপার্থিব নিস্তব্ধতা।
মানুষ যে দিন বিশ্বাস করবে সারা পৃথিবীটা জুড়ে আছে কেবল, একটি মাত্র ঈশ্বর, একটি মাত্র জাতি, একটি মাত্র ধর্ম। সেই দিন সাদরে বরণ করা হবে এই ধরণের মানুষকে। সময়ের সাথে সাথে এই ধরণের মানসিকতা পরিণত হচ্ছে জীবাশ্মে। এ সমাজের বুকে, গোঁড়া হিন্দুত্ববাদ থাকতে পারে, গোঁড়া মৌলবাদ থাকতে পারে, গোঁড়া নিরপেক্ষবাদ কেন নয় ?

লেখকের কিছু প্রকাশিত বৎসর
উল্লেখযোগ্য বই
CHARIOT OF GOD। (1986)

THE GOLD OF THE. (1972)
GODS

GODS FROM OUTER (1969)
SPACE

SIGNS OF THE GODS. (1979)

EVIDENCE OF GODS. (2012)

HISTORY OF WRONG. (2017)

GODS NEVER LEFT US. (2017)

এছাড়াও আরও অনেক বই আছে যা পড়ে বিস্মিত হয়েছে গোটা বিশ্ব। আপনি যদি, নিরপেক্ষ মনোভাবাপন্ন গ্রন্থকীট হন তাহলে বিনীত অনুরোধ তাঁর লেখা বই গুলো একবার উল্টেপাল্টে দেখুন। তাহলেই বুঝতে পারবেন কতটা যুক্তিযুক্ত, ও কতটা বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা ও আদর্শে বিশ্বাসী এই লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *