দুধ পিঠের গাছ: এক স্বপ্নপূরণের গল্প

দুধ পিঠের গাছ: আস্ত একটা স্বপ্ন রচনা করেছেন গ্রামবাসীরা। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এই সিনেমাটির প্রযোজক একটা গোটা গ্রামের মানুষ। সেই সিনেমাটি নিয়েই লিখলেন রুজানা

দুধ পিঠে— মুখে পড়লেই যেমন মন ভাল হয়ে যায়, শেষ হলেই মনে হয়, ‘যা! শেষ… আর একটু খাই!’ উজ্জ্বল বসু পরিচালিত ‘দুধ পিঠের গাছ’ সিনেমাটি দেখার পর ঠিক এমনটাই মনে হয়, যা! শেষ…।  আর চোখে লেগে থাকে ঘোর, মনে মিঠা স্বাদ।

‘দুধ পিঠের গাছ’ শুধু সিনেমা নয়, এটি একটা জার্নি। কলকাতার ইট, কংক্রিটের খাঁচা থেকে পরিচালক প্রথমেই দর্শকদের নিয়ে যাবেন একটা সবুজে ঘেরা গ্রামে, যেখানে থাকে তিন খুদে দস্যি। আর তারপর গোটা ছবি জুড়ে ধীরে ধীরে সরলতার বুনোটে গল্প বুনে যাবেন তিনি। সেই গল্পের যোগ্য সঙ্গত জয় সরকারের আবহসংগীত এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিনেমাটোগ্রাফি।
সাধারণত গ্রামের গল্প দেখাতে হলে পরিচালকরা দারিদ্র্যকেই তুলে ধরেন। কিন্তু এই সিনেমার ক্ষেত্রে পরিচালক তা করেননি। হা-হুতাশ না করে দারিদ্র্যকে সাথে নিয়েই ছবির চরিত্ররা একে অপরকে ভালবাসায় আগলে, জীবনের ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্তের কোলাজ গাঁথে।

এবার আসি গল্পে। একটা দু’টো কেন, এক থালা দুধ পিঠে পেলেও মন ভরে না। আচ্ছা ভাবুন তো, দুধ পিঠের যদি গাছ হতো, আর টুপটাপ করে পেড়ে খাওয়া যেত!  দারুণ হতো, তাই না? গৌরও ঠিক এমন ভেবেই বাড়ির সামনের মাটিতে পিঠে পুঁতে তার যত্ন নেয়। আর স্বপ্ন দেখে কবে সেই গাছ বড় হবে এবং সে অনেক পিঠে পাবে। সে ঠাম্মির কাছে জানতে পারে, কাশীতে গেলেই সে পাবে দুধ পিঠের গাছ।
এরপর গৌরের কী হল, জানতে যেতে হবে সিনেমা হলে। বলে দিলে তো মজাটাই মাটি !

এই ছবির ইউএসপি অবশ্যই অভিনয়। গৌরের ভূমিকায় হার্শিল অনবদ্য। এই সময় দাঁড়িয়েও পাকামিবর্জিত সরল শিশু মুখগুলো খুঁজে আনার জন্যে পরিচালকের বাড়তি বাহবা প্রাপ্য।
গৌরের মায়ের আর ঠাম্মির চরিত্রে দামিনী বেনী এবং শিবানী মাইতির অভিনয়ও সাবলীল, প্রশংসার দাবি রাখে।
এছাড়াও এই প্রসঙ্গে গৌরের বাবার চরিত্রে অভিনয় করা কৌশিক রায়ের কথা বলতেই হয়। বেশিরভাগ সময়েই নন-ভার্বাল অ্যাক্টিংয়ের মাধ্যমে যেভাবে তিনি চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য।
হিরন মৈত্রের হাতে আঁকা পোস্টার এবং জয় সরকারের সুরে, অনির্বাণ মাইতির লেখায় লোপামুদ্রা মিত্রর গাওয়া প্রমোশনাল সংটি  ছবি দেখার আগেই দর্শকদের ভালবাসা আদায় করে নেয়।

‘দুধ পিঠের গাছ’-এর গল্প গৌরের স্বপ্নের কথা বলে। আর এই ছবি তৈরির গল্প বলে গোটা গ্রামের স্বপ্নের কথা। হ্যাঁ, পরিচালক আর ওঁর সহযোদ্ধারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটা গোটা গ্রাম এবং দেশবিদেশের বেশ কিছু মানুষ মিলে সেই স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেই এমন সুন্দর এক রূপকথার জন্ম হয়েছে, একথা বলা বাহুল্য। যা আট থেকে আশি সবার… সর্বোপরি সিনেমারও।

দুধ পিঠের গাছ: এক স্বপ্নপূরণের গল্প লিখলেন রুজানা


রুজানা

যোগাযোগ: ফেসবুক

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: