মহম্মদ সেলিমের সমর্থনে কী বললেন কাফিল খান (দেখুন ভিডিও)

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন: কাফিল খান কে মনে পড়ে? আগস্ট মাস, ২০১৭। গোরক্ষপুরের  বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে তখন তীব্র অক্সিজেন-সংকটে মারা যায় প্রায় ৬০টি শিশ। আর সেই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেই নিজের খরচায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে প্রায় ৩০ জন শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। যদিও উত্তরপ্রদেশ সরকারের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকেই। এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বামেদের সমর্থনে বারবার সওয়াল করতে দেখা যাচ্ছে কাফিলকে। এবার চণ্ডীপুরের সিপিএম মনোনীত প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের সমর্থনে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। (মহম্মদ সেলিমের সমর্থনে কী বললেন কাফিল খান)

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন-কে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের প্রার্থী করে নজর কেড়েছে বাম-ডান উভয় পক্ষই। হুগলীর চন্ডীতলা বিধানভা থেকে এবারে ভোটে লড়ছেন সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম-এর মনোনীত প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। তাঁরই সমর্থনে প্রচারে কাফিল খান। সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সঙ্গে থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

সেই ভিডিওতে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর অতীতের সম্পর্কের কথা বলার পাশাপাশি পলিটব্যুরোর সদস্যের উদারতা সম্পর্কে ভূয়সী প্রসংশা করেন কাফিল। তিনি বলেন,

আমার মনে আছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ, সেই সময় কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারা আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন না। আমি একদিন দেখা করতে চেয়ে একটা মেল করছিলাম মহম্মদ সেলিম-কে। আমার মনে আছে উনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমায় ডেকে নেন। খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন উনি।

 

অতীতের স্মৃতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,

সেলিমবাবু সেদিন খুব ধৈর্য নিয়ে আমার কথা শুনেছিল। আমার ভাইকে গুলি করা হয় উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশ সরকার আমায় চূড়ান্ত হেনস্থা করছিল। উনি এই বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করেন এবং পরবর্তীতে লোকসভা এবং রাজ্যসভা পর্যন্ত পৌঁছে দেন আমার বার্তা।

আরও পড়ুন: ঐশী-দীপ্সিতার জন্য ভিডিও বার্তা কাফিলের

এছাড়া সিএএ, এনআরসি নিয়ে কাফিলের নামে দেশদ্রোহীতার মামলা রুজু করা হয়েছিল। পরে অবশ্য আদালত তাঁকে মুক্তি দেয়। এবার পশ্চিমবঙ্গে সিএএ, এনআরসি লাগু হওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কথা তুলে মহম্মদ সেলিমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন,

সেলিম বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে হাজার চেষ্টা করেও এনআরসি, সিএএ লাগু করতে দেওয়া হবে না।

সেই মহম্মদ সেলিমকে সমর্থন করেই তিনি ভোটদাতাদের উদ্দেশ্যে আগামী ১০ তারিখের ভোটে মহম্মদ সেলিম-কে জয়ী করার বার্তা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঐশী-দীপ্সিতাদের হয়ে প্রচারে যেতেও অসুবিধা নেই

২০১৭ সালের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন কাফিল খান। কিন্তু তাঁকেই তড়িঘড়ি গোরক্ষপুরের বাবা রাঘবদাস মেডিকেল কলেজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় আদিত্য যোগী প্রশাসন। এছাড়া গোটা ঘটনায় তাঁকেই দায়ী করে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও তা ধোপে টেকেনি শেষ পর্যন্ত।

বরং সেই সময় থেকেই আমআদমির ‘নয়নের মণি’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। যদিও বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে (এএমইউ) CAA-এর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগেও তাঁকে গ্রেফতার করে যোগীরাজ্যের পুলিশ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁকে মুক্তি দেয়।

লিখেছেন সায়ন্তন মণ্ডল


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *