‘চুপ করে থেকো না’, গানে গানে প্রতিবাদ তিতাসের (দেখুন ভিডিও)

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন: ছোট থেকেই আমার দেশ বলতে প্রথমেই বোধহয় যে বিশেষণটি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে তা হল ‘শস্য শ্যামলা’। কিন্তু এই বিশেষণ প্রয়োগটি যথাযথ করতে পর্দার পেছনে রয়ে যায় যে কাঁদামাখা হাত-পা, রোদে পুড়ে যাওয়া মুখ, তাঁরাই তো চিত্রনাট্যের আসল কারিগর— কৃষক। সেই কৃষকদের আহ্বানকেই গানে বেঁধেছেন তিতাস চট্টোপাধ্যায়। সেই সুরেই তাঁকেই আবার বলতে শোনা গেছে, ‘চুপ করে থেকো না’।

সম্প্রতি এই কারিগরদের ওপর জারি ‘কৃষি বিল’ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তাই এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজের সর্বস্তরের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। জোয়ার এসেছে কৃষক আন্দোলনের।

এই কৃষিবিলের ববিরোধিতা করে কলম ধরেছেন সাহিত্যিক থেকে সুরকার, প্রত্যেকেই। সম্প্রতি তিতাস চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সেরকম একটি গান নেটিজেনদের মন কেড়েছে— ‘চুপ করে থেকো না/ নামি চলো পথে পথে/ জনপথ যেন মুখরিত হয় আমাদের প্রতিবাদে।’

সত্যিই তিতাসের গানের এই কথাই যেন আমাদের ভেতরের আমিকে ধাক্কা দিয়ে জানান দিচ্ছে লড়তে হবে। কারণ শিল্পী মনে করেন, ‘কৃষক আমি, কৃষক তুমি, কৃষক সর্বনাম’।

গানটি তৈরি হয় গতবছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ। এই সম্পর্কে গায়িকা জানিয়েছেন, ‘আমি গানটি লিখেছিলাম ডিসেম্বর মাসের ৩-৪ তারিখ নাগাদ এবং ৬-৭ তারিখ নাগাদ সেই গানের কথায় সুর দিয়ে ফেসবুকে আপলোড করি।’

অনেকেই অবশ্য গানটির সঙ্গে আকাশ চক্রবর্তীর খুবই জনপ্রিয় ‘চিৎকার কর মেয়ে’ গানের মিল খুঁজে পেয়েছেন। তবে সেটা একদমই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বলেই জানিয়েছেন তিতাস। তাঁর কথায়, ‘এই গানটি আমি পরে শুনেছি, আমার এক বন্ধু আমাকে ‘চিৎকার কর মেয়ে’ গানটির কথা জানায়। আমার গানটি শোনা ছিল না , তাই দু’টো গানের মধ্যে খানিকটা যে মিল পাওয়া গেছে তা একদমই আমার দিক থেকে না জেনেশুনে।’

তিনি আরও জানান, ‘একটা ব্যক্তিগত অনুভবের জায়গা থেকে গানটি লেখা। সমাজে যে কোনও অভ্যুত্থান তো কৃষক, শ্রমিক কিংবা মেহেনতি মানুষরাই আনেন, তাঁদের যে আন্দোলন, তা‌ আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাই সেই জায়গা থেকেই গানটি লিখেছিলাম।’

তিতাস চট্টোপাধ্যায়ের এই গানটি ইতিমধ্যেই শ্রোতামহলে সমাদৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন দলীয় সংগঠন তাদের ফেসবুক পেজ থেকেও কৃষক আন্দোলনকে সাধুবাদ জানিয়ে তাঁর এই গানটিকে শেয়ার করেছেন। এদিক থেকে বলা যায়, সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে শতরূপ ঘোষ, বহু বাম নেতাই তিতাসের এই গানের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।

সমাজের কথা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বিশিষ্ট মাধ্যম‌ শিল্প সাহিত্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেখানে সঙ্গীতের ভূমিকাও সেই সাবেক কাল থেকেই চলে আসছে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্পের প্রবণতাও যেন আকছার দেখা যাচ্ছে। তবে অনেকেই এক্ষেত্রে বাম সমর্থিত টুম্পা গানের প্যারোডি নিয়েই অভিযোগ তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে তিতাস সাফ জানিয়েছেন, ‘প্যারোডি আমাদের সংস্কৃতিতে বহুকাল আগে থেকেই ছিল, বরং আমরাই সেটা ভুলতে বসেছি। সমাজের সর্বস্তরে নিজেদের কথা পৌছনোর মাধ্যম হিসেবে দেখলে এই এই গানটিতে অশ্লীলতা আমি খুঁজে পাইনি।’

আমাদের সেই লাঙল হাতের কারিগররা দুধে ভাতে থাকুক এবং ‘সর্বনাশা বিলের পাশা এবার উল্টে যাক’— তিতাস চট্টোপাধ্যায়ের গানের মতো
সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কথাও যে আদতে, তা এই গানের জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে দিয়েছে।

‘চুপ করে থেকো না’, গানে গানে প্রতিবাদ তিতাসের লিখলেন সপ্তপর্ণী সেন।


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *