খোলা চিঠি: প্রিয় ‘ডকস্টার’

এখনই শেয়ার করুন

প্রিয় ডকস্টার,

তোর কাঁধে মাথা রাখি

যে মানুষগুলোর কাঁধে পরম শান্তিতে মাথা রাখা যায়, তার মধ্যে তুমি একজন। মোটামুটি ক্লাস ফাইভ কি সিক্স তখন, ডিডি বাংলার একটা কুইজ দেখার অনুমতি পেয়েছিলাম বাড়ি থেকে। কারণ টিভি দেখা বাড়িতে ঠিক পছন্দ করতেন না বড়রা। কিন্তু কুইজ দেখার অনুমতি ছিল। কুইজের থেকে আমি যেন কুইজ মাস্টারের প্রতি ভীষণ আগ্রহী ছিলাম। তার মতো কথা বলা, তার মতো প্রাণখোলা হাসি, তার মতো এত প্রাণবন্ত আমার আর কাউকে মনে হতো না। স্কুলের সরস্বতী পুজোয় যখন সিনিয়র দাদা-দিদিদের একসাথে ঘুরতে দেখতাম, আমার চোখে ভাসত সেই মানুষটা। স্বপ্ন দেখতাম আমারও যদি ওরকম একজন মানুষ থাকত পাশে…….. তখন তো অনেক ছোট। শিশুসুলভ অনুভূতিগুলোই সম্বল। একটু বড় হয়ে জানলাম, একেই নাকি ক্রাশ খাওয়া বলে। সিধুদা জানো, সেই মানুষটা তুমি।

সবরকম আপডেট পেতে লাইক করুন বিবিধ-র ফেসবুক পেজ

আরও পড়ুন: ভক্তের চোখে ‘বেস্ট অফ অঞ্জন দত্ত অ্যান্ড দ্য ব্যান্ড’

এরপর ধীরে ধীরে টিনএজে পদার্পণ, ক্যাকটাস ও চন্দ্রবিন্দুর গানগুলো যেন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠল। পুজোয় সবার দেওয়া টাকা জমিয়ে ক্যাসেট কিনতাম সব অ্যালবামগুলোর। গান না শুনলে অঙ্ক মিলতই না। প্রেমে পড়লাম একটি ছেলের, (তার মধ্যেও যে তোমায় খুঁজতাম)। প্রেমপত্র লিখলাম— ‘বঁধু রে’। সবটাই যেন ছেয়ে আছো। আর সেও ফিদা।

তোমায় সামনে থেকে দেখার সুযোগ হল অবশেষে। তখন ক্লাস এইট। স্কুলের সরস্বতী পুজোয়। আমাদের বিই কলেজ মডেল স্কুলের বিখ্যাত ইনস্টিটিউট হলে, তখন তুমি আর সায়কদা গাইতে। রেস্ট রুমে দেখা করতে গেছিলাম তোমার সাথে। আগেরদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কতবার যে কতকিছু বলা প্রাকটিস করেছি! কিন্তু তোমার সামনে যেতে সব গুলিয়ে গেল। শুধু একটা সাদা কাগজ সামনে এগিয়ে দিয়েছিলাম, তুমি সই করে লিখেছিলে, ‘love sidhu’। আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছিলাম সেদিন। তখন ছবি তোলার এত সুযোগ ছিল না। তাই মুহূর্তটা মনেই আঁকা আজও।

আরও পড়ুন: জয় সরকারের সুরে রূপঙ্কর-শুভমিতার নতুন গান ‘জলছবি’

আবার দু’বছর পর তোমায় দেখলাম পাড়ার ক্লাবের একটা অনুষ্ঠানে। হলুদ পাঞ্জাবিতে চিরপ্রেমিক তুমি। কয়েকটা দিদির সাথে ছবি তুলছিলে। কী যে রাগ হয়েছিল সেদিন, কি বলব!
এরপর আরও সময় গেল। স্কুল পেরিয়ে কলেজ। মা বলত, যেভাবে তোমাদের গানগুলো মুখস্থ করে মনে রাখি, সেভাবে পড়া মনে রাখলে নাকি আমি প্রতি পরীক্ষায় ফার্স্ট হতাম। কী আর করি, ফার্স্ট হওয়ার ইচ্ছে ছিল না আমার। অথবা ধরো এক একটা ইচ্ছে, এক একটা স্বপ্ন যেমন নাছোড়বান্দা হয়, ঠিক ততটাই আকর্ষণ তোমার প্রতি। তোমার গানের প্রতি। ছোটবেলায় ভূতের সিনেমা দেখে ভয় পায় কচিকাঁচারা। তবু চাদরের ফাঁক দিয়ে দেখতে ছাড়ে না। এক পলক দেখেই ফের চাদর মুড়ি দেয়। ঠিক সেরকম কোনও আকর্ষণ ডকস্টার।

আরও পড়ুন: ‘সান্তা ইমন’! রুদ্রনীলের কণ্ঠে বড়দিনের উপহার ‘প্রাণনাথ’

এরপর তোমার সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হল। ২০১৪ সাল। স্কুলেরই একটা শো-এর জন্য। তখন এই স্বপ্নের দুনিয়া ছেড়ে অনেকটাই বাস্তবে। বুঝলাম, শিল্পীসত্তার আড়ালে তোমার মধ্যে কী সুন্দর একটা মানুষ লুকিয়ে আছে।

জানো, সেই শো-এর দিন আমার প্রথম অফিস জয়েনিং-এর অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও ইগনোর করেছিলাম। তোমার জন্য কি? বোধহয় না। নিজের ওই নাছোড়বান্দা ইচ্ছে, স্বপ্নের জন্য। তুমি শুধু কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলে। কী অদ্ভুত জানো! সেই অফিস থেকে পরের দিন ফের ফোন এসেছিল জয়েন করার জন্য। আজও সেই অফিস আছে। আর তুমিও।




আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বরের শহরে’ ভিনগ্রহী প্রাণী করবে স্মাগলিং! দাবি সৌরভের

সেই শুরু….। বিভিন্ন জায়গায় এরপর শো দেখতে ছুটে যেতাম। স্টেজের পাশে দাঁড়িয়ে উন্মাদনা দেখতাম তোমার আর সামনের হলভর্তি দর্শকের। মনে পড়ে, একবার তো জানুয়ারি মাসের এক সকালে ছুটে গেছিলাম কলকাতা ময়দানে শো দেখতে। ধীরে ধীরে তোমার সাথে পরিচয় হল। কথা হতো মাঝে মধ্যে ফোনে। মনে আছে, আমার যোগার একটা ভিডিও দেখে তুমি একবার বলেছিলে ‘জাস্ট ছিটকে গেলাম’। সেদিন মনে হয়েছিল, এভাবে কেউ কখনও ভাল বলেনি। সব পুরস্কারের চেয়ে বড় মনে হয়েছিল তোমার ওওই কমপ্লিমেন্টটা।

আরও পড়ুন: মুক্তি পেল ‘রাতবিরেতে’, একগুচ্ছ চমক আনছে তমালের ‘অসুখ’

এরপর আলাপ বাড়ল একটু একটু করে। তুমি কেমন শিল্পী সেটা বিচার করার ধৃষ্টতা আমার নেই। তুমি এ কত বড়ো একজন মানুষ, তার প্রমাণ আমরা প্রতি মুহূর্তে পাই। তোমার কাছে একদিন চূড়ান্ত বকা খেয়েছিলাম। মনে আছে কেঁদেছিলাম খুব। তুমিই আবার ভুলিয়েছো। যেদিন যা সাহায্য চেয়েছি, তুমি ফেরাওনি কখনও। তোমার কাছে অনেকটা বাধ্য ছাত্রীর মতো। তোমার সামনে গাণ্ডেপিণ্ডে গেলা যায়, আবার ‘তুমি মোটা হয়ে যাচ্ছ’ বলে তোমায় শাসনও করা যায়। তোমার মতো এত বড় মাপের সেলিব্রিটি হয়েও যে আমাদের মতো ভক্তদের কত কাছে টেনে নেওয়া যায়, সেটা তুমিই শিখিয়েছ। লোকে তোমার হাজার খারাপ করলেও তুমি তাদের সাথে কোনোদিন খারাপ কিছু করার কথা ভাবতেও পারো না। উল্টে তোমায় যখন বলি নিজের ভালটা বুঝতে, হেসে উড়িয়ে দাও। হ্যাঁ, এটাই তুমি। সেইজন্যই আজও তোমার পা মাটিতে। সেইজন্যই আজও তুমি হাজার হাজার মানুষের হৃদয়ে রয়েছ।




আরও পড়ুন: ‘মাস্টার আজও হবুই আছে, দরজায় সরকার’, গানে গানে রাজনৈতিক বিদ্রুপ সৌমিকের (ভিডিও)

আজ তোমার জন্মদিন, আরও একবছর বয়েস কমে গেল তোমার। এভাবেই তোমায় প্রিয় খিচুড়ি আর রসমালাই খাইয়ে যেতে চাই আরও অনেকগুলো বছর। আমাদের মাথার ওপর থেকো, আমাদের ভালবেসো এভাবেই। তোমায় সামনে রেখেই আমরা ইছামতী পাড়ি দেব।

এক সমুদ্র ভালোবাসা পাঠালাম, সাথে একগাছ ভর্তি শুভ কামনা। খুব ভাল থেকো সিধুদা।

খোলা চিঠি: প্রিয় ‘ডকস্টার’ লিখলেন রাখি চট্টোপাধ্যায়


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *