ব্লগ: নাটকের মতো— অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায়

এখনই শেয়ার করুন

বিবিধ ডট ইন-এর ব্লগ বিভাগে ‘নাটকের মতো‘ লিখলেন অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ব্লগ: নাটকের মতো— অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায়)

এক

— যাক, তাহলে আজকের প্ল্যান রেডি। ঠিক রাত বারোটা , আশাবরী আপ্যার্টমেন্টের সামনে চলে আসবি। আর শোন লকু, আগেরদিনের মতো যদি ডুবিয়েছিস, তো তোর রক্তের ঠিকানাও পাবে না বাড়ির লোক বলে দিলাম। যা ভাগ!

— হারামখোরগুলো বিদায় নিল। এই বার একটু কেসটা ঝালিয়ে নিই। বড় দাঁও আছে, জয় কালী, মা গো রক্ষে করো মা।

আরও পড়ুন: ঢাকায় পৌঁছে নজরুল হয়ে গেলেন ‘স্বামীজি’, নাম রামানন্দ

দুই

— এই শালা! শালা বুড়ো, যা আছে দে, দে বলছি শালা…
— আমায়… আমায় ছেড়ে দাও বাবারা, কিচ্ছু নেই আমার কাছে বাবা।
— এই চুপ! কিছু নেই, না? দেখেছিস ছুরিটা, এফোঁড়- ওফোঁড় করে দেব একদম। আর তোর ওই পঙ্গু বৌটা পচে মরবে। বল, কোথায় কী আছে!
— তোমাদের পায়ে পড়ি বাবা। মাসে মাসে ছেলে কয়েকটা টাকা পাঠায়। এর বাইরে কিছু নেই। ছেড়ে দাও আমাএয়। গলায় খুব লাগছে বাবা।
— এই বঙ্কু, লকু, হারা, দেখ তো ঘর খুঁজে, বুড়োটা ঠিক বলছে কিনা ততক্ষন। আমি একে দেখছি, যাবে কোথায়!

— বদ্দা মালটা ঠিকই বলচে , কিসুই নেই। ( এই বলে বুড়োর মাথাটা সজোরে ঠুকে দেয় বঙ্কু ) যা শালা! ঘাটের মড়া। তোদের নিয়ে কী করব?
— শোন এদের বাঁচানো যাবে না। এক কাজ কর… মুখ বাঁধ, বুড়িটা তো বোবা। ওকে এমনিই সরিয়ে দে। আর বুড়োটাকে বাঁধ, ছুরি দিয়ে কোমরের কাছে আর পেটে… মোট তিনবার দিবি। লাশের ব্যবস্থা আমি করচি।

আরও পড়ুন: ৭-১ গোলে জয় মোহনবাগানের, আনন্দে নজরুল যা করেছিলেন

তিন

— কী হয়েছে রে? কে এসেছিল? কেসটা কি ?

— বদ্দা, একটা কেস এসচে। মোটা মাল দেবে। লোকটার বউটাকে উড়িয়ে দিতে হবে।
— অ্যাঁ! সে কী রে? না না। আমরা ডাকাত, খুনি নই।

— কী যে বলো বদ্দা। এইতো চুরি কত্তে গিয়েই কতবার…! এটা বড় কেস।

— চুরি? আমরা চোর? আমরা ডাকাত রে হারামি।
— না না, দূর হয়ে যা! আমি খুনি নই, খুনি নই। টাকার বিনিময়ে খুন আমি করব না। বাবা বলত, ‘বাবু বড় মানুষ হোস। মানুষের পাশে দাঁড়াস।’ আর আমি !

আরও পড়ুন: হারমোনিয়াম থেকে কেশ তেলের বিজ্ঞাপন, অন্য ভূমিকায় নজরুল

চার

— সাল ২০০০। অভিরূপ সান্যাল, গ্রাজুয়েট। সাল ২০০৫। মা চলে গেল। বাবার চাকরি নেই। অভিরূপ বেকার। প্রেম, হ্যাঁ, প্রেম। বসু… পুরো নামটা যেন কী ছিল! হ্যাঁ, বসুন্ধরা বসুন্ধরা। আমার বসুন্ধরা। … ছেড়ে চলে গেল। আমার বুকের কাছে যেন এখনও ওর গন্ধটুকু পাই। ছেড়ে চলে গেল। আর নিষ্কর্মা আমি পরে রইলাম নর্দমার অন্ধকারে। বিবসনাদের গহনে। না না , এসব কী বলছি আমি! এসব তো সাহিত্যের ভাষা। হ্যাঁ, সাহিত্য। সাহিত্যের ছাত্র অভি। ইস! গায়ে এত রক্ত লেগে কেন? কাদের এগুলো? না, ডাকাত অভি।

মা, মাগো শুনছ? তুমি চলে যাবার পর তোমার ছেলে চোর হল। এখন সে অন্ধকার দুনিয়ায়। নামকরা ডাকাত। হ্যাঁ মা… না, আমি খুনি নই। খুনি নই আমি। খু… খুন করিনি। হ্যাঁ, মানে করেছি। কিন্তু মা, সে তো বাঁচার জন্য বলো! তুমিই তো বলতে, ‘বাঁচার জন্য অনেক লড়াই করতে হয় বাবু।’ লড়েছি মা। খুব লড়েছি। না, কিন্তু টাকা নিয়ে জীবন নেব না আমি। না…  না… না।

আরও পড়ুন: চুরি করতে ঢুকে ঘরের অবস্থা দেখে শিবরামকে চিঠি লিখেছিল এক চোর

পাঁচ

— বলি বদ্দা সুনচ! ভাবলে কিচু? দেখো কেসটা কিন্তু নেবই। লাখের মামলা। তুমি বেঁকে বসলে তোমাকে সরাব। ভাবো!
— যা এখন, খুন হবে। একটু পরে আয়। প্ল্যান বলছি। যা, এখন যা।

… হ্যাঁ, খুন হবে। গ্রাজুয়েট অভিরূপ খুন করবে ‘বড়দাকে’। স্কিপিং রোপটা কোথায় যেন! হ্যাঁ, ওই তো… ওই তো।
মা তোমার ছেলে খুনি নয় মা… মা, তুমি আমায় ক্ষমা করবে না মা? বাবাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম মা। চলে গেল। বসু চলে গেল। মা তুমিও তো… আমি খুনি নই মা, খুনি নই…

টুল ছিটকে যাবার শব্দ। সেই শব্দে ছুটে এল বাইরে থাকা ছেলের দল।

আরও পড়ুন: ‘তপনকে রাখিস, ও অনেককিছু দেবে ইন্ডাস্ট্রিকে,’ শুটিংয়ে বলেছিলেন ঋতুদা

পর্দা পড়ল। জীবনের না নাটকের, তা লেখক জানে না।

আর্কাইভ: প্রেরণা   ক্লিনিক   ব্লগ   বিজ্ঞান   লাইফস্টাইল   খেলা   ভ্রমণ   অ্যাঁ!   এন-কাউন্টার

আপডেট থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

ব্লগ: নাটকের মতো লিখলেন অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্লগ: নাটকের মতো— অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবিধ ডট ইন

অঙ্কনা বন্দ্যোপাধ্যায়

যোগাযোগ: ankanabanerjee13@gmail.com


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *