‘ভাষণে বলা শব্দ পরপর বসিয়ে গান; পাল্টা নয়,’ ব্যুমেরাং বাবুল-রুদ্রর গান

এখনই শেয়ার করুন

শ্রী দে. দা.: কেউ বানান নিয়ে বলছেন। তো কেউ আবার বলছেন ‘ওরা নাকি গানের মতো’ কী একটা প্রকাশ করেছে! কেউ তো আবার বলছেন, ‘দলীয় সভায় যে ভাষণ দেয় সেগুলো জুড়লেই গান হয় না।’ সব মিলিয়ে শেষপর্যন্ত কি ব্যুমেরাং হয়ে গেল বাবুল সুপ্রিয়, রুদ্রনীলদের গান?

সঙ্গে থাকুন। ফলো করুন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ:

অনির্বাণ-ঋদ্ধির ‘আমি এই দেশেতে থাকব’ গানটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বুধবার বিজেপি-র তরফে বাবুল সুপ্রিয়, রুদ্রনীলের যে পাল্টা গানটি প্রকাশিত হয়েছে, তা কিছুটা হলেও ‘আমি এই দেশেতে থাকব’ গানটি জল্পনা উস্কে দিয়েছে। আসলে নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, ‘পাল্টা’ নয়, বরং ব্যুমেরাং হয়ে সেই ‘অস্ত্র’ বাবুল-রুদ্রের দিকেই ধেয়েছে। শুধু তাই নয়, একই সুর শোনা গেছে শিল্পীদের একাংশের বক্তব্যেও।

গানের পাল্টা গান। শিল্পের পাল্টা শিল্প। একদল প্রশ্ন করছেন। আর একদল উত্তর দিচ্ছেন। অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেনের ‘আমি এই দেশেতে থাকব’তে যখন ‘তুমি পুরাণকে বলো ইতিহাস, ইতিহাসকে বলো পুরনো’ বলা হয়েছে তখন বিজেপি-র তরফে বাবুল সুপ্রিয়, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা ভট্টাচার্যরা গানে গানে বলছেন, ‘বড় যত্ন করে মিথ্যে বলে বিকৃত করো ইতিহাস/ বৃথা স্বপ্ন দেখো বাঙালি আবার পড়বে তোমার সিলেবাস!’ কথা ও কথার লড়াইয়ে কে কত পাবেন, এই প্রশ্ন যখন উঠছে, তখন দর্শকদের দিক থেকেই শোনা গেল— ‘প্রথম ওভারেই বোলারের করা বাউন্সার আটকাতে গেলে তুখোড় ব্যাটসম্যান হতে হয়।’ কেউ একই সুরে বললেন, ‘সবাই বীরেন্দ্র সেহবাগ হয় না।’ তাহলে কি লিরিকেই পিছিয়ে পড়লেন রুদ্র-বাবুলরা?

এই প্রসঙ্গেই চলচ্চিত্র সম্পাদক অনির্বাণ মাইতি বলেন, ‘ছন্দের কোনও মা বাবা নেই, যা যা একটা বক্তৃতায় বলে সেটাকে পরপর বসিয়ে সুর দিয়ে দিয়েছে।’ তাহলে কি পাল্টা দিতে হবেই বলে দেওয়া?

এই বিষয়ে অনির্বাণবাবু আরও বলেন, ‘বিজেপির গান নিয়ে মতামত দেবার আলাদা করে কোনও কারণ নেই। গানের একটা স্বাভাবিক ছন্দ আছে, একটা তাল আছে৷ কবিতা লেখা সহজ। কিন্তু গান লেখা সহজ নয়। তার একটা স্ট্রাকচার থাকে। তার একটা ফর্মেশন দরকার হয়। এখানে কারও সঙ্গে কেউ পাল্লা দিতে চাইলে মুশকিল। তুমি যে রাজনীতি বোঝো, যে রাজনীতির অংশ, সেটা করো। বাকিদেরটা বাকিদের করতে দাও। যদি সমসময় অন্যদের সাথে পাল্লা দিতে চাও তাহলে তো হাসির খোরাক হবেই এবং তা-ই হচ্ছে৷ ‘

বিজেপি-র গানটি নিয়ে বিবিধ ডট ইন-কে মতামত জানিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী আকাশ চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে বিজেপি-র সমস্তকিছুর উপরেই আমার অনীহা আছে। এমন একটা দল, যার নাম শুনলেই আপাদমস্তক জ্বলে যায়। দ্বিতীয়ত এটা গান হিসেবেও প্রচন্ড খারাপ। এর আগে বিজেপি যাতে যাতে হাত দিয়েছে তার অধিকাংশটাই খারাপ হয়েছে৷ লকডাউনের সময় ওরা গরুর দুধে সোনা খুঁজে পেয়েছিল৷ ওরা থালা বাজিয়ে করোনা তাড়াবে বলেছিল। অর্থনীতিতে হাত দিয়েছে জিডিপি গোল্লায় গেছে। সেখান থেকে এখন গানে হাত দিয়েছে তো এই গান খারাপ হবেই, এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।’

গানটি নিয়ে যখন একই বক্তব্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছেন একাধিক শিল্পীরা, ঠিক সেই সময়ে ভিডিয়োতে দেখানো বাংলা বানান নিয়েও সরব হয়েছেন অনেকে। ‘শ্রেণি’ বানানে ‘শ্রেণী’, ‘সংগ্রাম’ বানানে ‘সংগ্যাম’, ‘ছোট্ট’ বানানে ‘ছোট্য’ ইত্যাদি আরও বানানভুলের কথা বলেছেনে নেটিজেনদের একাংশ। ভিডিওর স্ক্রিনশট নিয়ে ইতিমধ্যে জল্পনাও শুরু হয়েছে।

এই বিষয়ে অনির্বাণ মাইতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বানান ভুল বিজেপি-র রাজনীতির একটা অংশ৷ এটা ওরা খুব পরিকল্পনামাফিক করছে। যে বাংলা ভাষা নিয়ে বাঙালির এত অহমিকাবোধ, সেই বাংলা ভাষাকেই ভুলিয়ে দিতে চাইছে ওরা। কাউকে বানান ভুল শুধরে দিতে যাও, পাশ থেকে একজন লিখবে আপনি মানেটা বুঝতে পারছেন তো, ফালতু বানানের দিকে ফোকাস কেন ঘোরাচ্ছেন? এরাই আসলে বাঙালির অহমিকা ধ্বংস করতে চায়। আর গানে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো বাংলার কোনো উপভাষাও নয়। এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

বানান ভুল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আকাশ চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘বানান ভুল তো হবারই ছিল। কারণ একটা মানুষের বিজেপি হতে গেলে যেটা দরকার, সেটা হল যথেষ্ট পরিমাণ অশিক্ষা। অশিক্ষিত না হলে কেউ বিজেপি-কে সাপোর্ট করতে পারে না। সেখান থেকে যেটা মনে হচ্ছে, ওরা অশিক্ষাকে প্রোমোট করে। ইতিহাসের অপব্যাখ্যা করছে ওরা। গানে পূর্ণিমা বলে একজনের ধর্ষণের কথা বলা হচ্ছে। যেকোনও ধর্ষণই নিন্দনীয়। কিন্তু তুমি যদি খোঁজ নিয়ে দেখো, দেখবে ওই ধর্ষণের ঘটনাটি বাংলাদেশ হয়েছে। অর্থাৎ সেটা নিয়েও মিথ্যাচার করছে ওরা। যাদের মডেল উত্তরপ্রদেশ, সেখানেই ঘটা হাসরথের ঘটনা এখনও ভুলিনি আমরা। যাদের নেতারা প্রকাশ্য টিভি চ্যানেলে মহিলাদের অপমান করেন, তাঁরাই এসব বলছেন!’

মোদ্দা প্রশ্ন একটাই, অনির্বাণ-ঋদ্ধি-ঋতব্রতদের গানের বিপরীতে কি তাহলে ধোপেও টিকল না বাবুল-রুদ্রের গান? অবশ্য সমাধানের কথা অনির্বাণ মাইতিই বলেছেন, ‘ভাল কবি না থাকলে আমাদের মধ্যেই অনেকে আছে, যারা পয়সার বিনিময়ে ভাল লিখে দেবে।’


এখনই শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *