রিভিউ: ভক্তের চোখে ‘পূজাবার্ষিকী রূপম’— অর্ণব রায়

রিভিউ সিরিজ ‘ভক্তের চোখে’: ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হল রূপম ইসলামের মেগাএকক— পূজাবার্ষিকী। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই ভক্তের চোখে ‘পূজাবার্ষিকী রূপম’ লিখলেন বন্ধু অর্ণব রায়

মার্চ, ২০২০-র শেষের দিক থেকে স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে প্রায়। আশা রাখি টালমাটাল পরিস্থিতি আবার ছন্দে ফিরবেই। এই আবদ্ধ জীবনের সময়কালে শ্রাবণের ধারার মতো শুরু হল রূপম ইসলাম একক। সম্পূর্ণ অন্য ধারায়… অনলাইন… মাধ্যম ফেসবুক। যদি নতুন ধরনের বাংলা গানের এই সময়ের ডিজিটালি বিপ্লবের প্রথম সূচনাকারী বলা হয় সেই ইতিহাসের পাতায়, তিনি হচ্ছেন কবিবন্ধু, সতীর্থ, অ্যাভাঁগার্দ কমরেড রূপম ইসলাম।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ ছিল রূপম ইসলাম পূজা বার্ষিকী কিংবা রূপম ইসলাম মেগা এককের দিন। আগেও হয়েছি, এবার আরও বেশি আকর্ষিত হচ্ছি বিভিন্ন বয়সের মানুষের সর্বোপরি আজকের নবীনদের অভিব্যক্তি তাঁদের লেখনীতে। বড় ভাল লাগছে আমার দেখা ১৯৯২ সালের সেই মানুষটি, সেই হরিদাস বলিষ্ঠ থেকে বলিষ্ঠতম হয়ে উঠেছেন আরও। কত উন্মাদনা তাঁকে ঘিরে, কত স্বপ্ন!

আমার এই পূজাবার্ষিকী বা মেগাএকক নিয়ে একই রকম লিখতে ইচ্ছে করছে না। আজ অন্য কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। তাই চিরাচরিত প্রথায় না গিয়ে শুরু করি….

ডিজিট্যাল এককের কথাতেই আসি, ১৪০০ টিকিট কী করে শেষ হয়ে যায়! কেন? প্রায় সাড়ে ৩-৪ ঘণ্টা কী করে শ্রোতারা বসে থাকেন? কেন এত সমালোচনার ঝড় বয়, বিষাক্ত বার্তালাপ আছড়ে পড়ে ফেসবুকের দেওয়ালে? তারপর আজকের নবীনরা কেন প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন, গর্জে ওঠেন সাংগীতিক কলরবে? কেন আলোড়ন ওঠে নবীন থেকে প্রবীণদের অন্তরাত্মায়? কীসের আকর্ষণে? তিনি চিরাচরিত, যা ধর্ম বলে ধর্মান্ধরা বোঝেন, তা মানেন না। আমিও। ধর্ম কী? যিশু থেকে মহম্মদ, কৃষ্ণ থেকে বুদ্ধ …. প্রকৃত ধর্মের নীতি কী? যুক্তির বীজ প্রতিনিয়ত রোপণ করে চলেছেন এবং তা আজ বিকশিত হচ্ছে বারংবার। আসল বিষয় হচ্ছে আবেগ, আবেশ, যা ধরে রেখেছেন, আরও চয়ন করে যাচ্ছেন এখনও প্রেম দিয়ে পরম আগ্রহে। সাথে সাথে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁর কলমের কালির তলোয়ারে। শুধু ভাল লেখক, সুরকার বা সুরেলা গলা হলেই হয় না; আবেগের চাহিদা থাকতে হয়, লালন পালন করতে হয় মনের জঠরে। তিনি তা করে চলেছেন। আর তার সাথে সাথে পরম যত্নে ভাগ করে নিচ্ছেন দিচ্ছেন সবার মধ্যে। এই জন্য রূপম একক আজ ডিজিট্যাল চিন্তায় সার্থক। কিছু অর্থের বিনিময়ে বারবার আমরা প্রবেশ করছি তাঁর সুরেলা একলা ঘরে। প্রবেশ করার পর কখনওই মনে হয়নি সেটা একলা ঘর। সেই ঘর সব্বার। নিখুঁত ছবি-ভিডিও, সাউন্ড-আলো কোয়ালিটি এবং টেকনিক্যাল সমস্ত কিছুর ছোঁয়া অনবদ্য। সেখানেও জুড়ে আছে সেই আবেগ আর আবেশ। সেই প্রথম দেখা রূপম আর আজকের রূপমের মধ্যে আজও এতটুকুও মরচে পড়েনি। কেন? ওটাই হচ্ছে পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়। পেশাদারিত্ব নিশ্চয় আছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি আছে অনুরাগের ছোঁয়া, অনুভূতির ছোঁয়া। সেটাই তো মূল কথা বলে, তাই না? সেই জন্যই তো বারবার ফিরে আসে রূপম একক। দরজার ওপাশ থেকে বারবার প্রশ্ন জাগায় বোধকে।

সর্বোপরি আর একজনের নাম না বললে অপরাধ হবে। তাঁকে সহযোদ্ধাই বলব আমি। তিনি রূপসা। কী যত্নে , কী মোলায়েমভাবে জাদুর ঝাপ্পি দিয়ে পর্দার অন্তরালে সবটুকু করে চলেছেন মিষ্টি হাসি মুখে।

শেষে একটা কথা বলব, একদিন চরম ঝাল কিছু খেয়ে দেখুন। গলা দিয়ে যখন জ্বলতে জ্বলতে নামবে…। কিন্তু তারপর? মিষ্টি-ই মিষ্টি। এই মানুষটাই তা-ই। … রূপম একক-ই এটা……
আবেগ আসুক
আবেশ আসুক
ভাবের সাগরে যেন ভাবরসের অভাব না হয় কারোর।
হরিদাসের ডানার সেই তারা আজ জ্বলছে আর আমিও জ্বলছি হরিদাস তোমার সাথে ভুবন ডাঙার মাঠে।

প্রতিবেদনটি লিখলেন বন্ধু অর্ণব রায়

 

ছবি: অর্ণব রায়

হ্যালো! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান

%d bloggers like this: